ফোর মোর ইয়ার্স ফর ট্রাম্প? 

নিউইয়র্ক।।

বিগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, অর্থাৎ ২০১৬’র নভেম্বরের ঢাকার দৈনিক ভোরের কাগজ বা নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক ঠিকানা খুঁজলে দেখা যাবে যে, সেখানে আমি পরিষ্কার বলেছিলাম, ট্রাম্প জিতছেন। উভয় মিডিয়া হিলারি সমর্থক, তাঁরা সামান্য এদিক-ওদিক করে তাঁদের পাঠকের চাহিদা মত শিরোনাম করেছেন, তাতে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যায়নি। তখন যেসব কারণে লিখেছিলাম, ট্রাম্প জয়ী হবেন, একই কারণে এবারো তিনি জিতবেন। করোনা পরিস্থিতি বা তেমন কোন অঘটন না ঘটলে, এবার তিনি সহজে জিতবেন। বিষয়টি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের নয়, ভোটের। হিলারি ক্লিন্টন ছিলেন জাদরেল, শক্ত প্রার্থী, তাঁকে হারিয়ে ট্রাম্প অসাধ্য সাধন করেছেন। সম্ভবত: এবারো তাই করবেন। ফোর মোর ইয়ার্স ফর ট্রাম্প?

নিউইয়র্ক ডেমোক্রেট গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো বলেছেন, স্কুল খোলার ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের কোন অথরিটি নেই। এরআগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন নিউইয়র্ক ষ্টেট খুলে দেয়ার কথা বলেছেন, তখনো ক্যুমো বলেছিলেন, ষ্টেট খোলার দায়িত্ব গভর্নরের, প্রেসিডেন্টের নয়। ক্যুমো ঠিক বলেছেন। কোন কিছু খোলার দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের নেই; কিন্তু নিউইয়র্কে এত মৃত্যু’র দায় প্রেসিডেন্টের? নিউইয়র্ক ষ্টেট কেন আরো আগে লক-ডাউন হলোনা এর ব্যর্থতা প্রেসিডেন্টের? প্রায় সব ডেমোক্রেট গভর্নরের একই কথা। অথচ  ডেমোক্রেট ষ্টেটগুলোতে করোনা ভাইরাস আঘাত হেনেছে বেশি। কারণ কি? দোষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের! নিউওয়র্কের গভর্নর ও মেয়রকে দায়িত্ব নিতে হবে বৈকি! অবশ্য প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ডেমক্রেটদের মাথাভারী প্রশাসন এজন্যে দায়ী। 

এ মুহূর্তে আমেরিকায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ডেমোক্রেটরা, সিএনএন বা তাবৎ মিডিয়া বলছে, ট্রাম্প বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী ৱ্যালি করছেন, এজন্যে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে। অথচ করোনা’র পিক টাইমে ‘ব্ল্যাক লাইফ মেটার্স’ ও পুলিশের বিরুদ্ধে মাসব্যাপী পুরো আমেরিকায় আন্দোলন হলো, বড়বড় ৱ্যালি হলো, তখন করোনা ভাইরাস ছড়ায়নি? লেখালেখি হচ্ছে, করোনায় এত মৃত্য’র কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান নড়বড়ে! আসলে কি তাই? ‘ব্ল্যাক লাইফ মেটার্স’ আন্দোলন ঠিকই ছিলো, কিন্তু এটি দীর্ঘস্থায়ী করেছে কারা? ট্রাম্পকে বেকায়দায় ফেলতে ডেমক্রেটরা চেয়েছেন ৱ্যালি দীর্ঘস্থায়ী হউক? এতে লাভ-লোকসান নভেম্বরে দেখা যাবে। 

নিউইয়র্ক ও আমেরিকার অন্যান্য শহরে এখন ক্রাইম বাড়ছে। এর দায় প্রেসিডেন্টের? নিউইয়র্ক সিটি’র মেয়র দায়িত্ব নেবেন না? ডেমক্রেটরা দায়িত্ব নেবেন না? ডেমক্রেটরা ‘পুলিশ ডিফান্ডিং’ চাচ্ছেন, মেয়র ডি ব্লাজিও এক বিলিয়ন ডলার পুলিশের বাজেট থেকে কেটে নিয়েছেন। ডেমক্রেট ষ্টেটগুলো তাই করছে। এর প্রতিক্রিয়া নির্বাচনে পড়বে। ডেমক্রেটরা পুলিশ ডিফান্ডিং ও ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে ব্যস্ত। তার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশের জন্যে নুতন মামলা মোকদ্দমা চলছে। মামলা সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। অভিজ্ঞজন বলছেন, নভেম্বরে নির্বাচনের আগে জনগণের তা দেখার সুযোগ হবেনা? স্মর্তব্য যে, প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্ম সার্টিফিকেট নিয়ে পুরো আট বছর জল্পনা ছিলো। 

নারী কেলেঙ্কারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি উপাদেয় ইস্যু। এবার ট্রাম্পের নারী কেলেঙ্কারী ততটা জমবে না, কারণ নুতন কেইস নাই? স্টরমি ড্যানিয়েল নিয়ে এ বছর খুব বেশি এগুনো যাবেনা। কিন্তু জো বাইডেন’র ‘সেক্স লাইফ’ সামনে আসবে। বিষয়টি খুব সুখকর হবেনা। ইতিমধ্যে এক মহিলা অভিযোগ তুলেছেন। করোনার কারণে তা ধামাচাপা পড়ে আছে, তবে আবার আসবে। অন্য কোন মহিলা যে এগিয়ে আসবেন না, তা কে বলতে পারে? বাইডেন পুত্র হান্টার বাইডেন হবেন নির্বাচনে একটি আলোচ্য অধ্যায়। পিতার সুবাদে পুত্রের অর্থনৈতিক যোগ তো আসতেই পারে?   

জো বাইডেন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তাঁর রানিং-মেট হবেন একজন মহিলা। কে সেই নারী? মিশেল ওবামা কি তাঁর রানিং-মেট? বাইডেনের এই সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর ভাগ্য নির্ভর করছে। যিনিই রানিং-মেট হন জনগণ তাঁকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে বিবেচনা করবে। কারণ, বাইডেন’র স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন আছে। আমেরিকা কি একজন কৃষাঙ্গ মহিলাকে তাঁদের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে গ্রহণ করবে? বাইডেনের একমাত্র ভরসা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামার জনপ্রিয়তা বাইডেন কাজে লাগাতে চাইবেন। ট্রাম্প বিরোধী সবাই বাইডেনকে সমর্থন দেবেন। তাতেও কি কাজ হবে? 

ট্রাম্প তাঁর সাবেক প্রতিদ্ধন্ধী হিলারী ক্লিন্টনকে ‘ক্রোকেড হিলারি’ বলে আখ্যায়িত করতেন, এবার জো বাইডেনকে তিনি বলছেন, ‘স্লীপি জো’? এটাও বলছেন যে, বাইডেন দু’টি বাক্য একসাথে ঠিকমত বলতে পারেন না?  বাইডেন ইতিমধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ভুল করে ১৯মিলিয়ন বলেছেন। সামনে আরো দু’একবার এমন ভুল করলে বড় খেসারত দিতে হতে পারে? এ মুহূর্তে বাইডেন প্রায় সকল জরীপে ট্রাম্পের থেকে এগিয়ে। স্বভাবত: ডেমক্রেটরা খুশি। ২০১৬-তে হিলারী ক্লিন্টন সকল জরীপে ট্রাম্পের থেকে বাইডেনের চেয়ে আরো বেশি পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। 

প্রশ্ন হলো, আগেরবার ট্রাম্পকে যারা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা এবার ভোট দেবেন না কেন? গ্যাসের দাম অর্ধ-শতাব্দীতে সবচেয়ে কম। অর্থনীতি ভালো। করোনার কারণে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ চাকুরীচ্যুত হলেও এখন তা ফিরে পাচ্ছেন। স্টিমুলাস প্যাকেজ নির্বাচন পর্যন্ত থাকছে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে মানুষের ধারণা। বাইডেন দুর্বল প্রার্থী। করোনার কারণে তিনি বাইরে যাওয়ার রিস্ক নিচ্ছেন না? কিন্তু কতদিন? ডেমক্রেট শিবির কি ট্রাম্পকে নিয়ে খুব খুশি? কৃষ্ণাঙ্গরা কি খুব খুশি? এ রকম অনেক ইক্যুয়েশন আছে। 

বাইডেন বলেছেন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ট্রাম্প ইতিমধ্যে ‘সাদা পতাকা’ উড়িয়ে দিয়েছেন। ঠিক যে, ট্রাম্প কোরোনাকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনি স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে তিনি আর আমেরিকা বন্ধ করবেন না? আমেরিকা ধীরলয়ে ওপেন হচ্ছে। মানুষ ঘরে থাকতে চাইছে না? ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত, সতর্ক থেকে করোনা’র সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলবে। করোনা ভাইরাসকে হারাতে হবে, ট্রাম্পকে পুনরায় জিততে হবে? এ দু’টো লক্ষ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এগুচ্ছেন। # (Picture Courtesy: Wikipedia)

ফোর মোর ইয়ার্স ফর ট্রাম্প? 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *