সাঈদী ফেল, চন্দ্রযান বিক্রম চাঁদে নেমেছে!

নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে ভারতের চন্দ্রযান-২ ‘বিক্রম’ চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করেছে। ভারতের এই সাফল্য দেশটিকে মহাকাশে আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের সম-মর্যাদায় আসীন করলো। তবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর অন্ধকার অংশে চন্দ্রযানের অবতরণ ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ ওই অংশে ইতিপূর্বে কেউ নামতে সক্ষম হয়নি। এই ঘটনায় নাসা ইসরোর প্রশংসা করে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 

এরআগে, চন্দ্রযান-২ প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় দারুণ খুশি হয়েছিলো পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী চৌধুরী ফাওয়াদ হুসেইন টুইট করে সেই আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, চাঁদের অন্ধকার দিকের রহস্য উন্মোচনে বেরিয়ে বিক্রম নিজেই অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। এর ভাগ্যে কী ঘটেছে, ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে তা স্পষ্ট নয়। 

বিক্রমের ব্যর্থতায় খুশি হয়েছিলো আরো অনেকে। সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, যুদ্ধপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী চাঁদে বসে বিক্রমের কানেকশন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন, কারণ তার ভয় ভারত এসে আবার কি ঝামেলা পাকায়? অন্য একজন লিখেছেন, ভারত শুধু শুধু আমেরিকা, রাশিয়ার পরামর্শ নিয়েছে, এরচেয়ে সাঈদীর পরামর্শ নিলে বিনে খরচায় চাঁদে পৌঁছে যেতে পারতো। 

নোয়াখালীর রেজাউল করিম খুশিতে এক বন্ধুকে নিয়ে তিনি গরম গরম রসগোল্লা খেতে দোকানে যান। দুই বন্ধু মিলে বেশ ক’টি রসগোল্লা খান। এক পর্যায়ে রসগোল্লা রেজাউলের শ্বাসনালিতে আটকে যায় এবং তিনি মারা যান? ‘আজাদ ভিশনের’ আজাদ আহমদ লিখেছেন: ব্রেকিং নিউজ: ভারতের এক হাজার রুপি খতম হো গিয়া!! মোদী নেহি মালুম হুয়া। এ কেয়া হো, চাঁদে যাওয়া এত সহজ না মোদী। 

পক্ষে মন্তব্য কম, একজন সাহাবুদ্দিন মাহমুদ লিখেছেন: আমরা বাঙ্গালীরা খুবই বিনয়ী জাতি। নিজেরা তো চাঁদে যেতে পারবো না, আর কাউকে যেতেও দিবোনা। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই! মিজানুর রহমান লিখেছেন, ‘হেরা মনে হয় গোমূত্র দিয়ে চন্দ্রযান পরিষ্কার করে নাই’? আবু নাসের লিখেছেন, আমিন। শহিদুল ইসলাম নাবু লিখেছেন, চাঁদে যাওয়ার নাম করে দেখেন ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে গিয়ে বসে আছে, এখন ধরা খাইবো, তাই বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। 

তৌহিদুল ইসলাম বাবলু লিখেছেন, মালাউনরা কখনোই সফল হবেনা। এম আর পলাশ লিখেছেন, গরুর মুত দিয়ে কি রকেট চলে? আবির সুমন লিখেছেন, ভারতের সর্বপ্রকার মিশন ব্যর্থ হউক এই কামনা করি। আমিন। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন লিখেছেন, বিশ্বাস করেন, গতকাল থেকে এই নিউজটি’র অপেক্ষায় ছিলাম। 

ইসরো কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছিলেন যে, ৯৭৮ কোটি টাকার এই মহাকাশ যান চন্দ্রযান-২ এর মিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। চেষ্টা হচ্ছে বিক্রমের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের। অবশেষে সেই সাফল্য এসেছে। ইসরো হচ্ছে, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন। এবারকার চন্দ্র অভিযান ৪৭ দিনের যাত্রা। দিনক্ষণ মেপে মেপে চাঁদে নামছিল বিক্রম। সবকিছু নিখুঁত ছিলো। সমস্যা হলো, চাঁদ থেকে ২.১ কিলোমিটার দূরে ইসরো বিক্রমের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। 

চন্দ্রযান-১ দক্ষিণ মেরুতে যাওয়ার আগেই ধ্বংস  হয়েছিলো। এবারকার অভিযানের কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে ডঃ কৈলাস ভাদিভো শিবন-কে, তিনি ইসরোর চেয়ারম্যান। ভারতের মহাকাশ গবেষণায় সাফল্যের অন্যতম কারিগর। এই ভদ্রলোক স্কুল জীবন কাটিয়েছেন খালি পায়ে। প্রথম জুতা পড়েন কলেজে। বাবা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে রাজি ছিলেন না? আম বাগানে কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করে তিনি ইসরো’র চেয়ারম্যান পর্যন্ত পৌঁছেছেন। একই সাথে দুই মহিলা মিশন ডিরেক্টর ‘রকেট ওমেন’ রিতু কারিদহাল শ্রীবাস্তব এবং প্রজেক্ট ডিরেক্টর বনিতা এম- যথেষ্ট প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। তবে বলা হচ্ছে, বাঙ্গালী উপদেষ্টা ডঃ জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী, আসামের এনআরসি তালিকায় নেই?   

আমেরিকা এক ডজনের বেশিবার চেষ্টা করে চাঁদে গেছে। রাশিয়া অর্ধ-ডজন বার। প্রথমদিকে ভারতের ব্যর্থতায় যাঁরা খুশি হয়েছিলেন, এখন তাদের কি  হবে? সফল মানুষ অন্যের ব্যর্থতায় উপহাস বা কটুক্তি করেনা। কারণ সফলতার পেছনে ব্যর্থতার অধ্যায় থাকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে বিজ্ঞানীদের সাথে চন্দ্রজান-২ অবতরণ দেখছিলেন। শেষমুহূর্তে অভিযান ব্যর্থ হলে তিনি ইসরোর প্রধানকে বুকে জড়িয়ে ধরে সাহস জুগিয়েছেন, আবার এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখিয়েছন, বিজ্ঞানীদের চোখের জল মুছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।  পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩৮৪৪০০ কিলোমিটার। চন্দ্রজান মিশন ব্যর্থ হলেও ভারতের সাথে চাঁদের দুরুত্ব থাকতো ২.১ কিলোমিটার। এক্ষণে সেই দুরুত্ব ‘শূন্য’। এই কৃতিত্ব উপমহাদেশের সবার। এশিয়ায় দু’টি দেশ এখন চাঁদে। বাংলাদেশ ‘বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ’ পাঠালে আমরা সবাই খুশি হয়েছিলাম, এজন্যে আমরা গর্বিত। পাশের দেশ চাঁদে গেলে আমাদের ক্ষতি কি? কেন্ এত সমালোচনা? এই মহাযাত্রার পেছনে কত ত্যাগ-তিতিক্ষা-মেধা আছে, তা বুঝতে অক্ষমরাই শুধু উপহাস করতে পারে। এতে ভারতের কোন ক্ষতি নেই, শুধু আমাদের মানষিকতা প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। #  guhasb@gmail.com;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *