ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পথ চলা আরম্ভ করলো মিতালী এক্সপ্রেস

অরুণকুমার, শিলিগুড়ি

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চালু হয়ে গেল  মিতালি এক্সপ্রেস। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চালু হল এই মিতালি এক্সপ্রেস। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় এনজেপি অর্থাৎ নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ট্রেনটি।এ বিষয়ে উল্লেখ করতে হয় যে,২০২১ সালের ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিতালি এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এতদিন তা থমকে ছিল। এদিন দিল্লিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভার্চুয়ালি ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। এই উপলক্ষ্যে এদিন এনজেপিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অনশুল গুপ্তা, সিপিআরও বা মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে, জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়, শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ সহ অন্যরা। নয়া ট্রেনের সূচনা উপলক্ষ্যে এদিন প্রচুর মানুষ স্টেশন চত্বরে ভিড় জমায়। প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তৃতীয় ট্রেন হল মিতালি এক্সপ্রেস। বাকি দুটি ট্রেন হল কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ও কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস। মিতালি এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গে পর্যটন শিল্পের আরও বিকাশ হবে বলে আশা করছেন উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ী মহল।এদিন নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন থেকে রওনা দিয়ে ভারতের শেষ সীমান্ত স্টেশন হলদিবাড়ির আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনে এসে পৌঁছোয় বহুকাঙ্খিত যাত্রীবাহী মিতালি এক্সপ্রেস। এখানে  ট্রেনটি পৌঁছোনো মাত্রই হলদিবাড়ি আন্তর্জাতিক স্টেশনে স্থানীয় মহিলারা প্রদীপ জ্বালিয়ে চালন কুলো নিয়ে ট্রেনটিকে বরণ করে। এই ট্রেনে এনজিপি থেকে হলদিবাড়ি স্টেশনে এসে পৌঁছোয় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার অনসুল গুপ্তা ও জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ড. জয়ন্তকুমার রায়। মহিলারা তাদেরও বরণ করে নেন। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে এনজেপি থেকে ট্রেনটি রওনা দিলেও বাংলাদেশের তরফে গ্রিন সিগন্যাল না দেওয়ায় দীর্ঘ সময় হলদিবাড়ি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। দুপুর ১টা ৫ মিনিট নাগাদ ১২ জন যাত্রী ও ১১ জন কর্মী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ট্রেনটি। এরপর ১টা ৩২ নাগাদ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মিতালি এক্সপ্রেস।

ট্রেনটি চালু করার জন্য সাংসদের তরফে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানানো হয়। জেনারেল ম্যানেজার অনসুল গুপ্তা বলেন, ‘ট্রেনটির মাধ্যমে পর্যটন ব্যবসার প্রভুত উন্নতি হবে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে দেশ। এই ট্রেনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে উঠবে।আশা করা যায় আগামী দিনে এই মিতালী এক্সপ্রেস দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.