অতিমারী ও একজন সাহসী যোদ্ধা ডাক্তার সমীর সরকার

রনজিৎ সাহা

জন্ম এবং মৃত্যু এ দুটোর মাঝেই জীবন। জন্মের পরে জীবনের চাকা ঘুরতে ঘুরতে একসময় মৃত্যুতেই পতিত হয়।তবে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুকেই প্রত্যাশা করি। মৃত্যু যদি হয় অস্বাভাবিক অথবা অপ্রত্যাশিত তবে সেটা হল আমাদের জন্য খুবই দু:খের এবং কষ্টের। তারপরও কষ্ট হলেও সবকিছুই একসময় মেনে নিতে হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন প্রতিকূলতার শিকার হয়ে অকালে ঝরে গেছে অনেক তাজা প্রান। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মহামারী উল্লেখযোগ্য। যখনই কোন না কোন মহামারী বা অতিমারী আক্রমণ করে তখন ডাক্তারে ভূমিকা অন্যতম।এক কথায় বলতে গেলে মহামারী আক্রান্ত অসহায় মানুষের চোখে  ডাক্তাররাই হয়ে উঠেন প্রকৃত হিরো বা ভগবান।
        আমরা এখন তেমনই এক মহামারীর চেয়েও ভয়ঙ্কর অতিমারীর শিকার। এটি হল করোনা ভাইরাস পেন্ডামিক। সাধারন মানুষ যখন প্রান ভয়ে ঘরে বসে কোয়ারেন্টাইনে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছে ঠিক তখন ডাক্তাররা জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ভাইরাস আক্রান্ত মানুষগুলির সংস্পর্শে এসে তাদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। এরকমই একজন সাহসী মানবিক ডাক্তারের কথা বলব। ডক্টর সমীর সরকার ৬৬ বছর বয়সেও প্রাণরসে ভরপুর নবীন যুবকের মতো উদ্যোমী কর্মী । যিনি জ্যামাইকা হসপিটালে দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসা সেবায় নিয়োযিত রয়েছেন।ওনার সুযোগ্যা কন্যাও একই পেশায় নিয়োযিত প্রাণা ।
    উনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে এই করোনা ভাইরাস নামক অতিমারীতে আক্রান্ত অসহায় মানুষগুলিকে আন্তরিক এবং নিরলসভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ওনার পেশাগত দায়ীত্বের বাইরেও কোভিদ-১৯ আক্রান্ত অসংখ্য মানুষকে আরলি প্রেসক্রাইব করে ঔষধ দিয়ে দ্রুত সুস্থ করে তুলেছেন। এদের মধ্যে আমার ব্যাক্তিগতভাবে পরিচিত কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব ও রয়েছে। এছাড়াও উনি উনার চিকিত্সাধীন যত রোগী আছে প্রত্যেকেরই নিজের থেকেই নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন এবং রাখছেন। ওনার সহধর্মিনীর নির্মলা গোলদার ও চিকিৎসাসাস্ত্রে একজন উচ্চশিক্ষিতা রমনী। তিনিও ওনার অবস্থান থেকে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এবং স্বামীর কাজে সম্ভব মতো সহযোগীতা করা । এক কথায় বলতে গেলে ওনার পুরো পরিবারটিই এই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সন্মূখ সমরে বীর যোদ্ধা।
        সকল ডাক্তার কিন্তু একরকম নয়। কিছু কিছু ডাক্তার কিন্তু প্রানভয়ে গা ঢাকাও দিয়েছেন। আসলে মানুষের মন থেকে যদি না আসে তবে সেবামুলক কাজ কখনো কাউকে দিয়ে জোর করে করানো যায়না। আবার যার করার অভ্যাস তাকে জোর করে থামানোও যায়না।
বঙ্কিম চন্দ্রের কপাল কূন্ডলা উপন্যাসের নব কুমার বাঘের পেটে যেতে পারে জেনেও অন্যরা যেখানে রাজী হয়নি নবকুমার সেখানে অন্যদের পেটের ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর জন্য বনে গিয়ে কাঠ আনতে রাজী হন। অর্থাৎ উপকার করবার যার স্বভাব সে বাঘের পেটে যাবে জেনেও সে উপকার করে।
        তেমনি আমাদের এই ডাক্তার সমীর সরকারও সামনের সারির করোনা যোদ্ধা হিসেবে একজন নব কুমার। পরিশেষে এটাই আমাদের বলতে হয়, উনি আমাদের বাঙালী কমিউনিটি , দেশের তথা সমগ্র মানব জাতির গর্ব। তিনি বহু সামাজিক কাজেও ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত । ওনার দীর্ঘায়ূ কাম্য, যাতে উনার দ্বারা আরো বেশি মানুষ উপকৃত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *