অবনী দা বাড়িতে নেই

দেবারুণ রায়

“জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ” বলে চিরায়ত বাক্ধারাটি নিশ্চয়ই অবনী দার মতো রাজনৈতিক কর্মীদের দেখেই তৈরি হয়েছিল। শুধু রাজনীতি কেন। জীবনের সর্বক্ষেত্রে,  সব পেশা, সব নেশা, সব দিশা ও সব দেশ কালেই এমন মানুষের দেখা পাওয়া যায়। এমন মানুষ ছাড়া জীবন চলে না। সংসার বা সংগঠনে, লোকালয় থেকে হিমালয় সব ঠিকানার ঠিকাদার এমন এক একজনকে জুটিয়ে দেন বিধাতা বা বিরিঞ্চিবাবা, ফকির বা ফরিস্তা। ঠিক এই চরিত্রের মানুষের পাশাপাশি কিছু সুযোগ সন্ধানী নেতা অভিনেতা সহনেতা কীর্তিমান ও মূর্তিমান থাকেন, ফিকির আর ফেরেপ যাদের জীবন জীবিকার দ্বন্দ্বমূলক বস্তু। তাদের জীবনে ছন্দ আনতে অনন্য অবদান রেখে যান এঁরা। মানে  আরএসপির অবনী রায়রা। 

এমন একটা সময় অবনী দা হাঁক পাড়লেন, “পৃথিবীর গাড়িটা থামাও, আমি নেমে যাব,” যখন তাঁর প্রাণের মানুষরা সবাই নেমে গেছেন গাড়ি থেকে।  তাঁদের টিকিট ছিল অনেক দূরের।  অবনী দা তাঁদের ঠিকানা হাতে নিয়ে বলেছেন, “এ গাড়ি যাবে না, আমি অন্য গাড়ি নেব।” অবনী দার এইসব প্রাণের মানুষদের শীর্ষে আছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ত্রিদিব চৌধুরি। যাঁর সঙ্গে একাসনে বিরাজমান মাখন পাল, ননী ভট্টাচার্যরা।অখ্যাত অজ্ঞাত অপ্রচারিত  অনেক কর্মী বা নিচুতলার নেতা ছিলেন আরএসপিতে যাঁদের সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের কথা বললে সবার মাথা নত হবে। কেউ আড়ালে গিয়ে গাল দেবে না। রাজনীতির প্রতিস্পর্ধীরাও শ্রদ্ধাবনত হবেন। এই সব নেতাদের ছত্রছায়াতেই বড় হয়েছেন পরের প্রজন্মের নেতারা। তাঁদের মতো হননি কেউ ঠিকই।  কিন্তু শিবিরের বা গোষ্ঠীর  মাতব্বর না হয়ে দলের আদর্শের ও কর্মসূচির যোগ্য প্রতিনিধি হয়েছেন কেউ কেউ। জনমনে যাঁদের কিছুটা হলেও পায়ের ছাপ থেকে যাবে আরএসপির পরিচিতির বা পরিধির মধ্যেই কয়েকটি পকেটে। মনে পড়ছে এমনই একজন নেতা  জয়ন্ত বিশ্বাসের কথা। আর এখনও কাজ করে যাচ্ছেন একজন তাঁর কথা। তিনি বিশ্বনাথ চৌধুরি।  তিনি দীর্ঘজীবী হন।

অবনী দা এঁদের মতো আদি বা মধ্যযুগের  কোনও স্টলওয়ার্ট ছিলেন না। কিন্তু অতি সাধারণ, সবার নীচে সবার পিছে থেকেও দলের কাছে ইনডিসপেনসিবল ছিলেন। জননেতা, বড় সংগঠক বা বাগ্মী সাংসদ হিসেবে কেউ তাঁকে দেখবেনা।  কিন্তু সারা দেশে এই ছোট্ট একটা দলের পরিচিতির পাসওয়ার্ড কিন্তু এখনও অবনী রায়। বিএল কাপুর হাসপাতাল থেকে তাঁর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফিরে আসার পর  দলের সেই পরিচিত সর্বভারতীয় পরিমণ্ডলটাই ঝাপসা হয়ে যায়। দলের একই অঙ্গে দুটি রূপ ফুটে ওঠে। ডান হাত বাঁ হাত দুদিকে ছিটকে গিয়েছে। বাংলায় শ্রেণিচরিত্র বাঁচাতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে  শীষ মহম্মদকে নামিয়ে, কেরলে প্রেমচন্দ্রনের খাতিরে  বাম পরাজয়ে শিস্  দিয়েছে আর এস পি। নেহাৎ বাংলায় বাম তালপুকুরে আর সিপিএমের ঘটি ডোবে না। যদি ঘটি ডুবত তাহলে সুবে বাংলার রাজধানীতেও আরএসপির সূর্য ডুবত।

এই যে ডান বাম মেশানো “ডাম” বা “বান” আরএসপি এই দশার সঙ্গে  কাকতালীয়ভাবে অবনী রায়ের অচল হয়ে ওয়াকার নিয়ে চলার সময়টা মিলে যাচ্ছে।  অথচ উনি দলের নীতি নির্ধারণের একশো গজের মধ্যেও ছিলেন না। চিরকাল আলপিন এগিয়ে দিয়েছেন  এলিফ্যান্টদের। তাই আলপিন টু এলিফ্যান্ট সবটাই মুঠোয় ছিল। প্রথম যখন এমপি হয়ে বাংলা থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে দিল্লি গেলেন “ঢাকু দা” ( ত্রিদিব চৌধুরি ) , তখন সম্ভবত মাখন দা-ই  ছাত্র সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী অবনীকে ওঁর সঙ্গে দিল্লিতে গিয়ে ঘাঁটি গাড়ার কথা বলেন। এবং সেইমতোই ত্রিদিব চৌধুরির পার্লামেন্টারি অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা থেকে সংসদ ভবনে তাঁর সঙ্গে যাওয়া এমনকি তাঁর জন্যে বাজার করে তাঁকে রান্না করে খাওয়ানো পর্যন্ত এ টু জেড সবটা করে গেছেন অবনী তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত। যখন বহরমপুরে হেরে শেষ বয়সে রাজ্যসভায় গেলেন সেই সময় অব্দি। এর মধ্যেই দিল্লির পালাবদলের সবক’টি পর্বে সমস্ত বাম ও অকংগ্রেস অবিজেপি দলের দুয়ারে দুয়ারে একটা অটোয় চেপে নেতার সঙ্গী অবনী।  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধীদের প্রার্থী হলেন ত্রিদিববাবু। যাবতীয় কাজের সমন্বয়ের সূত্রধর অবনী।  দলকে সর্বভারতীয় করে তোলার কর্মযজ্ঞ এবং বাংলা ও কেরলে দলের বিস্তারের লক্ষ্যে আদানপ্রদান এই দুই ধারাকে মেলানোর কঠিন কাজ একাই করেছেন ত্রিদিব চৌধুরি।  তাঁর এই সুবিশাল কর্মকাণ্ডের কাঠবিড়ালি  ছিলেন অবনী।  অবশ্যই নীতি নির্ধারণ বা রাজনৈতিক পথনির্দেশের ক্ষেত্রে নয়। দিল্লিতে দলের পরিকাঠামো হীন পরিস্থিতিতে কায়িক পরিশ্রম দিয়ে নেতাকে উদয়াস্ত সহযোগিতা করা। দল অবশ্যই এর উপযুক্ত মর্যাদা দিয়েছে অবনী রায়কে। ত্রিদিববাবুর শূন্য আসনে তাঁকে সাংসদ করে। দলের তিন চারজন পরিচিত নেতা রাজ্যসভায় যাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠে  অবনীবাবুকে হেয় করতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি। কিন্তু নেতৃত্বের ঋজুতার সামনে ওই নেতাদের ব্যক্তিস্বার্থের মুখোশ খুলে গেছে। এইসব নেতারাই দিল্লিতে কাজ উদ্ধারের জন্য অবলীলায় কেয়ার অফ ‘অবনী’ বা  ‘অবনী দা’ হয়েছেন চিরকাল। কারণ, সাউথ, নর্থ ব্লক থেকে সংসদীয় সচিবালয়ের অন্ধিসন্ধি এবং মন্ত্রী ও সচিবদের কার রুম কোথায় ও কে তাঁদের  রেফারেন্স   সবই ছিল অবনীদার নখদর্পণে। আরএসপির তো বটেই অন্য দলের অনেক নতুন সাংসদদেরকেও তিনি রাজধানীর ক্ষমতার অলিন্দের অন্দরবাহির চিনিয়েছেন। শুধু কি সাংসদ বা রাজনৈতিক কর্মীদের গাইড ? এমপিদের পারসোনাল স্টাফদেরও মুস্কিল আসান অবনীদা রুটিরুজির স্বার্থে ভাগ্যান্বেষণে নানা রাজ্য থেকে দিল্লির মসনদী ভুলভুলাইয়ায় পা রাখা ছেলেরা লোকমুখে অবনীদার নাম শুনে তাঁর শরণ নিত। এবং যে রাজধানীতে স্বার্থের আদানপ্রদান ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না সেখানে অবনী দার ১৭, ফিরোজ শাহ রোডের এমপি বাংলোর দরজা ছিল অবারিত। যার থাকার জায়গা নেই তাকে মাথাগোঁজার জন্যে অন্তত দুদিনের আশ্রয়, যার খাবার পয়সা নেই তার খিদে মেটানো ,এবং যার কাজ দরকার তাকে কাজের চেষ্টায় নামার হদিস দিতেন অবনী দা। সতীর্থ সাংসদদের কতজনের সচিব জুগিয়েছেন যে তিনি, তার হিসেব নেই। আর সেই সঙ্গে কাজ পেয়েছে বেকার ছেলেরা। এইসব কাজের দালালি করার মতো লোকের অভাব নেই দিল্লিতে। ফলে  অবনীবাবুর বিরুদ্ধে আঙুল তোলার মতো লোকেরও অভাব ছিল না। তারা নানা রঙ চড়ানো গপ্পো ছড়াত। যদিও তাতে অবনীদার অঙ্গহানি হয়নি। কালক্রমে মানুষ সেইসব প্রচারকদের চিনেছে। যারা নিজের গায়ের কালি লুকোতে অন্যের জামা ধার করে। অবনীদার বিরুদ্ধে কানে আসা বন্ধু নেতাদের বহু অভিযোগ অসার প্রমাণিত হতে দেখেছি সচক্ষে, সেসব যথাসময়ে যথাযথভাবে  লিখব। আজ মাটির ওপর পা ফেলে চলা একজন জীবন পথিকের স্মৃতিচারণের সঙ্গে সেসব মেলাব না। অবনীদার সবচেয়ে বড় জোর ছিল তাঁর আম আদমি ইমেজ। ছোট দলের বড় দায়িত্ব পালন করেছেন আজীবন।  তাই বড় দলের ছোট ভাইরা কষ্ট পেত। অবনীদা ইউপিএ সমন্বয় কমিটিতে বা যুক্তফ্রন্ট স্টিয়ারিং কমিটিতে যাঁদের সঙ্গে বসতেন তাঁরা সনিয়া গান্ধী থেকে জ্যোতি বসু, মনমোহন সিং, হরকিষেন সিং সুরজিৎ থেকে লালুপ্রসাদ, ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত বা বর্ধন থেকে করুণানিধি, ফারুক আবদুল্লা থেকে চন্দ্রবাবু নাইডু কিংবা প্রণব মুখার্জি থেকে প্রকাশ কারাট বা সীতারাম ইয়েচুরি।  এই রাজনীতির  চাঁদের হাটে নিজের  দলের প্রতিনিধি হিসেবে থাকলেও তিনি কিন্তু অন্য অনেকের মতো স্বঘোষিত কাপ্তান  ছিলেন না। দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বসতেন পারস্পরিক মর্যাদায়।  এবং বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে তাঁকে “হীরো” সাজতে দেখিনি শুনিনি কখনও।  তাও সতীর্থদের ঈর্ষার পাত্র না হয়ে উপায় ছিল না তাঁর। কনিষ্ঠ কোনও কোনও বাম ভাইয়ের “লীডার” চিমটিতে বেশ মজা পেতেন অবনীদা। অবনীদার একটা বৈশিষ্ট্য ছিল সবার সঙ্গে সবার মতো করে মেশা। তথাকথিত কিছু “সর্বভারতীয়” নেতার মতো ক্যামেরায় কামড় দেওয়ার নেশা ছিল না। কিন্তু দলের প্রয়োজনে অবনীদার ডাকে যেভাবে মিডিয়াময় হয়ে উঠত ১৭ নম্বর  ফিরোজ শাহ রোডের লন সেটা অবশ্যই ঈর্ষণীয় অন্য সমগোত্রীয় দলগুলোর কাছে। জনসম্পর্ক করতেন সম্পূর্ণত দলের জন্য। সেই সম্পর্ককে নিজের মতলব সিদ্ধির সিঁড়ি করার তাগিদ দেখিনি কখনও।  বরং তাঁর অন্য মিডিয়াকাতর কমরেডদের মুখ দেখানোর মাতামাতি এড়িয়ে নেপথ্যেই থাকতেন। জানতেন কোনটা খবর, এবং সাংবাদিক কোনটা কতটুকু লিখবেন বা দেখাবেন। স্বধর্মে নিধন শ্রেয় মনে প্রাণে মানতেন অবনীদা। ময়ূরপুচ্ছধারী কাক হননি কখনও।  তাই প্রণববাবুর মতো রাষ্ট্রনায়কের কাছেও তাঁর সম্মান ছিল। ব্যস্ততার মধ্যেও অবনীবাবুকে সময় দিতে খেদ ছিল না প্রণববাবুর। বহু  জটিল রাজনীতির জট খুলতে তাঁর কাছে যেতেন। রাজধানীতে অবনীদার বিচরণ তো স্বচ্ছভাবেই দেখেছি। বিপরীতমুখী শিবিরের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন দলের  রাজনৈতিক অবস্থান অবিকৃত রেখে।মাত্রাজ্ঞান থাকার কথাই তাঁর।  কারণ তিনি ত্রিদিববাবুর ছায়াসঙ্গী। তাই কট্টর সিপিএম বিরোধী হয়েও সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময় ব্যক্তিগত ভাবে শোভনতা বজায় রেখে চলেছেন। মধুর সম্পর্ক ছিল তাঁর দলের রাজ্য নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর সঙ্গে।” ক্ষিতি ” আগে চলে যাওয়ায় কষ্ট পেয়েছিলেন। দলের নেতা ক্ষিতিবাবুকে ছোট ভাইয়ের মতো ভালবাসতেন। তাছাড়া নেতার প্রতি আনুগত্য তো ছিলই। জীবনসন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে যখন, সেসময় ক্ষিতি গোস্বামীর সিদ্ধান্তেই দিল্লির বিএল কাপুর হাসপাতাল থেকে বেরনোর কিছুদিন পর অবনীবাবুকে আরএসপির রাজ্য দপ্তরের তেতলার ঘরে নিয়ে আসা হয়। দিল্লি থেকে এলে বরাবর ওখানেই থাকতেন। সেরিব্রাল হ্যামারেজের পর কথা কিছুটা জড়িয়ে গিয়েছিল। তাও ন’মাসে ছ’মাসে ফোন করতেন। তখন তো আর নেতা নন, সাংসদ নন। তাঁর কাছে দেবার মতো কোনও খবরও নেই। তখন মানুষটার, তাঁর নিঃস্বার্থ ভালবাসার জলছবি দেখতে পেতাম শুনতে পেতাম গলার ভাঙা স্বরে, কখনও কষ্ট চেপে কথা বলার চেষ্টায়। অবনীদার সেন্স অথবা বাংলায় যাকে আক্কেল বলে সেটা প্রখর ছিল। হিন্দিতেও চোস্ত “অকলমন্দ” অবনীদা বুঝতে পারছিলেন, ক্ষিতি আর তাঁকে টানতে পারছেন না। ক্ষিতি একথা বলেননি, বোঝাতেও চাননি। বরং এক নন হোলটাইমার অনুজের অবজ্ঞার জবাব দিয়েছেন  অবনীদাকে পার্টি অফিসে  রাখার সিদ্ধান্ত কায়েম রেখে। তার কিছুদিন পর ক্ষিতি গোস্বামীর প্রস্থান দল ও পৃথিবী থেকে। তার আগেই অবশ্য কলকাতার  পার্টি কমিউনের মায়া কাটিয়ে শেষবারের মতো কেরলের কমরেড প্রেমচন্দ্রনের সাংসদ আবাসে অতিথি হলেন অবনী রায়। নিজের অবসরের পর থেকেই  প্রেমচন্দ্রনের বাংলোয়।  একা নয়। সংসার সহ।সংসার বলতে  ভাই সুভাষ ও পুত্রবৎ বরুণ। গৃহস্বামী কিন্তু অবনী রায়।  সেটা আমৃত্যু বলেছেন কমরেড প্রেম। প্রয়াত কমরেডের  প্রতি ওঁর প্রেম একটা ক্রিস্টাল হয়ে গেল যখন , সুভাষ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন শুনে তিনি বললেন, “তুমি যাচ্ছ কেন ।আমি তো তোমাকে যেতে বলিনি। যতদিন খুশি , থাকো। এখানেই থাকো। ভাব অবনীদার সঙ্গেই আছ।”

আসলে বাংলার জলে কি আর্সেনিক প্রচণ্ড বেশি ?  আর কেরলের  জলে এই সমস্যাটা কি একদম নেই ?

সতের নম্বর বাড়িটা ছিল দিল্লির পরিবর্তনের রাজনীতির সাত সতেরোয় সরগরম। কাছেই অন্ধ্রভবনে হত যুক্তফ্রন্টের মুস্কিল আসান মিটিং। সেই ‘৯৬ থেকে ‘৯৮। মিটিং শেষ হতে দুপুর রাতে চন্দ্রবাবু বললেন,” অবনী দাদা, চলুন আপনাকে আমি বাড়িতে ছেড়ে দেব। এত রাতে আর হেঁটে যাবেন না। যুক্তফ্রন্টের কনভেনর, অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু হবু প্রধানমন্ত্রী গুজরাল আর কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরীর সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার মুখে ফিরোজ শাহ আর কস্তুরবা গান্ধী মার্গের মোড়ে থামলেন। মোড়ের বাড়িটাই অবনীদার।  ওটাই আরএসপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদর দপ্তর।

ওই বাড়িতে গিয়ে আমরা ক’জন বলতাম অবনী(দা) বাড়ি আছ ? সত্যিই রাতের কড়া নাড়ার শব্দটা রণিত হত কলিংবেলে। বোঝাই যেত, ঘুমিয়ে আছে পাড়া। এখন সেদিনের কথা মনে পড়ছে। সেও বড় সুখের সময় নয়। আর  সুভাষ বলছে, “অবনী দা  বাড়িতে নেই।” শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবনী আর এই অবনীদার পার্থক্যটা আকাশ পাতাল। তাই হাজারো চেষ্টাতেও মেলানো যাবে না। কিন্তু একটা কথা মিলছে, দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া।  …..শুনি রাতের করা নাড়া।  শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন ছিল ২৫ নভেম্বর।  আর একেবারেই অকাব্যিক অকিঞ্চিৎকর  এক রাজনৈতিক কর্মী অবনী দা চলে গেলেন বাড়ি ছেড়ে ওই দিনেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.