‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ বাদ পড়ায় বাংলাদেশী পাসপোর্ট সার্বজনীনতা পেয়েছে

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ দু’টি উঠে যাচ্ছে। যাচ্ছে বললে ভুল হবে, ‘উঠে গেছে’। এটি ভালো উদ্যোগ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে শব্দ দু’টি তুলে দেয়া হয়েছে’। দুই মন্ত্রীর কথার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশের পাসপোর্টে এখন যেকোন দেশে যাওয়া যাবে। এখন যাঁরা নুতন পাসপোর্ট পাচ্ছেন, সেখানে ওই শব্দ দু’টি নেই। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি উৎসবে এটি একটি ইতিবাচক সংযোজন। ইসরাইল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে দেরি করেনি, তদানীন্তন সরকার তা ফিরিয়ে দেন। পাসপোর্টে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দু’ দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রথম পদক্ষেপ?

‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ দু’টি বাদ দেয়ায় গোস্বা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনী দূত, তিনি বলেছেন, ‘এটি অগ্রহণযোগ্য’। উইকিপিডিয়া জানায় অসলো চুক্তির অংশ এবং খার্তুম প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী হিসাবে ষ্টেট অফ প্যালেস্টাইন ১৯৯৩ সালে ইসরাইলকে মেনে নেয় (এনিয়ে বিতর্ক আছে)। ফিলিস্তিনের পাসপোর্টে ইসরাইল ভ্রমন বৈধ। তাই স্বভাবত: প্রশ্ন উঠে, ফিলিস্তিনি দূত কি ঢাকায় বসে একথা বলতে পারেন? সদ্য বাংলাদেশ ইসরাইলের নিন্দা করে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। জন্মের পর থেকে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকে সমর্থন করে আসছে, অধিকাংশ মুসলিম দেশ তাই করছে। অধুনা সময় পাল্টাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনের সমর্থন কমছে, মুসলিম দেশগুলো ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছে।  

বঙ্গবন্ধুর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ছিলো, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’- সেই নীতি মেনে ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ দু’টি বাদ দেয়া সঙ্গত হয়েছে। ২০২০সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৬৪-টি দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২৮-টি দেশ দেয়নি, এরমধ্যে ১৫টি আরবলীগ সদস্য, ১০টি ওআইসি সদস্য, বাকি তিনটি অ-মুসলিম দেশ হচ্ছে, কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ভেনিজুয়েলা। মিশর ও জর্দানের সাথে ইসরাইলের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। আরো চারটি আরব দেশ, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুদান ও মরক্কো ২০২০-সালে ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে। আল-আকসা মসজিদ ইসরাইলের ভেতরে, বাংলাদেশের নুতন পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে যাওয়া যাবে। 
এ নিউজ প্রকাশের পর আমার ১৯৮৯-এর পাসপোর্টটি উল্টে-পাল্টে দেখলাম, ঢাকা থেকে ইস্যুকৃত এ পাসপোর্টের ৫-এর পাতায় লেখা ‘অল কান্ট্রিজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সেপ্ট ইসরাইল, তাইওয়ান এন্ড দি রিপাবলিক অফ সাউথ আফ্রিকা’। ১৯৯৪সালের নিউইয়র্কে সেটি নবায়ন করি, তখন ৫-এর পাতার ওপরের লেখাটি কেটে বলা হয়, ‘অল কান্ট্রিজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সেপ্ট ইসরাইল’। ২০০৭-এ একইভাবে লেখা ইসরাইল যাওয়া যাবেনা। আমার আমেরিকান পাসপোর্টে ওসবের বালাই নেই, তবে এখনো ইসরাইল যাওয়া হয়নি, যাবার তেমন কোন প্ল্যান মাথায় নেই। সদ্য ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, এবং প্রায়শ: সেখানে গোলাগুলি লেগেই থাকে, এরমধ্যে গিয়ে ‘সাধের প্রাণটা’ হারাতে কে চায়? তবে ওই শব্দ দু’টি না থাকায় বাংলাদেশ পাসপোর্ট ‘সার্বজনীনতা’ পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *