ট্রাম্প-বাইডেন শেষ বিতর্কে কে জিতেছেন?

২৪শে অক্টবর ২০২০, নিউইয়র্ক।। নির্বাচনের ১২দিন বাকি থাকতে বৃহস্পতিবার ২২শে অক্টবর দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে দ্বিতীয় ও শেষ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় টেনেসির ন্যাশভিল শহরে। মডারেটর ছিলেন এনবিসি’র সাংবাদিক ক্রিশ্চিনা ওয়াকার। ৫৫মিলিয়ন মার্কিনী এটি দেখেছেন। সাধারণত: দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে তিনটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, এবার হয়েছে দু’টি, সৌজন্যে কোভিড-১৯? ২৭ সেপ্টেম্বরে প্রথম বিতর্কের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হ’ন, এবং সেজন্যে দ্বিতীয় বিতর্ক হতে পারেনি। প্রথম বিতর্কে অযথা বাকবিতন্ডা হওয়ায় ‘বিতর্ক কমিশন’ বলেছিলো, শেষ বিতর্কে একজন কথা বলার সময় অন্যজনের মাইক ‘মিউট’ বা বন্ধ থাকবে। দ্বিতীয় বিতর্ক ভালো হয়েছে। মিডিয়া জানাচ্ছে, হুমকিতে কাজ হয়েছে, আসলে কারো মাইক মিউট ছিলোনা?   বিতর্কে কে জিতেছেন? এর সঠিক উত্তর কারো জানা নেই, এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, সেটি নির্ভর করে আপনি কাকে জিজ্ঞাসা করছেন? প্রায় সকল মিডিয়ার বক্তব্য হচ্ছে, ট্রাম্প ভালো করেছেন, তবে জিতেছেন বাইডেন? এ মুহূর্তে মার্কিন প্রায় সকল জরিপ বলছে, বাইডেন ট্রাম্প থেকে এগিয়ে। উপসংহারে গিয়ে তাঁরা ‘আস্তে’ করে বলছেন, এরপরও ট্রাম্প ইলেকটোরাল ভোটে জিতে যেতে পারেন। ২০১৬ নির্বাচনে তাই হয়েছিলো, হিলারি ক্লিনটন সর্বদা এগিয়ে ছিলেন, জিতেছেন ট্রাম্প। সম্ভবত: এবারো তাই হবে?

শেষ বিতর্কের পর কি ট্রাম্পের অবস্থান ভালো হবে? সম্ভবনা আছে, কারণ তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আব্রাহাম লিঙ্কনের পর কালোদের জন্যে তারমত কোন প্রেসিডেন্ট করেননি। একইসাথে তিনি কালোদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, বাইডেন ১৯৯৪সালে কালোদের ‘সুপার-প্রেডিটর’ বলেছেন; ৮০-৯০ দশকে যে সকল ক্রাইম বিলের সপক্ষে ভোট দিয়েছেন তাতে ইয়ং কালোরা জেলে গেছে। বাইডেন এই জায়গায় তাঁর ভুল স্বীকার করেন এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। বাইডেন বলেছেন, আমেরিকাতে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণ-বৈষম্য’ আছে। তিনি কালোদের জন্যে আরো কি করবেন তা ব্যাখ্যা দেন, এ পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ৮বছর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন, ৪৭ বছর ধরে রাজনীতি করছেন, তখন কেন করেননি? ট্রাম্প আরো বলেন, ‘বাইডেন ইজ অল টক, নো একশ্যান’। মডারেটর বিএলকে (ব্ল্যাক লাইফ মেটার্স) সম্পর্কে বাজে উক্তি প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে ট্রাম্প বলেন, যখন ওঁরা পুলিশকে ‘পিগ্স ইন এ বাস্কেট’ বলে শ্লোগান দিচ্ছিলো, প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমি তখন বসে থাকতে পারিনা, সেটা অন্ধকার রাত্রি ছিলো, কারা এ শ্লোগান দিচ্ছিলো আমি জানিনা। রেস্ প্রসঙ্গে বাইডেনের ভালো করা উচিত ছিলো, তিনি তা করেননি। 

পরিবেশ বা ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রশ্নেও বাইডেন ভাল করতে পারেননি। বরং এখানে তিনি সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন। ট্রাম্প বলেন, আমি এনার্জি ইন্ডিপেন্ডেন্ট করেছি, মার্কিন বাতাস, জল পরিষ্কার, স্বচ্ছ। বাইডেন বলেন, ট্রাম্প সোলার এনার্জি’র বিপক্ষে। ট্রাম্প বলেন, সোলার এনার্জি দুর্বল, আমাদের ভারী শিল্প চালানোর মত শক্তিশালী নয়। মডারেটর সরাসরি বাইডেনের কাছে জানতে চান তিনি প্রেসিডেন্ট হলে কি করবেন, বাইডেন বলেন, তিনি প্যারিস চুক্তিতে ঢুকবেন এবং বিজ্ঞানীর কথা শুনবেন। ট্রাম্প এ সময় বলেন, ক’দিন আগে বাইডেন ছিলেন এন্টি-ফ্র্যাকিং, এখন তিনি ফ্র্যাকিং’র পক্ষে? বিতর্ক তখন শেষ পর্যায়ে, বাইডেন হয়তো ক্লান্ত, এসময় তিনি বলেন, পরিবেশের স্বার্থে তিনি ‘অয়েল ইন্ডাস্ট্রি’ বন্ধ করে দেবেন। মডারেটর আবারো শুনতে চাইলে, বাইডেন বলেন, তিনি অয়েল ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ করে দেবেন। আমেরিকার যেসব ষ্টেট তেলের কারখানা আছে, ট্রাম্প ক্যাম্প ইতিমধ্যে সেখানে এটি প্রচার করতে শুরু করেছে। এরফলে তেল ইন্ডাস্ট্রির ষ্টেটগুলো বাইডেনের হাত থেকে ছুটে যাবার সম্ভবনা থাকবে। 

লিডারশিপ প্রশ্নে বাইডেন ভালো করেছেন। শুরুতে করোনা প্রসঙ্গে বাইডেন ভালো করেছেন, আরো ভালো করা যেতো। ইমিগ্রেশন প্রশ্নেও বাইডেন ভালো করেছেন, এবং পিতামাতা থেকে সন্তানকে পৃথক করার প্রসঙ্গটি ভালোই তুলেছেন। ট্রাম্প তাঁর নুতন ওয়ালের কথা জানান। এ প্রসঙ্গ এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইউ ডোন্ট নো এবাউট ইমিগ্রেশন জো’। এ সময় ট্রাম্প বারবার বলেন, অবৈধদের বন্দী করে রাখার জন্যে কারা ‘খাঁচা’ বানিয়েছিলো? ২০১৪-তে কারা এটি বানিয়েছিলো? উল্লেখ্য যে, ওবামা-বাইডেন তখন ক্ষমতায়। এ সময় মডারেটর বাইডেনকে প্রশ্ন করেন, ‘এরপর ভোটার এখন কেন আপনাকে বিশ্বাস করবে? বাইডেন বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি, সংশোধন করবো। আরো বলেন, মনে রাখতে হবে, আমি তখন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলাম, প্রেসিডেন্ট নই। করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে বাইডেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ নো প্ল্যান’। আমি প্রেসিডেন্ট হলে, ‘আই উইল মেক শিউর উই হ্যাভ এ প্ল্যান’। বাইডেন এ সময়ে বলেন, তিনি হলে আরো আগেই আমেরিকা ‘শাটডাউন’ করতেন। ট্রাম্প বলেন, আমি যখন চায়না ব্যান করি তখন বাইডেন আমাকের রেসিষ্ট ও ‘জেনোফেবিক’ বলেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, বাইডেন আমেরিকা বন্ধ করে দেবেন। বাইডেন বলেন, আমি ভাইরাস বন্ধ করবো, আমেরিকা নয়।   

ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রশ্নে ট্রাম্প ভালো করেছেন। রিপাবলিকানরা সবসময় এ প্রশ্নে ভালো করেন। রাশিয়া, ইরান আমাদের নির্বাচনে প্রভাবিত করছে প্রসঙ্গে বাইডেন বেশ শক্তভাবে বলেন, এটি স্বার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, যেই হস্তক্ষেপ করুক, তাকে মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্প এ সময় বলেন, বাইডেন ফ্যামিলি রাশিয়া থেকে অর্থ পাচ্ছেন, মস্কোর সাবেক মেয়র কেন তাঁকে সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার দিয়েছে? বাইডেন বলেন, তিনি টাকা নেননি, কখনো নয়। ট্রাম্প আবারো বলেন, ইউক্রেন, চায়না থেকে টাকা এসেছে, তাঁরা বলেছে, ১০% ‘বিগম্যান’-কে দিয়েছেন, ট্রাম্প বাইডেনের কাছে জানতে ‘হু ইজ দিজ  বিগম্যান, জো? বাইডেন পুত্র হান্টার বাইডেন প্রসঙ্গে এসব কথাবার্তা উঠে। ট্রাম্প আবারো বলেন, বাইডেনের পুত্র-ভাই এসময় মিলোনিয়ার হয়ে যান। চিনে ট্রাম্পের একাউন্ট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ব্যবসায়ী, অনেক দেশের সাথে আমার ব্যবসা, ব্যাংক একাউন্ট আছে, চীনের সাথেও ছিলো, এখন যে একাউন্টের কথা উঠেছে, ওটি ২০১৫-তে ক্লোজ হয়ে যায়, আমি তখন প্রেসিডেন্ট পদেও নির্বাচনে দাঁড়াইনি। ট্রাম্প বাইডেনকে আবার সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘উইল ইউ মেক চায়না পে? বাইডেন বলেন, ‘আই উইল গো বই ইন্টারন্যাশনাল ল’। 

বিতর্ক কালে জো বাইডেন দুই-তিনবার আটকে যান,  দু:খ প্রকাশ করেন, এমনকি তাঁর বক্র হাঁসি ঠিক ততটা সুখকর ছিলোনা। উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প ভালো করেছেন। তিনি ওবামা-বাইডেন প্রশাসনকে এজন্যে দায়ী করেছেন। ওবামার সময় উত্তর কোরিয়া আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, এ প্রসঙ্গে বাইডেনকে মডারেটর সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান। স্বাস্থ্যবীমা বা হেলথকেয়ার প্রশ্নে বাইডেন ভালো করেছেন। তিনি জানান, তিনি জয়ী হলে, ওবামাকেয়ার হবে ‘বাইডেন-কেয়ার’। এ সময়ও বাইডেন একবার আটকে যান? করোনা স্টিম্যুলাস প্রশ্নে মডারেটরের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, স্পিকার পেলোসি রাজনীতি করছেন, তাই স্টিম্যুলাস পাশ হচ্ছেনা। এ পর্যায়ে ট্রাম্প আরো বলেন,  আমরা এবার হাউসে জিতবো। মডারেটর এ সময় বাইডেনকে প্রশ্ন করেন, আপনি ডেমক্রেটদের নেতা, আপনি কেন বিলটি পাশের জন্যে পুশ করছেন না? বাইডেন বলেন, ‘আই ডিড’।ন্যূনতম বেতন ১৫ডলার প্রশ্নে বাইডেন রাজি, ট্রাম্প রাজি নন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *