ত্রাতা

আর্যতীর্থ

ভয়ঙ্কর একটা ঝড় আসার কথা বলছিলো সকলে।
তার চোখে পড়লে সব তছনছ হয়ে যাবে নাকি!

ধর্মকে বললাম, সাহস দাও, কিছু উপায় বলো।
ধর্ম পূর্বাস্য হয়ে প্রার্থনা করলো, পশ্চিম দিকে নামাজ পড়লো,
বুকে ক্রস করে বাইবেল আওড়ালো।
তারপর আমার দিকে রহস্যময় হেসে বললো, সবই তাঁর ইচ্ছে।
তিনি রাখলে থাকবে, নয়তো না।

তাতে ভীতি কিছু কমলো না।
বিজ্ঞানের কাছে গিয়ে আছড়ে পড়ে বললাম,
মিনিটে মিনিটে হিসেব দিচ্ছো কত গতি, কোনদিকে অভিমুখ , কখন আছড়ে পড়বে ডাঙায়,
এইবার বলো বাঁচবো কিভাবে!
বিজ্ঞান হাত উল্টে বললো, আমার শুধু তথ্য বলা কাজ।
সে হিসেবে যদি ঝড় ঘন্টায় এত কিমি বেগে তোমার বাড়িতে আছড়ায়, 
তবে তোমার পাঁচিল ভাঙবে, আর এত হলে গোটা ঘরটাই।
তার বেশি আমার আর কিছু জানা নেই।

উপায় না দেখে রাজনীতির কাছে গেলাম।
টেবিলের ঠান্ডা সরবত চোঁ করে মেরে দিয়ে
তৃষ্ণার্ত আমাকে তিনি বললেন
‘যদ্দুর জানি. ওখানে আমার ভোটার বেশি নেই।
সুতরাং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
তবু, এত আশা নিয়ে যখন এসছো, দেখছি।’
এই বলে তিনি শশব্যস্ত ধমকে কাউকে ব্যবস্থা নিতে বলতে থাকলেন,
আমি আড়চোখে ফোনের দিকে দেখলাম
‘নো নেটওয়ার্ক’।

ঝড় এলো। সমস্ত আশঙ্কা সত্যি করে, ভয়াবহতার সংজ্ঞাকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে ঝড় এলো।আমার পাকা বাড়ির বাইরে গাছ ভাঙার মটমট আওয়াজ,
জানলার শার্সিগুলোর অবিরাম আর্তনাদ আর হঠাৎ আঁধারে বিনা ফোন জীবন জানিয়ে দিলো,
চেঙ্গিজ খানের বাহিনীর মতো সে শহরটাকে ধ্বংস করতে এসেছে।

ঝড় থেমে গেলে বাইরে বেরোলাম। প্রতি রাস্তায় মৃতদেহের স্তুপ,
মানুষ নয়, গাছেদের। জন্ম থেকে দেখা বিশাল মহীরুহগুলো আজ
ক্ষমতাচ্যুত সম্রাটের মতো মাটিতে শয়ান।
মহাভারতের ঘটোৎকচের মতো তারা সাথে নিয়েছে শত্রু সভ্যতার সৈনিক অজস্র ইলেক্ট্রিকের পোলকে,
কোথাও কোনো ছোটো দোকানঘর বা পাঁচিলকেও।

তখনই একটা খিলখিল করে হাসি শুনতে পেলাম।
ঘুরে দেখি, চল্লিশ কোটি বছর ধরে বেঁচে থাকা বিভীষিকা করোনা ভাইরাস হেসে খুন হচ্ছে।আমি তাকাতেই সে বলে উঠলো, ‘ দেখ ছোটো, তোদের ভেতরে রেখে কেমন বাঁচিয়ে দিলাম। নয়তো ওই গাছগুলোর সাথে তোরাও..’ বলেই আবার দমকা হাসি।

আমি তড়িঘড়ি মাস্ক ঠিক করে ঝিরঝিরে হাওয়ার মধ্যে বাড়ির পথে বাড়ালাম পা।

সর্বনাশ আর পৌষের সংজ্ঞা সবসময় বোঝা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *