রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তারপর দীর্ঘ গ্যাপ। অনেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু কেউ রাষ্ট্রনায়ক হ’ননি। অনেকদিন বাদে ২০১৯-এ দাঁড়িয়ে বলা যায়, জাতি আবার একজন রাষ্ট্রনায়ক পেয়েছে, তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ বা এমনকি ২০০৯-এ তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন,  রাষ্ট্রনায়ক নন? রাষ্ট্রনায়ক হবার কতগুলো সোপান থাকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসব উৎরে গেছেন। বঙ্গবন্ধু’র সময় বিশ্ব পরিস্থিতি অন্যরকম ছিলো। তিনি সংগ্রামী নেতা, মূলত: একক নেতৃত্বে একটি দেশ এনেছেন, একটি মানচিত্র দিয়েছেন। বিশ্ব তখন দু’ভাগে বিভক্ত। বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতের পক্ষে, সমাজতান্ত্রিক বলয়ে। একদা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন শ্রীমতি গান্ধীকে রাষ্ট্রনায়ক হতে সাহায্য করেছিলো, বঙ্গবন্ধু তেমনি শোষিতের পক্ষে দাঁড়িয়েই  ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক জগতে স্বীয় যোগ্যতার বলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাতারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন।  শেখ হাসিনার জন্যে বিষয়টি একটু কষ্টকর ছিলো। ১৯৯৬-২০০১’র তাঁর  শাসনামলে তিনি ঠেকে ও ঠকে অনেককিছু শিখেছেন। তখন তার শাসনামল ছিলো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক, চমৎকার। ২০০১’এ নির্বাচনে তার সহজ জয় পাওয়ার কথা ছিলো। সেটা হয়নি। বিল ক্লিন্টনকে ক্ষেপিয়ে তিনি ক্ষমতা হারান। এ সময়টায় এক-কেন্দ্রিক বিশ্ব। বাংলাদেশের মত একটি দেশ থেকে একজন সরকার প্রধানের রাষ্ট্রনায়ক হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়! বঙ্গবন্ধু কন্যা দেখিয়েছেন, তিনি পারেন। বিশেষত: পরপর দুইটি নির্বাচন  নিয়ে বিতর্ক সামলিয়ে রাষ্ট্রনায়ক হওয়া সহজ ছিলোনা। ইমরান খান রাষ্ট্রনায়ক নন, শুধুই সেনাবাহিনীর তল্পিবাহক প্রধানমন্ত্রী। তদুপুরি, মোদীর মত একজন রাষ্ট্রনায়কের সাথে তাল মিলিয়ে বা পাল্লা দিয়ে শেখ হাসিনা আজ রাষ্ট্রনায়ক। মনমোহন সিং রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না? তিনি ছিলেন  সোনিয়া গান্ধীর আজ্ঞাবহ। তিনি প্রধানমন্ত্রী, বড় অর্থনীতিবিদ ছিলেন, রাষ্ট্রনায়ক নন? আজ্ঞাবহ বা তল্পিবাহকরা রাষ্ট্রনায়ক হ’ন না! প্রায়ত: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাবার আগে আমায় বলেছিলেন, ‘শেখ  হাসিনার  আজকের যে অবস্থান, তা তিনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন, এবং সেই অবস্থানটি সু-উচ্চ, তার ধারেকাছেও কেউ নেই’। দাদা নেই, কিন্তু তাঁর কথাটি খাঁটি সত্য। সরকার প্রধান হিসাবে তার অনেক পদক্ষেপ সমালোচিত হতে পারে, দেশে বহুবিধ সমস্যার জন্যে তাকে দায়ী করা যেতে পারে, কিন্তু  বাংলাদেশকে বিশ্ব-পরিমণ্ডলে তিনি যে জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছেন, এ কৃতিত্ব তাকে দিতেই হবে। এজন্যে তিনি রাষ্ট্রনায়ক। দেশকে এগিয়ে না নিলে রাষ্ট্রনায়ক হওয়াদেশকে এগিয়ে না নিলে রাষ্ট্রনায়ক হওয়া  যায়না। মানতেই হবে, দেশ এগিয়েছে। কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তিনি প্রবল  প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও একপা পিছু হটেননি। ভারত ও চীনকে তিনি দু’হাতে নিয়ে খেলছেন। পাকিস্তানকে পাত্তাই দিচ্ছেন না? পাকিস্তান বরং এখন বলছে, ‘হামকো বাংলাদেশ বানাদো’। বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান থেকে সবদিকে এগিয়ে।  একদা ফারাক্কা সমস্যা ছিলো, মৌলবাদী রাজনীতির কেন্দ্র ছিলো ফারাক্কা। ফারাক্কা চুক্তি করে তিনি মৌলবাদী রাজনীতির মুলে কুঠারাঘাত করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্রের ঝনঝনানি তিনি বন্ধ করেছেন ‘শান্তি চুক্তি’ করে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ তাকে বিশ্বখ্যাতি এনে দিয়েছে। ওআইসি, যাদের অবস্থান নারী নেতৃত্বের বিপক্ষে, তাঁরাও  শেখ হাসিনাকে এখন নেতা মানেন। এরদোগান অবশ্য তেমন পছন্দ করেন না, কারণ মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের প্রশ্নে শেখ হাসিনা তার প্রতিদ্ধন্ধী। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আসছেন। টানা ১১বার জাতিসংঘে ভাষণ দেয়া  একটি রেকর্ড। এবার রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গ গুরুত্ব পাবে। রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিশ্ব তার মমতাময়ী রূপ দেখেছে, এবার হয়তো রণরঙ্গিনী রূপ দেখতে পাবে। তাঁর সেই চণ্ডীরূপ শান্ত করতে নোবেল কমিটি কেজানে এবছর তাকে শান্তিতে নোবেল দিতেও পারেন। বঙ্গবন্ধু ‘জুলিও কুঁড়ি’ পেয়েছেন,  ‘বাপ্ কে বেটী’ নোবেল পেলে মন্দ কি? বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্থপতি, শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। #

guhasb@gmail.com; (Picture courtesy to ANI)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *