সাক্ষী না ডাকলে শুক্রবার ট্রাম্পের বিচার শেষ হয়ে যেতে পারে?

শিতাংশু গুহ, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, নিউইয়র্ক।। 

Image result for recent images of trump

ওয়াশিংটনে সাক্ষী ডাকা নিয়ে সলা-পরামর্শ চলার কারণে   বুধবার (২৯জানুয়ারি) প্রশ্নোত্তর পর্বে তেমন উত্তেজনা ছিলোনা। বৃহস্পতিবারও প্রশ্নোত্তর চলবে। এরপর সাক্ষী ডাকা নিয়ে ভোট। এজন্যে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তবে শুক্রবার ভোট হতে পারে? পূর্বাহ্নে সিনেট নেতা কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককোনেল ইঙ্গিত করেছিলেন যে, সাক্ষী ডাকা ঠেকানো যায় এমন ভোট তার হাতে নেই? বুধবার রাতে নিউজম্যাক্স জানাচ্ছে, সাক্ষী ঠেকানো তো বটেই, এমনকি বিচার শুক্রবার শেষ করে দেয়ার মত ভোট রিপাবলিকানদের হাতে আছে। সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর মাইক রাউন্ডস বুধবার (২৯জানুয়ারি) বলেছেন, আমরা বিচার কার্যটি শুক্রবার শেষ করে দেবো। বুধবার আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকোস্কি এবং মিচ ম্যাককোনেল’র মধ্যে এক বৈঠকের পর এই আশাবাদ সৃষ্টি হয়। লিসা মারকোস্কি-কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। মারকোস্কি কিছুটা নমনীয় এবং সাক্ষী ডাকার অনুকূলে ছিলেন। উত্তাহ’র রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনী, এবং মেইন’র রিপাবলিকান সিনেটর সুজন কলিন্সও সাক্ষী ডাকার পক্ষে ছিলেন। সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (৫১ভোট) সাক্ষী ডাকা যায়। ডেমক্রেটদের ৪৭টি ভোট আছে, দরকার অতিরিক্ত ৪টি ভোট। চারজন রিপাবলিকান ইতস্ততঃ নিমরাজি হচ্ছিলেন। কিন্তু এখন ক’জন আছেন বলা মুশকিল। এরমধ্যে সংবাদ রটেছে যে, তিনজন ডেমক্রেট সিনেটর প্রেসিডেন্টের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আর কোন আশা থাকবে না? ট্রাম্পের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের বই’র কিছু অংশ প্রকাশ হয়ে গেলে সাক্ষী ডাকার বিষয়টি জোরদার হয়, কিন্তু সেটি রিপাবলিকান শিবিরে ভাঙ্গন ধরাতে পারেনি। বোল্টনের এটর্নি জানিয়েছেন, বইয়ে কোন ক্লাসিফাইড তথ্য নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বোল্টনের নাম না নিয়েই তার বইকে ‘বাজে ও অসত্য’ মন্তব্য করে বলেছেন, তিনি বোল্টনের কথা শুনলে এতক্ষনে ষষ্ট বিশ্বযুদ্ধ লেগে যেতো। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানী বুধবার জন বোল্টনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘নষ্ট চরিত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন। রোববার রাতে বোল্টনের বই নিয়ে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, বুধবার রাতে তা অনেকটা প্রশমিত। সিনেটরগন মোটামুটি পার্টি লাইনে ফিরে গেছেন। এরআগে ট্রাম্পের ডিফেন্স টীম মঙ্গলবার তাদের তিনদিনব্যাপী শুনানী শেষ করেছেন। পূর্বাহ্নে হাউস ম্যানেজারগন তিনদিন বক্তব্য রেখেছেন। সিনেট নেতা মিচ ম্যাককোনেল জানিয়েছেন, পরিবর্তী দু’দিনে ষোলঘন্টা সিনেটরগন উভয় পক্ষকে লিখিত প্রশ্ন করতে পারবেন এবং প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সেইসব প্রশ্ন সিনেটে পাঠ করবেন এবং এনিয়ে আলোচনা চলবে। এরপর সাক্ষী ডাকা হবে কিনা তা নিয়ে ভোটাভুটি হবে। সাক্ষী কি ‘উভয় পক্ষ থেকে একজন করে’ নাকি শুধু ডেমক্রেটদের সাক্ষী জন বোল্টন? রিপানালিকানরা জো বাইডেন অথবা হান্টার বাইডেনকে ডাকার পক্ষে। অথবা হান্টার বাইডেনকে ডাকার পক্ষে। সিনেটে সাক্ষী ডাকার সিদ্ধান্ত পাশ না হলে বিচারকার্য দ্রুত শেষ হবে। সাক্ষী ডাকলে বিচার হয়তো পুরো ফেব্রূয়ারি চলবে। যাই হোক, বিচারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘অপসারিত’ হবেন, এমনটা কেউ ভাবছেন না? ট্রাম্পের ডিফেন্স টীম নির্ধারিত চব্বিশ ঘণ্টা সময় ব্যবহার করেননি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় উভয় পক্ষ এখন সাক্ষী প্রশ্নে ব্যস্ত। রোববার রাতে নিউইয়র্ক টাইমস জন বোল্টনের প্রকাশিতব্য বইয়ের কিয়দংশ প্রকাশ করলে সাক্ষী ডাকা অনেকটা অনিবার্য হয়ে উঠে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এটর্নি প্যাট সিপোলোন তার সমাপনী ভাষণে ইম্পিচমেন্টকে ডেমোক্রেটদের নির্বাচনকে উল্টে দেয়ার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করে বলেন, এটা গণতন্ত্রকে ব্যাহত করবে। তিনি বলেন, সিনেটরদের উচিত হবে আমেরিকান জনগণের ভোটের ওপর আস্থা রাখা। অপর ডিফেন্স এটর্নি জে সেক্যুলো বলেন, ডেমক্রেটরা ইম্পিচমেন্টের ষ্ট্যান্ডার্ড নামিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ইম্পিচমেন্ট কোন ‘লিক’ বা ‘অসমর্থিত পাণ্ডুলিপি’র মত মামুলি বিষয় নয়? একথা বলে তিনি মূলত জন বোল্টনের বই’র প্রসঙ্গ টেনেছেন। যদিও সমাপনী বক্তব্যে  ট্রাম্পের ডিফেন্স টীম জন বোল্টনের বই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। অপর এটর্নি প্যাট্রিক ফিলবিন বলেছেন, ডেমক্রেটদের ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া পূর্ব-পুরুষদের চিন্তার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাদের আনীত ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ অভিযোগ দুর্বল, ভিত্তিহীন।   ট্রাম্পের সাবেক চিফ অফ ষ্টাফ অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জন কেলী বলেছেন, তিনি জন বোল্টনকে বিশ্বাস করেন।  রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিন বলেছেন, বোল্টনের বইয়ের কাহিনী নুতন কোন তথ্য নয়। সিনেট মাইনোরিটি নেতা ডেমোক্রেট চাক শ্যুমার বলেছেন, বোল্টনের তথ্যে রিপাবলিকানদের সতর্ক হওয়া উচিত, কারণ হয়তো আরো নুতন তথ্য আসবে? রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, তিনি বোল্টনের ম্যানুস্ক্রিপ্ট পড়তে চান। অপর রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বোল্টনকে প্রকাশ্যে কথা বলার আহ্বান জানান। রবিবার (২৬ জানুয়ারি ২০২০) রাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায় তাঁরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের প্রকাশিতব্য বইয়ের একটি খসড়া কপি হাতে পেয়েছে। এতে তিনি বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে ৩৯১মিলিয়ন ডলার সামরিক সাহায্যের বিনিময়ে ‘বাইডেনদের’ তদন্ত জুড়ে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের ট্রাম্প পরিষ্কার বলেছেন, তিনি বোল্টনকে কখনো অমন কথা বলেননি। তিনি বলেন, বই বিক্রির জন্যে বোল্টন মিথ্যা বলছেন। জন বোল্টন কি মিথ্যা বলছেন না সত্য, তা কে নির্ধারণ করবেন? বোল্টন জানাচ্ছেন, সিনেট তলব করলে তিনি সাক্ষী দেবেন। ফিলাডেলফিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট্রিক জে.টুমে সতীর্থ সিনেটরদের সাথে আলোচনা চালাচ্ছেন, ‘ওয়ান ফর ওয়ান’ অর্থাৎ ডেমোক্রেটরা একজন, রিপাবলিকানরা একজন সাক্ষী ডাকার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছতে। রোববারের বোল্টনের বম্বশেল তথ্য প্রকাশের পর সাক্ষী ডাকা অনেকটা অপরিহার্য্য হয়ে পড়ে। রিপাবলিকান সিনেটর মিট রামনি বলেছেন, ‘সম্ভবনা বেড়েছে’’। জুলিয়ান বলেছেন, চার মাস আগে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া’ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত নুতন কোন তথ্য আসেনি। প্রেসিডেন্ট কোন অপরাধ করেননি। নির্বচনের দশ মাস বাকি। ওয়াশিংটন পোষ্ট-এবিসি সোমবার (২৭জানুয়ারি) এ জরিপ প্রকাশ করে বলেছে, ৪৯% ভোটার মনে করেন ট্রাম্প পুন্:নির্বাচিত হবেন। ৪৩% মনে করেন ডেমোক্রেটরা জিতবেন। ৮৭% রিপাবলিকান মনে করেন ট্রাম্প জিতবেন। ৭৮% ডেমক্রেটের মতে তারা জিতবেন। অন্যদিকে, ‘রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স’ দশটি জরিপ চালিয়ে বলেছে, ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রূয়ারির পর ট্রাম্প এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। জানুয়ারি ১৩-২৮, ২০২০ নেয়া জরিপে দেখা যায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪৫.৬%।  শনিবার (২৫ জানুয়ারী ২০২০) ওপেনিং ষ্টেটমেন্টে প্রেসিডেন্টের ডিফেন্স টীমের প্রধান হোয়াইট হাউস কাউন্সেল প্যাট সিপোলোন বলেছেন, নির্বাচনী বছরে প্রেসিডেন্টকে অপসারণে ডেমক্রেটদের প্রচেষ্টা দেশের জন্যে “ভেরি ভেরি ডেঞ্জারাস”। তিনি বলেন, সিনেটররা তেমনটা করলে ভোটারদের অধিকার থেকে বঞ্চনা করা হবে। শনিবার দুই ঘন্টা অধিবেশনের পর সোমবার সকালে পুনরায় শুরু হয়। ডিফেন্স টিম বলেছেন, ‘কোন অপরাধ সংগঠিত হয়নি। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অপব্যবহার’। তারা বলেন, প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করার জন্যে একটি ‘অপরাধ’ সংঘটনের প্রয়োজন, এক্ষেত্রে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়নি।  ট্রাম্প ডিফেন্স টীমের ওপেনিং শুনানীর পর শনিবার হোয়াইট হাউস মনে করছেন যে, একজন ডেমক্রেট সিনেটর হয়তো পক্ষ ত্যাগ করে প্রেসিডেন্টকে সমর্থন দেবেন। রিনি হচ্ছেন ওয়েষ্ট ভার্জিনিয়ার সিনেটর জো মানচিন। তিনি ট্রাম্প এটর্নীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যদিও জো মানচিন সাক্ষী ডাকার পক্ষে সায় দিয়েছেন। এদিকে ওয়াশিংটন পোষ্ট-এবিসি নিউজ জরীপ জানাচ্ছে, এই প্রথম জো বাইডেন এবং বার্নি স্যান্ডার্স অন্য প্রার্থীদের বেশ পেছনে ফেলে ডেমক্রেট মনোনয়নের দিকে এগিয়ে গেছেন। রবিবার (২৬জানুয়ারি) প্রকাশিত এ জরীপে ডেমোক্রেট ভোটাররা বাইডেন ৩২%; স্যান্ডার্স ২৩% সমর্থন জানিয়েছেন। এলিজাবেথ ওয়ারেন মাত্র ১২%, যা অক্টবর জরীপের প্রায় অর্ধেক (২৩%)। একই দিন সিনেট রিপাবলিকানরা দাবি করেছেন, হাউস ম্যানেজার প্রধান এডাম শিফ তাদের অপমান করেছেন এ কথা বলে যে, ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিলে প্রেসিডেন্ট তাঁদের শায়েস্তা করবেন। এডাম শিফ তার সমাপনী ভাষণে শুক্রবার ‘অজ্ঞাতনামা’ সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছিলেন যে, হোয়াইট হাউস রিপাবলিকান সিনেটরদের সতর্ক করে দিয়েছে যে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁদের অবস্থা শোচনীয় হবে। তিনি এও বলেছেন, ‘আমি জানিনা এটি সত্য কিনা’? পূর্বাহ্নে  সিবিএস নিউজ ‘অজ্ঞাতনামা হোয়াইট হাউস সূত্রের’ বরাত দিয়ে এ তথ্য পৰিবেশন করেছিলো। ডেমক্রেট হাউস ম্যানেজাররা সিনেটে তিনদিনব্যাপী চব্বিশ ঘন্টা শুক্রবার (২৪জানুয়ারি ২০২০) শেষ করেছেন। সমাপনী বক্তব্যে ম্যানেজারদের নেতা হাউস ইন্টিলিজেন্স কমিটি’র প্রেসিডেন্ট এডাম শিফ বলেন, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং তা ঢাকতে কোন প্রকার সহযোগিতা না করে কংগ্রেসের অবমাননা করেছেন। একই দিন তার কথা শুনে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান পিটার কিং নিউজম্যাক্স টিভিকে বলেন, এডাম শিফ’র বক্তব্য-কে গুরুত্ব দেয়ার কোন কারণ নেই। শুক্রবার (২৪জানুয়ারি ২০২০) এডাম শিফ সিনেট হাউসে দশটি কারণ দেখিয়ে সিনেটরদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন, তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার সাথে আপোষ করেছেন, কিন্তু কোন লাভ হয়েছে বলে মনে হয়না। তিনদিনে ম্যানেজাররা প্রমান করতে চেষ্টা করেছেন যে, ট্রাম্প অসৎ পন্থায় তার প্রতিদ্ধন্ধী জো বাইডেন’র বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। রিপাবলিকানদের মতে, হাউস ম্যানেজাররা নুতন কোন তথ্য-প্রমান আনতে পারেননি, বরং ‘পুরাতন গীত’ গেয়েছেন।  হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে হারাতে পারেন, তবে তিনি দাঁড়াচ্ছেন না, বরং ডেমোক্রেট প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। হাওয়াই’র ডেমোক্রেট কংগ্রেসম্যান তুলসী গ্যাবার্ড সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে ৫০মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *