সম্প্রীতি’র দরকার নেই, মুর্তিভাঙ্গা বন্ধ করুন

২৬ ডিসেম্বর ২০২০, নিউইয়র্ক।। ঢাকার নবাবগঞ্জে শীতলা মন্দিরের প্রতিমা ভেঙ্গেছে দুর্বৃত্ত। দৈনিক ইত্তেফাক ও কালেরকন্ঠ ২২ ডিসেম্বর ২০২০ এ সংবাদ ছাপিয়েছে। ডেইলি ষ্টার ১২ ডিসেম্বর ২০২০ জানিয়েছে পাবনায় কালীমন্দিরের মূর্তি ভাঙ্গার কথা। মূর্তিভাঙ্গা বাংলাদেশে নুতন কোন ঘটনা নয়, বলা যায় রুটিন। এ অপকর্মটি হয় ধর্মীয় জোশে। যাঁরা ভাঙ্গে তাঁরা জানে বা বিশ্বাস করে পরকালে এজন্যে তাঁরা পুরস্কৃত হবে? রাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়না, এতে দুর্বৃত্ত উৎসাহী হয়। 

এমনিতে এসব অপরাধী ধরার সময় বা মানসিকতা পুলিশের নেই? তবু মূর্তি ভাঙ্গতে এসে মাঝে-মধ্যে অপরাধী ধরা পরে। পুলিশ কোন চার্জশিট দেয়না, বরং দুর্বৃত্তকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে ছেঁড়ে দেয়! বাংলাদেশে ইতিহাসে হাজার হাজার মূর্তি ভাঙ্গা হয়েছে, আজ পর্যন্ত একজনের বিচার হয়নি। কেউ চাইলে হাজারো মূর্তি ভাঙ্গার প্রমান দিতে পারবো; কিন্তু একজন অপরাধী এ অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন এমত প্রমান কেউ দিতে পারবেন না, চ্যালেঞ্জ।  

বাংলাদেশের দন্ডবিধি অনুযায়ী মূর্তিভাঙ্গা দণ্ডনীয় অপরাধ। ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে মূর্তিভাঙ্গা হয়। এজন্যে সরকার বিচার করেনা বা করার সাহস পায়না। সরকার বলে দিক না কেন যে, মূর্তিভাঙ্গার বিচার হবেনা? সরকার তাও বলবে না, শুধু বলবে, বাংলাদেশে চমৎকার সম্প্রীতি বিদ্যমান! জিয়া, খালেদা জিয়া, এরশাদ-র মুখে জাতি এ কথা বহুবার শুনেছে, এখন মন্ত্রীরা বলেছেন! সম্প্রীতি’র একটি দৃষ্টান্ত দেই, বাংলাদেশে একটি ধর্ম মন্ত্রণালয় আছে, পুরো মন্ত্রণালয়ে একজন হিন্দুও নেই?   

বাংলাদেশে সম্প্রীতি’র জ্বালায় হিন্দুরা অতিষ্ঠ। সম্প্রীতি’র দরকার নেই, মুর্তিভাঙ্গা বন্ধ করুন। রমনা কালীবাড়ির সকল সম্পত্তি ফেরত দিন! ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে জাতীয় মন্দির ঘোষণা করুন। বাংলাদেশে গত পঞ্চাশ বছরে এমন কোন বড় মন্দির নেই, যা কখনো না কখনো আক্রান্ত হয়নি। সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়নি, কারো বিচার করেনি। ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কিছু সম্পত্তি জবর-দখল থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, এজন্যে তাকে ধন্যবাদ। 

বাংলাদেশে পূজা এলে প্রতিমা ভাঙ্গে এটি সবাই জানে। ২০১৯’এ দূর্গা-পূজার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা ভাংচুরের সব ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক নয়, এখানে নেতৃত্ব নিয়েও সমস্যা আছে। যেগুলো উদ্দেশ্যমূলক সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি’। মন্ত্রীর কথায় দুর্বৃত্ত উৎসাহিত হবে? তিনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন তা তিনিই জানেন। তবে দুর্গাপূজায় পুলিশ না থাকলে ‘সম্প্রীতি’ টের পাওয়া যেতো। একই সময়ে ঢাকা ভার্সিটি’র শিক্ষক আনিস আলমগীর দেবী সরস্বতী নিয়ে মুখরোচক মন্তব্য করেন। প্রতিবাদের মুখে তা প্রত্যাহৃত হলেও তিনি যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন, তা হচ্ছে, মাটির মূর্তি দেখে যাঁদের ‘চুলকানি’ ওঠে, জ্যান্ত মানবী তাদের কাছে কতটা নিরাপদ?  

বাংলাদেশে মূর্তিভাঙ্গা কি কোনদিন বন্ধ হবে? এর সহজ উত্তর, না হবেনা। তবে সরকার বিচার করলে এটি কমে আসবে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা দেখা যায়নি। এ সময়ে সরকার ৫০০টি মডেল নসজিদ বানাচ্ছে, জনসংখ্যা অনুযায়ী সেক্ষেত্রে সরকারের অন্তত: ৫০টি হিন্দু-মন্দির তৈরী করার কথা, আজ পর্যন্ত এ রকম কোন ঘোষণা আসেনি, আসার সম্ভবনা দেখিনা! বরং রমনা কালীবাড়ি তৈরী করে দিচ্ছে ভারত? ওই যে বলছিলাম, ‘সদিচ্ছা’, মন্দির তৈরী বা মূর্তি ভাঙ্গা বন্ধে সরকারের সদিচ্ছার বড়ই অভাব রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *