২০২২ বঙ্গ সম্মেলন – দর্শকের চোখে

গত ২০২০ এবং ২০২১ এর বঙ্গ সম্মেলন জনোপস্থিতির মাধ্যমে করা সম্ভব হয় নি। যদিও ২০২০র আম্ফান দুর্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে বঙ্গ সংস্কৃতি সংঘ একটি ভিডিও সম্মেলন করেছিল এবং সে সম্মেলন অত্যন্ত সফল হ’য়েছিল। এ সম্মেলনের উপার্জিত অর্থ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র শিল্পী ও অন্যান্য কলাকুশলীদের মধ্যে বিতরন করা হয়েছিল কারণ আম্ফানের ফলে বহু গায়ক গায়িকার উপার্জন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গ সংস্কৃতি সংঘ এ সম্মেলনে উপার্জিত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত গায়ক,শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়েছিল। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সুন্দরবন অঞ্চলের বহু মানুষ, অনেকেই গৃহহারা হয়েছিল অথবা তাদের গৃহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সুন্দবনের মানুষের পুনর্বাসনের জন্যও বঙ্গ সংস্কৃতি সংঘ অনেক কাজ করেছে “মুক্তি” নামক একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে। আর ২০২১ এর ভার্চুয়াল বঙ্গ সম্মেলনে অর্জিত অর্থের একটা বড় অংশ সুন্দরবন প্রকল্পে দান করা হয়েছে। এটা অতি গর্বের বিষয় যে আমাদের বঙ্গ সংস্কৃতি সংঘ পীড়িত ও আর্ত্তজনের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে। আর সে জন্যই ২০২১ এর বঙ্গ সম্মেলনও ভর্চুয়াল হয়েছে । তারপর এল সেই কাঙ্খিত দি্নগুলি, অর্থাৎ জুলাই ১,২,৩ সাল ২০২২। শুরু হয়ে গেল ২০২২এর বঙ্গ সম্মেলন।

২০২২ এর জুলাইএর প্রথম সপ্তাহের প্রথম দিনে শুরু হল নর্থ আমেরিকার লস ভেগাস শহরের বিখ্যাত ক্যাসিনো “প্ল্যানেট হলিউডে” বাঙালীর প্রিয় “বঙ্গ সম্মেলন”। সম্মেলনের প্রথম দিনের কয়েকটি অনিশ্চয়তার ভাবনা সব সময় সমবেত দর্শকদের মধ্যে থাকে। তার মধ্যে প্রথম স্থানে আসে রেজিস্ত্রেশন ডেস্ক থেকে ব্যাজ ইত্যাদি সংগ্রহ করা। প্রায়শঃই বহু মানুষের সমাগমে রেজিস্ট্রেশন সংলগ্ন এলাকায় ভীড় জমে যায়। নাম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের ব্যাজ ইত্যাদি খুঁজে পেতে অনেক সময় লাগে, স্বেচ্ছাসেবকদের কঠোর পরিশ্রম সত্বেও একটু আধটু ভুল হতেই পারে বা হয়েই যায়, আর তখনই শুরু হয় উপস্থিত দর্শকদের ধৈর্যের পরীক্ষা। পূর্বের ইতিহাসে এমন নজিরও রয়েছে যে অনেক সময় দর্শকদের হাতে রেজিস্ট্রেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের নিগৃহীত হতে দেখা গেছে। রেজিস্ট্রেশনের ব্যাজ ইত্যদি দেওয়া নিয়ে বঙ্গ সম্মেলনের অধিকর্তারা সর্বদাই দুঃশ্চিন্তায় থাকতেন, কিন্তু এ বছর রেজিস্ট্রেশনে সামান্য দু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভিন্ন কোন অসুবিধা হয়নি, দর্শকরা তাদের ব্যাজ অত্যন্ত সহজেই পেয়ে গেছেন। এবং রেজিস্ট্রেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকলের দাবী মিটিয়েছেন। সুতরাং বলতে পারি বঙ্গ সম্মেলনের প্রথম পদক্ষেপটি বেশ শক্তপোক্তই ছিল। রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্ণধার ও সকল স্বচ্ছাসেবক তাদের কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে সমাপন করেছেন এবং এঁরা সকলেই গভীর প্রশংসা অর্জন করেছেন দর্শককূলের কাছে। এখানকার কাজ শেষ হয়ে গেলে সকলেই “জ্যাপোস” হলের দিকে রওয়ানা দিলেন। রেজিস্ট্রেশন থেকে জ্যাপোসে ক্যাসিনোর ভিতর দিয়েই যেতে হয়। আর জ্যাপোসেই শুরু হয়েছে দিনের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, পন্ডিত সঞ্চিতা ভট্টাচার্য ও পন্ডিত তন্ময় বসুর নেতৃত্বে একটি মনোজ্ঞ নৃত্যানুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে সারা আমেরিকার শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশগ্রহন করেছেন। এ অনুষ্ঠানের কল্পবোধ, ভাবনা ও তার গতিপ্রবাহ সাবলিল হলেও শেষটা অনেক দর্শকের কথায় যেন কেমন একটু খাপছাড়া ও মন্থর গতির হয়ে গেছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে একটু বলা প্রয়োজন মনে হল – “প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের অনুষ্ঠানটি” একজিবিশন এর ছোট্ট ঘরে না করে সকল দর্শকের সামনে জ্যাপোসে করলেই বোধ হয় আরও আকর্ষনীয় ও মনোজ্ঞ হত এবং এবং আরও বেশী দর্শক উপভোগ করতে পারতেন। নিঃসন্দেহে প্রথমদিনের সন্ধ্যার অনুষ্ঠানগুলি সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রতি বছর বঙ্গ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। এ বৎসরও তার ব্যতিক্রম হয়নি, যেমন বিজনেস ফোরাম, সাহিত্য আলোচনা, মেডিকেল সেমিনার, রিইউনিয়ন ইত্যাদি, ইত্যাদি। এ বৎসর ডাঃ জয়তী রক্ষিতের নেতৃত্বে মেডিকেল সেমিনারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুফল ও নানাবিধ সমস্যার কথা আলোচনা করা হয়েছে। কলকাতার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কুণাল সরকার পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। বলা যায় – মেডিক্যাল সেমিনার খুব ভাল এবং তথ্য জ্ঞাপক হয়েছে। উপস্থিত সকলেই স্বাস্থ্য নিয়ে নানা বিষয় জানতে পেরেছেন।

এবার আসা যাক বিজনেস ফোরামের কথায়। বিজনেস ফোরামের তত্বাবধায়ক ছিলেন “গ্যাভস” এর সি ই ও সুমিত গাঙ্গুলী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা ডঃ অমিত মিত্র এবং বন্ধন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী চন্দ্রশেখর ঘোষ, আর ছিলেন বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী শ্রী এইচ ই জুনাইদ আহমেদ পলক। বাংলাদেশ মন্ত্রীর অংশ গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আশাকরি, ভবিষ্যতেও দুই বাংলার সম্মেলন হবে এ বিজনেস ফোরামে। বিজনেস ফোরামের মাধ্যমে দুই বাংলার অংশগ্রণ নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত বহন করে। এ বছর বিজনেস ফোরামে অনেকেই অংশ গ্রহণ করেছেন। ডাঃ দীপক নন্দী মমতা সরকারের প্রতিনিধির কাছে জানতে চান – কলকাতায় বিনিয়োগ করতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যায় না, এ ব্যপারে রাজ্য সরকার কিছু করতে পারে কি না। অমিতবাবু জানান – পশ্চিমবঙ্গ সরকার সকলকেই সাহায্য করবে। পরে অবশ্য তিনি বলেন – যদি একজন বিনিয়োগকারীও এ ফোরামের দরুণ পশ্চিমবঙ্গে লগ্নী করেন তাহলেই তাঁর এ ফোরামে যোগদান করা সার্থক হবে।

অন্যান্য বছরের তুলনায় সাহিত্য আলোচনা অনেক বেশী সজীব ছিল এ বঙ্গ সম্মেলনে। সাহিত্য আলোচনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম আমি দিলীপ চক্রবর্ত্তী। সাহিত্য আলোচনার সভায় প্রতি বছরই লোকজনের সমাবেশ কম হয়, এ বঙ্গ সম্মেলনেও তার তেমন ব্যতিক্রম হয় নি, তবে খুব সামান্য হলেও মনে হয় আগের তুলনায় একটু বেশী সমাবেশ হয়েছে। আলোচনার সবকটি বিষয়বস্তুই ছিল সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে মহিলা লেখিকাদের জন্য। এ আলোচনার অংশগ্রহণকারী লেখক, কবি বা সাহিত্যিক, সকলেই ছিলেন উত্তর আমেরিকার প্রথিতযশা লেখক, কবি বা সাহিত্যিক, যদিও পশ্চিমবঙ্গের দুজন কবি ও লেখক ছিলেন, আর ছিলেন বাংলাদেশের সাহিত্যিকরা, যদিও তাঁরা সকলেই উত্তর আমেরিকার অধিবাসী। উপস্থিত ছিলেন নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি সাংসদ শ্রী প্রদীপ ভট্টাচার্য। আর এক জনের কথা উল্লেখ না করে পারছি না, তিনি হলেন তারুণ্যের প্রতীক সংবেদনশীল লেখিকা অর্যানী ব্যানার্জী। সাহিত্য আলোচনায় অর্যানী প্রমাণ করে দিয়েছে বয়সে তরূণী হলেও জ্ঞান ও বিশ্লেষন ক্ষমতায় ও যে কোন বিদগ্ধ জ্ঞানবৃদ্ধের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। অর্যানী সাহিত্য সভায় যথার্থ উজ্জ্বল তারকার ন্যায় ভাস্বর হয়ে উঠেছিল।অর্যানী নিঃসন্দেহে সকলের মধ্যমণি হয়ে সাহিত্য সভাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এ বছর সাহিত্য বাসরের বৃহত্তম আকর্ষন ছিল – স্থানীয় লেখকদের কবিতা, গল্প বা প্রবন্ধের চুম্বক অংশ পাঠ। প্রায় কুড়িজনেরও বেশী লেখক লেখিকা তাদের লেখা পাঠ করে শ্রোতাদের মুগ্ধ তো করেছেনই এবং নিঃসন্দেহে তাদের প্রতিভার সাক্ষরও রেখে গেছেন। তা ছাড়া এ সাহিত্য আলোচনার আর একটি বিশেষ সংযোজন ছিল, আজকের প্রবনতা, কবিতা ও গানের সমন্বয় সাধন করে সুর সৃষ্টি করা। কন্ঠশিল্পী মৌসুমী হোসেন এ কাজটি ভালই করেছেন, মৌসুমী হোসেন তাঁর সুরেলা কন্ঠে কবিতার গান পরিবেশন করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন। রিদ্ধি বন্দোপাধ্যায় অতুল প্রসাদ সেনের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কবি অতুল প্রসাদের জীবন নিয়ে সুন্দর ও তাথ্যিক আলোচনা করেছেন। খালি গলায় তিনি অতুল প্রসাদের গান পরিবেশন করে সমবেত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। কবি অন্তরা দাস কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি করেন, তাঁর ভাবাবেগ সকলকে কবিতার আবেগে মগ্ন ও মুগ্ধ করেছে। কবি মহুয়া দাস কয়েকটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। খুব ভাল লেগেছে কবি রুদ্রশংকরের স্বরচিত কবিতার উদাত্ত কন্ঠে আবেগময় আবৃত্তি। কবি মৌ মধুবন্তী, সইদা লতা, বেনজির শিকদার প্রভৃতি কবিদের কবিতা পাঠ সমগ্র অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল এক সময়। যারা এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেছেন রুপা, সুদীপ্তা, সোমা, লতা, মধুবন্তী, রুদ্রশংকর এবং আরও অনেকে, তাঁরা সকলেই ছিলেন সাবলিল ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভরা গভীর জ্ঞানের আঁধার। সাহিত্যা আলোচনা সফল হওয়ার চাবিকাঠি এঁদের হাতেই ছিল, সাহিত্য সেমিনার এ সাফল্যের জন্য এঁদের সকলকেই কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দ জানাচ্ছে। সাহিত্যিক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যাইয়ের বাংলা ব্যাকরণ ও শব্দের ব্যবহারের আলোচনাটি খুব সুন্দর হয়েছে।

বঙ্গ সম্মেলনের একটা বড় অংশ হল কলকাতা থেকে আসা বিভিন্ন ছোট বড় বিপনণকারী। তাঁরা সকলে মেজানিন ফ্লোরে তাঁদের সকল পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন, উদ্দেশ্য একটাই – গ্রাহকদের আকর্ষন করা। এ বছর এর মধ্যেই আরেকটি সংযোজন হয়েছিল শিল্পী সুস্মিতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবির ছোট্ট একটি গ্যালারী, স্বল্প কয়েকটি ছবির তুলির টান বুঝিয়ে দেয় সুস্মিতার শিল্পীসত্তার প্রতিভা, ছোট হলেও এমন সুন্দর ছবির প্রদর্শনী বঙ্গ সম্মেলনে খুব কমই হয়েছে। আশাকরি সুস্মিতার প্রদর্শনী ভবিষ্যতে আরও অনেক বড় করে হবে। প্রতিবছরের মত এ বছরও আমি কয়েকজন কলকাতার ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলেছি; তারা সকলেই বললেন এ বঙ্গ সম্মেলনে দর্শক কম হয়েছে, ফলতঃ কম গ্রাহক, কিন্তু তারা কেউই হতাশ হননি, একটু নিরাশ হলেও বলেছেন – প্রতিবছর অনেক লোক হবে আশা করা ভুল, বরং করোনা অতিমারির পরে এত মানুষকে এক সাথে, এক ছাদের তলায় দেখে খুব ভালো লাগছে। এ বছর ভাল ব্যবসা না হলেও , সামনের বছর ভাল হবে আশা রাখি। তাছাড়া আমরা এখানে শুধু লাভ করতে আসি না, আসি বঙ্গ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে আর আসি উত্তর আমেরিকার সর্ব বৃহৎ বাঙালীর উৎসবের ভাগীদার হতে, অংশীদার হতে, এ মিলনমেলায় অবগাহন করে নিজের বাঙালী সত্ত্বার উপলব্ধি করতে, তাই সামনের বছর আবার ফিরে আসব এ মহামিলনের পূণ্য সাগরে অবগাহণ করতে।

উত্তর আমেরিকার গায়ক,অভিনেতা অন্যান্য শিল্পীরা তাঁদের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন তাঁদের প্রতিটি অনুষ্ঠানে। আমি বুঝি না এমন প্রতিভাধর কলাকুশলী উত্তর আমেরিকায় থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন বাংলায় ফিরে যাই বাংলার কলাকুশলীদের কাছে। প্রতিবারের মত এবছরও কলকাতা থেকে বহু গায়ক, নাট্য শিল্পী, চলচ্চিত্র শিল্পীরা এসেছেন বঙ্গ সম্মলনে সঙ্গীত, নাটক ইত্যাদি পরিবেশন করতে। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানটি খুব সুন্দর হয়েছে, শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছেন। সন্ধ্যা মুখার্জি , বাপী লাহিরী আর লতার মুঙ্গেশকরের প্রতি শ্রদ্ধার্পন সকলেরই খুব ভাল লেগেছে, দর্শকরা দারুন সুখ্যাতি করেছেন এ অনুষ্ঠানের। আড্ডা নামক অনুষ্ঠানটি অনেক দর্শকের মতেই পরিবেশন করাই উচিত হয়নি। সঞ্চালক অতি উৎসাহী হয়ে পৌষালী বা “অমুকের” বাড়ি দেখিয়েছেন, এটার কি কোন দরকার ছিল? তারপর এক শিল্পির সঙ্গীত পরিবেশন অনুষ্ঠান পর্দা টেনে বন্ধ করা হল। নিশ্চয়ই কোন গুরুতর কারণ ছিল। যদি গায়কের কোন অসঙ্গত কারণের জন্য পর্দা বন্ধ করতে হয়েছিল তবে আমার মনে হয়-এখন সময় এসেছে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জানিয়ে দেওয়া যে বঙ্গ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ শিল্পীদের কাছে কি ধরনের আচরন আশা করেন। আমার মনে আছে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে সকল শিল্পীদের একসাথে ডেকে জানান হয়েছিল – বঙ্গ সম্মেলনে তাদের কি ভূমিকা হবে এবং তাদের প্রয়োজন মেটাতে কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেবেন। এককথায় শিল্পীদের বুঝিয়ে দিতে হবে – যেহেতু বঙ্গসম্মেলন কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ে এসেছেন, শিল্পীদের আয়োজকের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে, তাহলে কোন ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না, দুপক্ষের জন্যই সবকিছু পরিস্কার থাকবে। আমার মনে হয় নির্দিষ্ট বোঝাপড়ার অভাবেই অনেক সময় শিল্পীরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধাচরন করে থাকেন। পরবর্ত্তীকালে আয়োজকরা এ ব্যপারে একটু সচেতন হবেন আশা রাখি ।

এ বছর বঙ্গ সম্মেলনে একটা ব্যাপার আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে। দুই বাংলার ভাষা, সাহিত্য, শিল্প ও কৃষ্টি এক হয়ে দর্শকদের কাছে উপস্থিত হ’য়েছে। একসময় লক্ষ্য ক’রেছি – নাটক বা চলচ্চিত্র দেখার জন্য দুই বাংলার মানুষের ঢল নেমেছে হলগুলিতে। নিঃসন্দেহে বঙ্গ সম্মেলনের জন্য এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা। “নান্দীকার”এর পার্থপ্রতিম পরিচালিত “পদ্মা নদীর মাঝি” নাটকটি দর্শকের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। “মালার” ভুমিকায় সুদীপ্তার অভিনয় খুব ভাল লেগেছে সকলের। বঙ্গ সম্মেলনে বিশিষ্ট সমাজসেবীদের “সম্মান” জানানোর অনুষ্টানটির পদ্ধতির একটু উন্নয়নমূলক পরিবর্তন প্রয়োজন। মনে হল কোন রকমে শেষ করতে পারলেই হল, এ ভাবে সম্মান জানালে খুব একটা প্রীতিকর হয় না ।

বঙ্গ সম্মেলন সফল হয়েছে কিনা সে তো নির্ভর করছে কর্তৃপক্ষের সাফল্য মাপার মানদন্ডের মাপকাঠিতে। আমার নিজস্ব মতে মোটামুটি সফল এ বঙ্গ সম্মেলন। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, নিষ্ঠা, সংশয়, কোভিডের অনিশ্চয়তা, ইত্যাদি প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও যে ২০২২তে “বঙ্গ সম্মেলন” হয়েছে, সে জন্যই কর্তৃপক্ষের ধন্যবাদ প্রাপ্য। আমার স্থির বিশ্বাস – বঙ্গ সম্মেলনে যারা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা সকলেই আমার সাথে একমত হবেন। আজ থেকেই নিউজার্সির আগামী বঙ্গ সম্মেলনের অপেক্ষায় থাকব। তবে সেক্ষেত্রে সম্মেলনের লোগো CAB -র হওয়া উচিত বলে মনে করি, আশায় থাকলাম ।

দিলীপ চক্রবর্তী , কর্মকর্ত্তা , বঙ্গ সম্মেলন

Leave a Reply

Your email address will not be published.