ধর্মান্ধতা ও রাজনৈতিক উদাসীনতা

প্রিয় সম্পাদক,
সংবাদ মতামত

ধর্ম যা বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন তুলেছে মানুষের মনোজগতে । ধর্মচর্চার মানে ততক্ষণ পর্যন্ত সদর্থক যতক্ষণ পর্যন্ত তা মানব সমাজের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল সাধিত হয়। ধর্মকথাটির মানে হল সত্য কিন্তু বর্তমানে তা বিভেদমূলক ধর্মীয় চর্চার সাংকেতিক চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আধ্যাত্মিকতার সাথে আমরা এই বিভেদমূলক ধর্মীয় চর্চার কোন মিল দেখতে পাই না।
পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মেই বিশেষ আচার-ব্যবহার রীতি নীতি প্রচলিত আছে। তেমনি ভাবে হিন্দু ধর্মেও পূজা-পার্বণ পুণ্যস্থান এমন অনেক কিছুই প্রচলিত আছে। কুম্ভমেলা তেমনই একটি বহু প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রীতির অন্তর্ভুক্ত। বৈষ্ণব ধর্মের রীতি মেনেই এই পূর্ণ স্থানের মেলা আয়োজন চলে আসছে বহুযুগ ধরেই। রাম দাস কাঠিয়া বাবা মহারাজ বৈষ্ণবধর্মে শ্রীমহন্ত পদে আসীন ছিলেন। কুম্ভমেলা সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজিত হয়। প্রতি ছয় বছর অন্তর হরিদ্বার ও প্রয়াগরাজ নামেও আয়োজিত হয়। এছাড়াও উজ্জয়িনী ও নাসিকে পুণ্য কুম্ভ আয়োজিত হয়। 2007 সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে 45 দিন ব্যাপী এই মেলা আয়োজিত হয়েছিল। প্রায় সাত কোটির বেশি হিন্দু তীর্থযাত্রী প্রয়াগে এই মেলায় যোগদান করেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস যখন প্রবল আকার ধারণ করে তখন তা আর ধর্মবিশ্বাসের পর্যায়ে থাকে না, তার সবথেকে বড় উদাহরণ হল 2021 সালে আয়োজিত কুম্ভ মেলা। একদিকে করোনা মহামারী তান্ডব আর অন্যদিকে কুম্ভ মেলার আয়োজন এই দুই রাজনৈতিক উদাসীনতাকে তুলে ধরেছে দৃষ্টান্ত হিসেবে। এই বছর ভিড় রেকর্ড না হলেও বহু মানুষ জমায়েত হন সেখানে। অথচ করণা মহামারীর সাধারন বিধিনিষেধর মধ্যে সবার আগে আসে জনবহুল স্থান থেকে দূরে থাকা। মানুষের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলো মানুষকে ধর্মীয় অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিভাবে? যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল এই কুসংস্কার মূলক আচরণ কে গনজাগরনের মাধ্যমে অতিমারীর থেকে সুরক্ষিত রাখা।
খালি তাই নয় ধর্মীয় অশিক্ষার আরো একটি প্রভাব আমরা দেখি জনৈক রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য। তাদের মতে গোমূত্র খেলে নাকি করোনা রোধ করা যাবে। তাই যদি সম্ভব হত, আমার মতে তাদের নিজেদের ওপর এর প্রয়োগ সবথেকে সহজ হওয়া উচিত।
সমাজের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ব যদি এইসব নেতৃবৃন্দ থাকত তবে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার কাজটি এত দক্ষতার সাথে করতো না আশা করি। এও এক ধরনের ধর্মব্যবসার অন্তর্গত বলা যেতেই পারে। যদিও পরবর্তী কুম্ভ মেলার সময় নির্ধারিত হয়ে গেছে এরই মধ্যে। 2028 সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই আয়োজিত হবে আগামী কুম্ভ মেলা।
একদিকে করোনা মহামারী দ্বিতীয় ঢেউ চলছে, তৃতীয় ঢেউ অক্টোবর মাস থেকেই শুরু হতে চলেছে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা ভারতে। তারা মনে করছেন এইবার তৃতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতার সম্মুখীন হতে হবে 18 বছরের কম বয়সী শিশু ও কৈশোরদের । আমরা সত্যিই বিপন্ন। সকল বয়সী ও সকল স্তরের মানুষের ওপর এই অতিমারীর ভয়াবহতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। একে নিয়ন্ত্রন করতে না পারার রাজনৈতিক ব্যর্থতাও সুস্পষ্ট। তবুও লড়াই করে বাঁচার আশা ছেড়ে দিলে হবে না। মানবজাতির ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। তাই একদিন আমরা বিজয়ী হব এই প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলেছে যুগ থেকে যুগান্তরের পথে।

বিখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার বলেছেন, “মানুষ যখন গভীর ঘুমে ডুবে থাকে তখন তার মুখ থেকে যাবতীয় বুদ্ধিপ্রসূত সতর্কতা উধাও হয়ে যায়”

জিপসি বোস,
নিউটাউন,কলকাতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *