২০২৬ এর বঙ্গ সম্মেলন

দিলীপ চক্রবর্তী
কয়েকদিন আগে ২০২৬ এর বঙ্গ সমেলন শেষ হয়ে গেল। অনুষ্ঠান হয়েছিল Westchester County Convention সেন্টারে। এ সেন্টারটির সম্মুখে বিরাট পার্কিং লট, আর এক দিকে ব্যস্ত Central Avenue আর ন্য দিকে ব্যস্ততম Bronx River Parkway, কিন্তু Bronx River Parkwayটি পার হয়ে গেলে কাউন্টি সেন্টারের বিশাল পার্কিং লট আর সাথেই আছে একটি বৃহৎ মনোরম উদ্যান, আর আছে জনসাধারণের জন্য একটি “হাঁটার পথ”। এ সেন্টারেই New York Knicks এর “minor-league affiliate Westchester Knicks of the NBA G League” এর হোম গেম খেলে থাকে, এ জন্যও এ হলটির বিশেষ গুরূত্ব আছে। এ হেন স্থানে বঙ্গ সম্মেলন উপস্থাপন করাটাও কম গুরূত্বপূর্ণ নয়।
এবার ২০২৬এর বঙ্গ সম্মেলনের কথা বলা যাক। সাগরের অপর নাম যেমন সমুদ্র তেমনই বঙ্গ সম্মেলনের অপর নাম NABC. কেউ ডাকেন “বঙ্গ সম্মেলন” কেউ বলেন “NABC”, যেভাবেই ডাকুন না কেন, বোঝায় উত্তর আমেরিকার বাঙালিদের বৃহত্তম উৎসব “বঙ্গ সম্মেলন”।
যে কোন বঙ্গ সম্মেলনকে আনুষ্ঠানিক বিষয় ও প্রকৃতি অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারেন। যেমন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাণিজ্যিক আলোচনা, মেডিক্যাল সেমিনার, সাহিত্য সভা, ইত্যাদি ও সমাপনী অনুষ্ঠান, এ ছাড়াও কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর পণ্যসামগ্রী, বিভিন্ন জুয়েলার্স, আর এ বছরের নতুন সংযোজন “বই মেলা”। আর খাদ্যরসিকদের জন্য থাকে আহারের সুব্যবস্থা। দর্শকদের উচ্ছ্বসিত মূল্যায়ন – A+ for NABC 2026.
প্রতিটি দর্শকের মনোরঞ্জন করেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, নাম “শ্রুতিমধুর ভারতীয় একাত্মম”(হয়ত সঠিক অনুবাদ নয়, ইংরেজীতে – EKATVAM – THE EUPHONY OF INDIA” । এ অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিলেন বলিউডের প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক শ্রী কুমার শর্মা। আর অংশগ্রহণকারী অতুলনীয় নৃত্যকুশলীরা সকলেই ছিলেন আমেরিকার অভিবাসী। ভাবতেও অবাক লাগে যে সার্ধশতাধিক নৃত্যবিদ এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছেন। এ বঙ্গ সম্মেলনের সমাপ্তি রেখা টেনেছেন বিখ্যাত পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যবিশারদ সুনরিতা কাইন্থ। ছন্দ, তাল ও কল্পনার অবিশ্বাস্য এক সংমিশ্রন – যার নাম দেওয়া হয়েছে “এক জাগ্রত বিশ্ব (An Awakened World)”। সার্ধশতাধিক বিভিন্ন ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির নৃত্যকুশলীরা এ অনুষ্ঠান পরিবেশন করে দর্শকদের মোহমুগ্ধ করেন। ঐক্য, প্রীতি ও মানবমনের এক দৃষ্টান্তমূলক উপহার দিলেন এ বঙ্গ সম্মেলনের অনুষ্ঠানে। কৌশিকির অনুষ্ঠান অনেকের কাছে অর্থহীন মনে হয়েছে। শ্রোতাদের অভিযোগ – কৌশিকি তাঁদের শ্রুতির ক্ষুন্নিবৃত্তি করতে পারেন নি। ওস্তাদ আমজাদ আলি খান তাঁর সুনাম অব্যাহত রেখেছেন, শ্রোতাবৃন্দ তাঁর সরোদের মুর্ছনায় মোহবিদ্ধ হয়ে তাঁর সৃষ্ট রাগরাগিণীর বিদ্যুৎ স্পর্শে পুলকিত হয়েছে, তিনি শ্রোতাদের অভিনন্দন ও শ্রদ্ধায় আপ্লুত হয়েছেন। মৌসুমী হোসেন ও তসলিমা নাসরিন তাদের কবিতা ও কবিতার গান দিয়ে দ্বিতীয় মঞ্চটিকে প্রশংসার আলোকে উজ্জ্বলিত করেছেন।
বাণিজ্যিক আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন পেপসির প্রাক্তনী ইন্দ্রা নুইয়ি, রাষ্ট্রদূত বিনয় শ্রীকান্ত প্রধান, সনত চট্টোপাধ্যায়, ডঃ পৃথ ব্যানারজী এবং আরো অনেকে। বক্তাদের বাচনভঙ্গী, বিষয় এবং জ্ঞান দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। ব্যবসায়ী D: শৈলেশ চৌধুরী প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নির্বাচিত ব্যবসার প্রস্তাবকে ১ লক্ষ ডলার দিয়ে ভারতে ব্যবসা স্থাপনে সাহায্য করবেন। এ বিজনেস সেমিনারের নেতৃত্বে ছিলেন ডঃ সুমিত গাঙ্গুলী।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোচনা চক্রের (Medical Seminar) কর্ণধার ছিলেন ডঃ দেবল গুপ্ত। আলোচনার বিষয়গুলি ছিল – কোলন ক্যান্সারে সর্বাধুনিক অন্তদৃষ্টি, কারণ ও সম্ভাব্য নিরাময়ের সন্ধান, এলজাইমার রোগের চলমান গবেষণা, সম্ভাব্য নিরাময়, হৃদরোগে আক্রান্তদের দৈনন্দিন জীবনের দ্বন্দ, জীবন শৈলীর পরিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে অতি মনোরম আলোচনা হয়েছিল। ‘নিদ্রাকালীন শ্বাস ব্যাঘাত’ বা “Sleep Apnea” নিয়েও এক মনোগ্রাহী আলোচনা হয়। অংশ গ্রহণ করেন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌরভ চ্যাটার্জী, “Orthosomnia”বিদ ডাঃ গৌতম সমাদ্দার, যোগ বিশেষজ্ঞ রামকি, কর্কটরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমিতাভ, শারীরিক সুস্থতার প্রবক্তা ডাঃ এন পি শিং এবং তাই ওয়ানের এলজাইমার বিশেষজ্ঞ ডাঃ কেভিন। উপস্থিত স্বাস্থান্বেষীরা সকল বিশারদ বক্তাদের স্বাস্থ্যকথা শুনে যারপর নাই খুশি হন। সামগ্রিক আলোচ্য বিষয় নির্বাচন ও বক্তাদের গভীর জ্ঞান উপস্থিত শ্রোতাদের অত্যন্ত খুশি করে।
পূর্বতন বঙ্গ সম্মেলনগুলি নাটকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এ সম্মেলনেও কোন অন্যথা হয়নি। এ সম্মেলনের নাটকে অংশ গ্রহণ করেছেন একদা আন্দোলন সৃষ্টিকারী নাট্যসংস্থা নান্দীকারের বর্তমান কর্ণধার নাট্য জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তারকা শ্রী পার্থ প্রতিম দেব। নাটকের নাম “সওদাগরের নৌকা”। প্রকৃতপক্ষে এ নাটকের প্রতিটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমেরিকার বাঙালি অভিনেতা।

বঙ্গ সম্মেলনে এবার সাহিত্য আলোচনা সভা নয়, পরিণত হয়েছে সাহিত্য উৎসবে। “আনন্দ পুরস্কার” প্রাপ্ত সাহিত্যিক নলিনী কান্ত বেরা সাহিত্য উৎসবে ছিলেন অন্যতম অতিথি বক্তা। সাহিত্য আলোচনার সূচনা করেন আমাদের সি এ বির দিলীপ চক্রবর্ত্তী। আলোচ্য বিষয় ছিল – “সাহিত্য সৃষ্টিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কর্তব্য”। এ আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন ডঃ ধনঞ্জয় সাহা ও ডঃ সেজান মাহমুদ। না্রী লেখকদের সমস্যার কথা আলোচনা করেন তসলিমা নাসরিন, নলিনী বেরা, রূপা মজুমদার ও রুদ্রশংকর। কবিতা ও কবিতার গানে অংশ গ্রহণ করেন শোভনসুন্দর, সেজান মাহমুদ, চন্দ্রিমা রায় ও অনুরাধা মজুমদার। প্রবাসীর কন্ঠ ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন সাদাত হোসাইন, আমেরিকার লেখক, কবিরা যাঁরা নিজেদের লেখা কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ পাঠ করেছেন তাঁরা হলেন, অরুন্ধতী সরখেল, রুদ্রশংকর, অলোক বন্দোপাধ্যায়, প্রশস্তি পণ্ডিত, দিলীপ চক্রবর্ত্তী, বেনজির শিকদার, কৌশিক সেন, ধনঞ্জয় সাহা, সফিক আহমে্ জয়তী দাশগুপ্ত প্রমুখরা। সকলেই জানেন এঁরা সকলেই প্রতিষ্ঠিত লেখক অথবা কবি। লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর জন্ম শত বার্ষিকী পালন করা হয় এক রম্য আলোচনা দিয়ে। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন লেখক কৌশিক সেন, লেখক অদিতি বসু রায় ও আমদের প্রিয় বিবিসির সাংবাদিক জয়তী দাশগুপ্ত। সাংবাদিক সুকুমার রায় প্রান্তিক মানুষের প্রতি মহাশ্বেতা দেবীর ভালোবাসা ও উন্নয়নের কথা নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। “ডায়াস্পোরা সাহিত্যের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেন বেনজির শিকদার, ডঃ ধনঞ্জয় সাহা ও ডঃ অলোক বন্দোপাধ্যায়। সাহিত্য আলোচনার অনুষ্ঠানগুলি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ডঃ সোমা মুখোপাধ্যায়, ডঃ অরুন্ধতী সান্যাল, জয়তী দাশগুপ্ত, সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রাবনী নন্দী।
২০২৬ বঙ্গ সম্মেলনের সাহিত্য উৎসবে হয়েছে নতুন সংযোজন ‘বইমেলা’। প্রথমে স্থির হয়েছিল বইমেলাটি একটি তাঁবুতে করা হবে। পরে অনিবার্য কারণ বশতঃ এটিকে কনভেনশন সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। ছিলেন কলকাতা থেকে আগত ৭ জন প্রকাশক এবং আমাদের নিউ ইয়র্কের বিশ্বজিত সাহা। সাহিত্যিক কৌশিক সেন এবং সাহিত্যিক নলিনীকান্ত বেরা পাঠকদের সাথে তাদের পুস্তক নিয়ে কথা বলেছেন এবং তাঁরা পাঠকদের “Autograph” দিয়েছেন। নতুন সংযোজন হিসেবে দর্শকদের মধ্যে বইমেলা যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে। আমার বিশ্বাস আগামীতে “বই মেলা” আরও ভালো ও সুসংগঠিত হবে।
এবার “NABC Idol” এর কথা না বললে বঙ্গ সম্মেলনের কথা অসম্পুর্ণ থেকে যাবে। এ অনুষ্ঠানটির দায়িত্বে ছিলেন শ্রাবস্তী ঘোষ পালিত। অনেক তরুণ তরুণী এ সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেছেন। প্রধান হলে এই তরুণ শিল্পীদের সুরেলা কন্ঠের প্রবাহ দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। পণ্ডিত তন্ময় বসুর ছিলেন মহাগুরু এবং তাঁর সহযোগিতায় ছিলেন রিদ্ধি বন্দোপাধ্যায় ও শ্রী জয়শংকর। তিন বিচারক প্রতিযোগীদের সঙ্গীত পারদর্শিতায় অত্যন্ত খুশি হন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের অধিকারী হয়েছেন যথাক্রমে দেবাংশী ভার্মা, আলভান চৌধুরী এবং শৌর্য দে। দেবাংশীর প্রথম পুরস্কার ছিল এক হাজার ডলার, আলভান পেয়েছেন পাঁচ শত ডলার আর তৃতীয় পুরস্কারের জন্য শৌর্য পেয়েছেন দুই শত পঞ্চাশ ডলার। শ্রাবস্তীর নেতৃত্বে এ অনুষ্ঠান সকলের মনোরঞ্জন করেছে।
প্রতিটি বঙ্গ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষন হোল – কলকাতা থেকে আগত পণ্যসামগ্রী। বেঙ্গল জুয়েলার্স তো বঙ্গ সম্মেলনের অন্যতম সারথী হয়েছেন, ছিলেন পি সি চন্দ্র অ্যান্ড ব্রাদার্স, বি সরকার জুয়েলার্স। সাথে আরও অনেক সংস্থা যেমন সুন্দরী বেনারসী শাড়ী, চানাচুর বিক্রেতা, আর ছিলেন আমেরিকার কয়েকটি বিপনন সংস্থা । ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রনে আগ্রহী ক্রেতাগণ যথেষ্ট সাড়া দিয়েছেন। প্রথমদিন আহারাদি পরিবেশনে একটু অসুবিধা হয়েছিল, কিন্তু পরের দুদিন সুস্বাদু আহারাদি পেয়ে দর্শকবৃন্দ যথেষ্ট তুষ্ট হয়েছেন।
দর্শকদের সুবিধার জন্য হোটেল থেকে অনুষ্ঠান অঙ্গন পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনেকেই এ পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করেছেন এবং এ জন্য কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
অধিকন্তু ন দোষায় – বড় টেলিভিসনে সকারের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা দেখার ব্যবস্থাও করেছিলেন NABC কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছরের মত এ বছরও কয়েকজন দর্শককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম – ২০২৬ বঙ্গ সম্মেলন কেমন লাগল? সকলেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের সাদর অভ্যর্থনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে কৌশিকির অনুষ্ঠান দেখে তাঁদের মনে হয়েছে তিনি কোন কারণে তাঁর সঙ্গীতে প্রাণের সঞ্চার করতে পারেন নি। অনেকেই কৌশিকির অনুষ্ঠান ভালো হয়নি বলে মনে করেছেন। ফটোসুটে ওস্তাদ আমজাদ আলি খানের সাথে ছবি তুলতে পেরে সকলেই খুব খুশি হয়েছেন। খান সাহেবের সহৃদয় ব্যবহারে সকলেই আপ্লুত ও মুগ্ধ হয়েছেন। বিশেষ ফলক দিয়ে বেঙ্গল জুয়েলার্স CABকে সম্মান জানিয়েছে। আর ভালো লেগেছে পি সি চন্দ্র জুয়েলার্সের লটারী অনুষ্ঠান।
এ প্রতিবেদন লেখার সময় মনে হল – বঙ্গ সম্মেলনের উদ্দেশ্য – এক কথায় বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রসার আমেরিকার বাঙালির উত্তসূরীদের মধ্যে। সাফল্য – এ প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে লুকিয়ে আছে। আরেকটি প্রশ্ন – বঙ্গ সম্মেলন কোন সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরে কি? এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই, হয়ত করে, হয়ত করে না। তবে একটা কথা জানি – বঙ্গ সম্মেলন পুরোনা বন্ধুদের দেখা পাওয়ার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র। হঠাৎ আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল। বন্ধুটি বেশ কয়েক বছর বিপত্নীক ও নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। নিঃসঙ্গ জীবন ওকে তুষের আগুনের মত কুঁড়ে কুঁড়ে শেষ করছিল। কয়েক মাস আগে বন্ধুর কন্যা আমাকে ফোন করে বলেছিল – কাকু, বাবার নিঃসঙ্গ জীবন দেখে বড় কষ্ট পাই। মা তো আর ফিরে আসবে না। তুমি বাবাকে বলো না – বাবা আবার বিয়ে করুক, বাবার মন আবার আগার মত হাসিখুসিতে ভরে উঠুক, এটা আমি চাই, কিন্তু বাবাকে বলতে পারি না, তুমি একটু বাবাকে বুঝিয়ে বলো, বাবা তোমার কথা শুনবে। মেয়েটির মানসিক উদ্বেগের কথা শুনে কষ্ট পেয়েছিলাম, কিন্তু ওকে সান্ত্বনা বা আশ্বাস কোনটাই দিতে পারিনি। হঠাৎ বন্ধুটির সাথে দেখা হয়ে গেল, বঙ্গ সম্মেলন দেখতে এসেছে। ওর সাথে এক উপেক্ষিতা বিধবা মহিলার পরিচয় করে দিয়েছিলাম। সন্তানের উপেক্ষা আর স্বামীর স্মৃতি নিয়ে ওর জীবন খানিকটা দুঃখেই কাটছিল। ওরা দুজনেই এ পরিচয়ে খুশি হয়েছিল। তারপর ওরা দুজন বঙ্গ সম্মেলনের জনারণ্যে হারিয়ে গেছিল। ওদের আর দেখা পাইনি। আমার মাতৃবিয়োগের পর আমার পিতার একাকীত্ব নিয়ে আমরা কখনও ভাবিনি, অবশ্য ভাবার মত বয়সও ছিল না, মাতৃহীন সন্তানদের লালন পালনেই তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ এটা বুঝি জীবনে অনেক প্রশ্ন থাকে যার কোন উত্তর থাকে না অথবা আমরা খুঁজে পাইনা।
এত বড় অনুষ্ঠানে একটুও ত্রুটি বিচ্যুতি হতেই পারে। এখানেও হয়েছে যেমন রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ব্যস্ততম সময়ে অত্যধিক ভীড়হেতু স্বল্প সময়ের জন্য একটু সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অভাব সৃষ্টি হয়েছিল, কৌশলগত পরিস্থিতির জন্য কোন কোন অনুষ্ঠান শুরুতে একটু বিলম্ব হয়েছে, এ ক্ষুদ্র ও গুরুত্বহীন ত্রুটিবিচ্যুতি এ বৃহৎ অনুষ্ঠানে কোন নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি।
এক কথায় ২০২৬এর বঙ্গ সম্মেলন খুব ভালো হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে অশেষ ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটি অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য। ২০২৭ সালের ২রা জুলাই আপনাদের সাথে দেখা হবে সান হোজের বঙ্গ সম্মেলনের আনন্দোৎসবের অঙ্গনে । আপনাদের জন্য চিত্তসন্তোষ ও প্রমোদের পসরা সাজিয়ে অপেক্ষা করছেন ৪৭তম বঙ্গ সম্মেলনের আয়োজকবৃন্দ। আপনারাই পারেন ওদের প্রচেষ্টাকে সফল করতে, ৪৭এর সম্মেলনকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বঙ্গ সম্মেলনএ রুপান্তরিত করুন।

