প্রিয়ার অপ্রিয় সত্য কথনে বাংলাদেশ ক্ষেপেছে?

শিতাংশু গুহ, ২২ জুলাই ২০১৯, নিউইয়র্ক।। ‘প্রিয়া প্রিয়া প্রিয়া বলে কে ডাকে আমাকে’ এ গান এখন বাংলাদেশে সবাই কোরাস গাইছেন। গত ক’দিনে ‘প্রিয়া’ নাম লক্ষ লক্ষ বার উচ্চারিত হয়েছে। এখনো হচ্ছে। প্রিয়া মানে প্রিয়া সাহা, তিনি একবারে হাঁটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন। ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র’ (!) বাংলাদেশে একজন মাত্র হিন্দু রমণী বেজায় অশান্তি সৃষ্টি করেছেন। এজন্যে প্রিয়ার বিরুদ্ধে মন্ত্রী-নেতা-মোল্লা, সাধারণ নাগরিক সবাই কথা বলছেন। সামাজিক মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মন্তব্য হচ্ছে। বাদ যাচ্ছেনা হিন্দু এবং হিন্দুধর্ম? ‘যত  দোষ নন্দ ঘোষ’ প্রিয়া সাহা’র। এসব মন্তব্যে প্রিয়া সাহাকে সকল ধরণের বিশেষণ এবং হিন্দুসের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করা হচ্ছে! এদের আচরণ বলে দেয়, বাংলাদেশে প্রিয়া সাহারা চমৎকার সুখে-শান্তিতে আছেন?  

কবি নির্মলেন্দু গুন্ লিখেছেন, “রাইতভর ঘুমাইতে পারিনা, ওরা আবার কহন আহে, যশোর মালোপাড়া, অভয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর, কক্সবাজারের রামু—-”। আসলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা লিখতে গেলে একটি মহাভারত হয়ে যাবে। প্রিয়া সাহা সেই মহাভারতের দু’তিনটি বাক্য মাত্র ৪৩ সেকেন্ডে বলে ফেলেছিলেন, তাতেই সব অশান্তি। তবে তিনি যা বলেছেন, তা বাংলাদেশের দুই কোটি হিন্দু’র মনের কথা। তাকে ধন্যবাদ জানাতে হয় সাহস নিয়ে কথা বলার  জন্যে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই তিনি প্রিয়া সাহা’র কথা শুনেছেন বলে। প্রিয়া সাহা আসলে কি বলেছিলেন? 

প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ হারিয়ে গেছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের বাংলাদেশে থাকার জন্য সাহায্য করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। এসময় ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে? কারা বাড়ি দখল করেছে? জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রূপ এগুলো করছে। তারা সব সময় রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় পায়। সব সময়।” 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে প্রিয়া সাহার কথপোকথন মাত্র ৪৩ সেকেণ্ড। প্রেসিডেন্ট হাত বাড়িয়ে তার সাথে হ্যান্ডশেক করেন। এ এক অনন্য সন্মান। বাংলাদেশের কোন বেসরকারি নাগরিক এভাবে ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলার সুযোগ পাননি। সৌভাগ্যের বরপুত্রী (?) প্রিয়া সাহা। হোয়াইট হাউসে ১৭টি দেশের ধর্মীয় নিপীড়ণের শিকার ২৭জন মানুষের সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বৈঠক করেন ১৭জুলাই ২০১৯। প্রিয়া সাহা সেখানে কথা বলার সুযোগ পান। একদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হলের ছাত্রী প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি এবং এরআগে তিনি মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁদের বাপের বাড়ি পিরোজপুর জেলার চরবানিয়ার মাটিভাঙ্গা নাজিরপুর। সেই বাড়ী পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এ বছর ২রা মার্চ। ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, তারা এনিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। কিন্তু বিচার হয়নি। ২২জুলাই খবরে জানা যায়, ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহা সাময়িক বহিস্কৃত হয়েছেন। ঐক্য পরিষদে ‘ক্যু’ হয়েছে? গা বাঁচাতে হিন্দুরা এখন প্রিয়া সাহার বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। গুজব উঠেছে, হিন্দুরা কেউ কেউ গ্রেফতার আতঙ্কে আছেন?   

প্রিয়া সাহা ৩কোটি ৭০ লক্ষ সংখ্যালঘু হারিয়ে যাবার কথা বলেছেন, যা সত্য, সংখ্যাটি কারো কারো মতে একটু বেশি, কারো কারো মতে একটু কম? প্রিয়া সাহা দলিত কণ্ঠ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক। তাঁর এনজিও ‘শাড়ী’ মূলত দলিত ও সংখ্যালঘুদের নিয়ে কাজ করে। তিনি যে সংখ্যাটি দিয়েছেন, তা হিসাব করেই দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর এনজিও’র গবেষণা আছে। এ বিষয়ে তিনি একটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, প্রফেসর আবুল বারাকাতের সাথে গবেষণার ফসল এই সংখ্যা। যদিও আবুল বারকাত এখন বলেছেন, প্রিয়া তার সাথে কাজ করেননি? আসলে সবাই এখন প্রিয়া সাহার কাছ থেকে দুরুত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা করছেন! 

নিউইয়র্ক সুনি ওল্ড ওয়েস্টবেরি ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশ প্রফেসর ডঃ সব্যসাচী ঘোষ দস্তিদার তার ২০০৮ সালে প্রকাশিত ‘এম্পিয়ার্স লাষ্ট কজুয়াল্টি: ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট ভ্যানিশিং হিন্দু এন্ড আদার  মাইনোরিটিজ’ বইয়ে ১৯৪১ থেকে উপমহাদেশের জনসংখ্যা পরিসংখ্যান ঘেঁটে হিসাব কষে দেখিয়েছেন যে, সাবেক পূর্ব-পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে ৪৯ মিলিয়ন হিন্দু হারিয়ে গেছে। তার এই বইয়ের উদৃতি দিয়ে ইলিনয়েসের তৎকালীন কংগ্রেসম্যান রবার্ট ডোল্ড ২৯জুলাই ২০১১ সালে ওয়াসিংটন ডিসিতে এক হিয়ারিং-যে বলেন যে, ১৯৪৭ সাল হতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৪৯ মিলিয়ন হিন্দু হারিয়ে গেছে। আমি সেই হিয়ারিং এ উপস্থিত ছিলাম। 

ঢাকা ভার্সিটির অধ্যাপক আবুল বারাকাত পরিষ্কার বলেছেন, ২০৩০ সালের পর বাংলাদেশে হিন্দু থাকবে না। তারমতে এখনো প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে ৬৩০জন হিন্দু চলে যাচ্ছে। গা বাঁচাতে এখন তিনিও পিছুটান দিচ্ছেন। গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ইমরান এইচ সরকার ২১জুলাই ২০১৯ সামাজিক মাধ্যমে একটি হিসাব দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৩০%’র বেশি ছিলেন হিন্দু। ২০১৯-এ তা ৮%। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদশের জনসংখ্যা ১৭০মিলিয়ন। তাহলে ৩০% হিসাবে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা থাকার কথা ছিলো ৫কোটি ১০লক্ষ্ । কিন্তু ৮% হিসাবে এখন হিন্দু আছেন ১কোটি ৩৬লক্ষ। ৫কোটি ১০লক্ষ মাইনাস ১কোটি ৩৬লক্ষ, অর্থাৎ ৩কোটি ৭৪লক্ষ  মিসিং বা আনুমানিক ৩৭মিলিয়ন! 

আরো একটি হিসাব আছে। গেজেট আকারে প্রকাশিত শত্রূ বা অর্পিত সম্পত্তির “ক” ও “খ” তালিকা হিন্দু মিসিং এর কথা বলছে। হিন্দু নাই বলেই তো শত্রূ সম্পত্তি? বর্তমানে বিশাল শত্রূ সম্পত্তির পরিমাণের সাথে মিসিং হিন্দু’র একটি সংখ্যা পাওয়া যায় বইকি? সেই সংখ্যাটি কত? দৈনিক যুগশঙ্খ ২৩ জুলাই ব্যানার হেডিং করেছে, ৩কোটি ৭০লক্ষ সংখ্যালঘু ভারতে আছেন? পত্রিকাটি কলকাতা, শিলচর, গুয়াহাটি থেকে একযোগে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিসংখ্যান বলছে, ১৯০১ সালে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে মুসলিম জনসংখ্যা ছিলো ১ কোটি ৯১ লক্ষ ১৩ হাজার। হিন্দু ছিলো ৯৫লক্ষ ৪৫ হাজার। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক। ২০১১ সালে বাংলাদেশে মুসলিম জনসংখ্যা ছিলো ১১কোটি ১০লক্ষ ৭৯হাজার। হিন্দু ১কোটি ১৩লক্ষলক্ষ ৭৯ হাজার, কিন্তু সব হিন্ধু থাকলে এটি হওয়া উচিত ছিলো ৫কোটি। বাকি হিন্দু কই? ৪ কোটি মিসিং? 

প্রিয়া সাহা তার বক্তব্যে দেশে থাকার যে ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন তা প্রতিটি সংখ্যালঘুর মনের কথা এবং এটি অনন্য দেশপ্রেম। অথচ প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে পুরো দেশ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, প্রিয়া সাহা নালিশ করেছেন। ‘নালিশ’ তো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। অতীতে সব নেতানেত্রী এসে ওয়াশিংটনে নালিশ করেছেন। দিল্লিতে গিয়ে নালিশ করেছেন। এখনো করেন। তবে প্রিয়া সাহা একেবারে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে গেছেন? এটি অসহ্য। প্রিয়া যা বলেছেনা, তা সত্য। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সমস্যা হিমালয়পর্বতসম, সময় এসেছে এই সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হওয়ার। দোষী প্রিয়া সাহা নন দোষী জোটবদ্ধ প্রতিবাদকারীরা। প্রিয়া সাহা ইস্যুতে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী পরিষ্কার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। প্রিয়া সাহা ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছেন উপর তলার নেতারা বা তথাকথিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা। 

একশ্রেণীর মিডিয়া মূলত: তথ্যনির্ভর রিপোর্টিং’র বদলে প্রিয়া সাহা’র বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে এবং এতে মৌলবাদী শক্তি উৎসাহিত হয়েছে। প্রেসের একাংশ প্রিয়া সাহার বক্তব্যের ’ডিজেপিয়ার’ শব্দের হাস্যকর বংলা করেছে ‘গুম’? প্রিয়া সাহার স্বামীর নাম মলয় সাহা। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা। তাঁর দুই মেয়ে আমেরিকায় স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করছেন। মিডিয়ার একাংশ মলয় সাহার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা প্রিয়া সাহার পরিবারের ছবি প্রকাশ করেন এবং তাঁর বাড়ীর ঠিকানা দিয়ে দেন? এরফলে মলয় সাহার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয় এবং বিক্ষোভকারীরা গেটভেঙে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে? ঢুকতে না পেরে তাঁরা বাড়ি সীলগালা মেরে দেয়ার হুমকী দিয়ে যায়? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তখন কোথায় ছিলো কেজানে? প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় সাহা ঢাকায় অবস্থান করছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে যেভাবে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিলো, শোনা যাচ্ছে তাঁর ভাগ্যেও তাই ঘটতে যাচ্ছে। তাঁকে দুর্নীতিবাজ বানাতে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বাড়িঘর আছে কিনা সেই খোঁজ শুরু হয়েছে। একেই হয়তো বলে, ‘সতীর পুণ্যে পতির পুন্য’?   

হেফাজত-ই-ইসলামের প্রধান শফি হুজুর, যিনি মহিলাদের সাথে তেঁতুলের তুলনা করে ‘তেতুল হুজুর’ নামে সমধিক পরিচিত প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে আন্দোলনের হুমকী দিয়েছেন। জামাতে ইসলাম প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি দলের নেতারা দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বলেছেন, প্রিয়া সাহার নালিশ উদ্দেশ্যমূলক। পরে বলেছেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য মিথ্যা এবং বিশেষ মতলবে। উপ-পরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নালিশ খতিয়ে দেখা হবে। হেভিওয়েট মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথমে বলেছেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উৎসাহিত করবে। পরে বলেছেন, প্রিয়া সাহা দেশদ্রোহী। এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, মামলা হবেনা। প্রিয়া সাহার কথা শুনতে হবে। ওবায়দুল কাদের প্রেসকে  একথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, এসব ছোটখাট বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা ঠিক নয়? 

কিন্তু প্রিয়া সাহার সামান্য ছোটখাট বক্তব্য নিয়ে মৌলবাদীরা যে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তা কিন্তু খুব ছোট্ট নয়? তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দ্দেশকে স্বাগত জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা যায় যে, মৌলবাদী শক্তি প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যে সাম্প্রদায়িক আগুন লাগাতে চেষ্টা করেছে এতে হয়তো কিছুটা তা চাপা পড়তে পারে। ধন্যবাদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। হয়তো এরই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে দু’জন সাধারণ নাগরিক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ মামলা এনেছিলেন, মহামান্য আদালত তা প্রায় সাথে সাথেই খারিজ করে দেন। প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অন্য মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ আশা করা যায় একই হবে? এরই মধ্যে প্রিয়া সাহার গ্রামের বাড়িতে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করানো হয়েছে। তার এনজিও’র পঁচিশ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন? 

এ প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন বলেছেন: প্রিয়া সাহা ভয়াবহতার কথা কমই বলেছেন প্রিয়া সাহা।  ফেইসবুকে তিনি লিখেন, মাপা সময়, ভয়াবহতার বর্ণনা করার সময় তিনি পাননি। লাখকে মিলিয়ন বলেছেন নাকি মিসিং, ডিসেপিয়ার্ড বলেছেন, সেটি বড়কথা নয়। বড়কথা হলো, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বাংলাদেশে চলছে, নির্যাতন চলছেই। সেই কারণে নিরাপত্তার অভাবে হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে। এটা মানুষ জানুক, হাসিনা এসেও যে সংখ্যালঘুকে নিরাপত্তা দেননি, এটাও মানুষ জানুক। তিনি আরো বলেছেন, মানুষ যে দেশ ছাড়ছে এর প্রমান তো দেশেই। প্রিয়া সাহা যদি নির্ভুল পরিসংখ্যান দিতেন–১৯৪৭ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ২৯.৭%, ২০১১ সালে তা নেমে ৯.৭%, তাহলেই কি খুব চমৎকার শোনাতো? মোটেই না। জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান জার্মানির ডয়চে ভেল-কে বলেছেন: ‘আমাদের রিঅ্যাকশনগুলো হঠকারিতার শামিল হয়ে যাচ্ছে। এত বেশি রিঅ্যাকশন দেখানোর কিছু নেই। ঐক্য পরিষদ নেতা কাজল দেবনাথ বলেছেন, মামলা তো হতেই পারে, তবে এতে দুর্গন্ধ ছড়াবে। তিনিই আবার ঠ্যালায় পরে একাত্তর টিভিতে অন্য সুর গেয়েছেন। উইমেন চ্যাপ্টারে একজন মঞ্জুরুল হক লিখেছেন, প্রিয়া সাহা’র ওপর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রের ক্ষোভ যেন অন্যদের ঘাঁড়ে না পরে? সমস্যাটা এখানেই, রাষ্ট্রের ক্ষোভ থাকলে প্রিয়া সাহা দেশে ফিরে যাবেন কি করে? guhasb@gmail.com;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *