আবেগ ও সাধনে অপরূপ আজ দেশের ক্ষুদে বিজ্ঞানী

সুকন্যা পাল, দুর্গাপুর

বয়সে কৈশোরের দরজা পেরিয়ে সবে যৌবনের দুয়ারে পা ছুঁই ছুঁই। কিন্তু প্রজ্ঞা বিস্ফোরণে যে বিদগ্ধা বিশ্বকে অবাক করা। হ্যাঁ আদ্যন্ত প্রান্তিক দুনিয়ার এক অবাক করা অপরূপ রায়ের বিস্ময় প্রতিপাদ্যের কথাই বলছি।

ভারতের সর্ব কনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন দুর্গাপুরের অপরূপ রায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই গোপালমাঠ গ্রামের এই কিশোর রসায়ন শাস্ত্রে অসাধারণ ব্যুৎপত্তি অর্জন করায় তাঁকে আমেরিকার ‘নাসা’ থেকে কনিষ্ঠতম বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। দুর্গাপুরের ‘সেন্ট পিটার্স স্কুলে’ দশম শ্রেণীতে পড়াকালীনই তিনি দশম শ্রেণীর রসায়ন বিষয়ক পাঠ্যবই রচনা করেন। বর্তমানে তিনি ওই স্কুলেই একাদশ শ্রেণীতে পড়ছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর লেখা দুটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইন কেমিক্যাল সায়েন্সস’ নামে ওই দুটি জার্নালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণা পত্র দুটি আন্তর্জাতিক স্তরের বিজ্ঞান সাধনার আঙিনায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর লেখা ‘প্রবলেমস ইন জেনারেল কেমিস্ট্রি’ এবং ‘মাস্টার আইসিএসই কেমিস্ট্রি সেমেস্টার ১ ও ২’ বই দুটি বিভিন্ন স্কুলে সহায়ক পাঠ্যপুস্তক হিসেবে গৃহীত হয়েছে। প্লাস্টিককে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংশ্লেষন করে সেটি বায়ো প্লাস্টিকে রূপান্তরিত করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন অপরূপ। এই নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ‘বাইজুস ব্লগ’ থেকে তাঁকে ‘সুপার স্টুডেন্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অপরূপ ভারতের সর্ব কনিষ্ঠ বিজ্ঞানী যাঁর নাম কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ম্যাথামেটিক্যাল গেজেটে’ প্রকাশিত হয়েছে গণিতের কিছু অত্যন্ত দুরূহ এবং জটিল সমস্যার সহজ সমাধান করার সাম্মানিক স্বীকৃতি হিসেবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মিনি-পিএইচডি প্রোগ্রামে’ গবেষণা করার আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলা তথা ভারতের এই খুদে বিজ্ঞানী। নাসা পরিচালিত ‘ইও ড্যাসবোর্ড হ্যাকাথন’ নামে একটি গবেষণা প্রকল্পে সহকারী গবেষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি অপরূপ বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতি যোগিতায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পদক লাভ করেছেন।

যাঁকে নিয়ে এতো চর্চা সেই অপরূপ রায় বিনম্রতার সঙ্গে বলেন, “আমার জন্মস্থান আমার দেশ যেমন আমি ভুলতে পারি না। এই পবিত্র ভূমির প্রতি আমার আবেগ জড়িয়ে আছে। আবার অধ্যায়ন হলো আমার আমৃত্যু সাধনা। আমার এই সাধন বিলিয়ে দিতে চাই বিশ্বমানবের উত্তরণে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *