নীট আন্দোলন ও আগামী দিনের কিছু প্রশ্ন

অরুণ কুমার
ভারতের নীট আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে। যদিও আপাতপক্ষে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন, কঠোর আইন প্রণয়ন এবং অনলাইন কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষার রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা আগামী দিনে কতটা বলিষ্ঠ রূপায়নে এবং স্বচ্ছতা তৈরিতে কার্যকর হবে তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সন্দিহান দেশের শিক্ষা ব্রতী মহল। এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আগের কিছু কথা এবং বর্তমান সময়ের নিরিখে চলুন একটু আলোকপাত করা যাক।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের দিকে একটু চোখ ফিরে তাকানো যাক।এই নীট আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল চলতি বছরে অর্থাৎ ৬ জুন ২০২৬ । প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সূত্রপাত এদিন থেকেই। তারপর নানান ঘটনাবলী মধ্যে দিয়ে ২৫ জুলাই ২০২৬ কেন্দ্রের আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার ও মন্ত্রীর পদত্যাগ ছবি আমরা দেখতে পাই। এর মাঝে যা কিছু হয়েছে তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এক বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে মূল কারণ নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার ত্রুটিপূর্ণ পরিচালনা বিরুদ্ধে আন্দোলন সংঘটিত হয় দেশের জাতীয় রাজ্য রাজধানী বুকে যন্তর মন্তর চত্বরে। যার মূল পরিনিতিতে আমরা দেখতে পাইকেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়া।
অর্থাৎ প্রায় দেড় মাস ধরে চলাকালীন এই আন্দোলনে নানান প্রশ্ন উঠে আসে এবং বর্তমানে এই নিয়ে সারা দেশ জুড়ে তর্ক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে এই প্রতিবাদী আন্দোলনের পেছনে যে ত্রুটিগুলো উঠে আসে অর্থাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংকটের মূল কারণ ও প্রভাব আমরা দেখতে পাই। একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনে পরীক্ষা হওয়ায় ক্ষুদ্র ত্রুটিও বিশাল জাতীয় সংকটের রূপ নেয়। এর পাশাপাশি কোচিং ব্যবস্থার দৌরাত্ম্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের ফলে সাধারণ ও গ্রামীণ মেধার চেয়ে আর্থিক সুবিধা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। সেই সঙ্গে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের ও তাদের অভিভাগ অভিভাবকদের মনে মানসিক আঘাত যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ আন্দোলন মাত্রা পেয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন বাতিল ও পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায় এবং মানসিক অবসাদের সম্মুখীন হয়েছে। এ ধরনের এক ট্রমা থেকে এখনো অনেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। কেউ কেউ আত্মহরনের পথ বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ ঠিক এইরকম আন্দোলনের আবর্তন হয়েছিল বিগত দেড় মাস ধরে। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের জেরে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে একাধিক ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষা বাতিল ও পুনঃপরীক্ষার ঘোষণার মধ্যকার সময়ে দেশজুড়ে অন্তত ১২ থেকে ২০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ অনেক শিক্ষার্থীর মনে তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।
অপরদিকে কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পরও হঠাৎ পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বহু শিক্ষার্থী গভীর হতাশায় ডুবে যান। অনেকেই আবার আত্মহরনের পথ বেছে নেন যাদের মধ্যে উঠে আসে এই সমস্ত পরীক্ষার্থী ছাত্রের নাম যথাক্রমে কাহান প্যাটেল,প্রদীপ কুমার এদের নাম উল্লেখযোগ্য। আমেদাবাদের কাহান প্যাটেল (১৭) নামক এই ছাত্র পুনঃনির্ধারিত পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগে আত্মহত্যা করে।অপরজন পরীক্ষা ভালো হওয়ার পরও তা বাতিল হওয়ায় হতাশ হয়ে এই ছাত্র চরম পদক্ষেপ নেন তার নাম প্রদীপ কুমার (২১)। অন্যান্য রাজ্য যেমন উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ড সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দেখা গিয়েছে নীট (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর ফলে পরীক্ষা বাতিল ও অনিশ্চয়তার জেরে একাধিক ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মিডিয়া রিপোর্ট ও পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, পরীক্ষা বাতিল, পুনরায় পরীক্ষা (Re-NEET) নিয়ে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি ভেস্তে যাওয়ার হতাশায় দেশজুড়ে অন্তত ১২ থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা ভারতবর্ষের ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম যা আগে কখনো ঘটেনি। উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো যে, ২০২৬ সালের মে মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এরপরে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাট ও তামিলনাড়ুর মতো বিভিন্ন রাজ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী চরম মানসিক অবসাদ ও চাপে আত্মহত্যা করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিযোগে অনেক মৃত ছাত্রছাত্রীর পরিবার ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, একটানা কঠোর পরিশ্রমের পর হঠাৎ পরীক্ষা বাতিল হওয়া এবং পুনরায় পরীক্ষার অনিশ্চয়তা তরুণ মনে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছিল। অপরদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ও পড়েছিল।এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও তরুণদের জীবনের সঙ্গে খেলা করার অভিযোগ তোলে, যা পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ছবি আমরা দেখেছি। সম্প্রতি সারা দেশ জুড়ে নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের সৃষ্টি , পরীক্ষার্থীদের একাংশ, অভিভাবক এবং ছাত্র সংগঠনগুলি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হওয়ার পাশাপাশি ক্ষোভ বিক্ষোভ দানা বাড়তে থাকে এবং পরবর্তীতে আন্দোলনের রূপ ধারণ করে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হয়েছে এবং পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল, এত গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় পরীক্ষার নিরাপত্তায় কেন গাফিলতি হল, কারা এই ঘটনার জন্য দায়ী এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের মতে, শিক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে সকল রাজনৈতিক দলের উচিত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তাদের দাবি, সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ করে তোলা। এ তো গেল আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ও সরকার বিরোধীদলের আচরণ সম্পর্কে কয়েকটি কথা। এই আন্দোলন স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি নতুন সংযোজন রূপে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
আমরা দেখেছি এর আগেও দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ও বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের স্বরূপ ছিল অন্যরকম। বর্তমান সময়কালে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্যের ছবি উঠে এসেছে এইভাবে। তদন্তের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে ২০২৬ এই সময়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (যেমন NEET বা অন্যান্য প্রবেশিকা) প্রশ্নপত্র ফাঁসের স্বরূপ অনেক বেশি প্রাতিষ্ঠানিক, প্রযুক্তিগত এবং সুসংগঠিত রূপ নিয়েছে। এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং প্রিন্টিং প্রেস থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও কোচিং সিন্ডিকেটের হাত ধরে তা একটি লাভজনক অপরাধমূলক শিল্পে পরিণত হয়েছে। যা সকলকে হতবাক করে দিয়েছে।
দেখা গিয়েছে অতীতে কেবল পরিবহন বা পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে খাম খোলার ত্রুটি থাকলেও, বর্তমানের ফাঁসের স্বরূপ অনেক গভীরে—সরাসরি মূল সোর্স বা সিস্টেমের ভেতর থেকে তা লিক হচ্ছে। আরো যেটা পাওয়া গিয়েছে সেটা হল ডিজিটাল ‘গেস পেপার’ ও সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ বা এনক্রিপ্টেড চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষার আগেই সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন সংবলিত ‘গেস পেপার’ লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে বা চক্রের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক রেন্ট-সিঙ্কিং ও কোটি টাকার বাণিজ্য চক্র অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘটনায়। এই অপরাধী চক্র বর্তমান
চাকরির চরম সংকট ও সীমিত আসনের প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে কম করেও ২০-৩০ লাখ টাকা বা তার বেশি মূল্যে বিক্রি করছে ফাঁদ পাতা এসব প্রশ্ন। অর্থাৎ এই ধরনের অপরাধের সিন্ডিকেট ক্রমশ তাদের নাগপাশ বিস্তার করতে পেরেছে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঠুটো জগন্নাথ করে। এইভাবে বারবার পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসে আর সেই সঙ্গে এই সংকটময় পরিস্থিতি সমগ্র দেশজুড়ে তীব্র যুব আন্দোলন ও প্রতিবাদের রূপ ধারণ করেছিল এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ জুন- জুলাই মাসে। আমরা এর আগে দেখেছি অতীতেও প্রধান প্রশ্নফাঁস ও কেলেঙ্কারির চিত্রটা ছিল এরকম : ১৯৯৭ সালে আইআইটি জেইই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ইতিহাসে অন্যতম প্রথম বড় সর্বভারতীয় ফাঁস, যার জেরে আইআইটি কর্তৃপক্ষ বীমা সংস্থার কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। এরপর ২০১৩ -মধ্যপ্রদেশের ব্যালাপম কেলেঙ্কারি Vyapam Scam।ঐ রাজ্যের প্রফেশনাল এক্সামিনেশন বোর্ডের মাধ্যমে হওয়া একাধিক মেডিকেল প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক দুর্নীতির এই ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল। এর ঠিক দু বছর পরে অর্থাৎ ২০১৫ – এআইপিএমটি (AIPMT) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল যেখানে আমরা দেখতে পাই ব্লুটুথ ডিভাইসের মাধ্যমে নকল ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সর্বভারতীয় প্রি-মেডিকেল পরীক্ষাটি পুনরায় নিতে হয়েছিল। এই ঘটনার তিন বছর পর অর্থাৎ ২০১৮ – সিবিএসই (CBSE): দশম শ্রেণীর গণিত এবং দ্বাদশ শ্রেণীর অর্থনীতির প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এখানেই থেমে থাকেনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার ক্রমবিকাশ । এরও ঠিক তিন বছর পর অর্থাৎ রাজস্থান রীট পরীক্ষা – ২০২১ – রাজস্থান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (REET)প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই লকার থেকে চুরি ও ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল করতে হয়েছিল। আমরা দেখেছি এবছর নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দু বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪ – পুলিশ কনস্টেবল ও অন্যান্য পরীক্ষা (উত্তর প্রদেশ ও বিহার)-উত্তর প্রদেশে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ এবং রিভিউ অফিসার (RO/ARO) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করে পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্রীক্ষা করতে হয়। একই বছর নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে আরো যেটা দেখি আমরা এ বছর ২০২৬ – নিট-ইউজি (NEET-UG)-পরীক্ষার আগে প্রশ্ন বা ‘গেজ পেপার’ ফাঁসের অভিযোগে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা National Testing Agency পরিচালিত মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষাটি বাতিল করা হয় এবং বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
অর্থাৎ আমরা দেখলাম প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার একটি ক্রমান্বয়ে তালিকা এতগুলো ঘটনা যখন ঘটে চলেছে বা ঘটে গিয়েছে এসব থেকে সরকারের টনক নড়া তো দূরের কথা এর প্রতিরোধে কোনরকম বলিষ্ঠ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকার সক্ষম হয়নি যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আমাদের দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্বলতা সামনে উঠে আসে।যদিও আমরা দেখতে পাই এর জন্য কঠোর আইন রয়েছে। আমাদের দেশে অর্থাৎ ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪ কার্যকর হয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো সরকারি নিয়োগ ও জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং সংঘবদ্ধ প্রতারণা কঠোরভাবে দমন করা। আইনে দোষী ব্যক্তির জন্য ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ₹১০ লক্ষ থেকে ₹১ কোটি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্রের এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল পরিবহন, সিসিটিভি নজরদারি, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ তদারকি দল, দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং মেধাভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও রুপায়ন এর ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সদিচ্ছা ও সতর্কতার খামতির কারণে এ বছর এই আন্দোলন পূর্ণমাত্রায় লাভ করে সারা দেশ জুড়ে আন্দোলন আমাদের অনেকগুলো বার্তা দেয় সরকার বিরোধীপক্ষ আন্দোলনকারী এবং সমাজের প্রতি। একথা বলতে দ্বিধা নেই যে এই , নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডের আন্দোলন অবশেষে নীতিগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক দোদুল্যমানতার পথে মোড় নিয়েছে। কেন্দ্র সরকার নৈতিক দায় স্বীকার করে পরীক্ষা পদ্ধতি অনলাইন বা কম্পিউটার-বেस्ड (CBT)-তে রূপান্তরের ঘোষণা দিলেও, আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবিতে অনড় ছিল এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এই আন্দোলনের চাপে। আন্দোলন থামে , কিন্তু এর ফলে আগামী দিনে সমস্যা সমাধান কতটা হবে? পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস এর মত ঘটনা কি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে? এটা মস্ত বড় প্রশ্ন।
আমরা দেখেছি প্রায় দেশ দেড় মাস ধরে চলা আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ও সরকারের পদক্ষেপে যথারীতি পরবর্তীতে সিবিআই তদন্তে নেমে মূল চক্রের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ,সরকার পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা সফলভাবে পরিচালনা ও ভবিষ্যতে এনক্রিপ্টেড অনলাইন ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে। কিন্তু এতকিছু ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও আমরা দেখেছি সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও ছাত্র বিক্ষোভের ছবি। দিল্লি থেকে শুরু করে কলকাতা এবং দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকার ছবি এবারের আন্দোলনে দেখা গিয়েছে। রাজধানী দিল্লি, পাটনা ও কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ছাত্র-আন্দোলন গড়ে ওঠে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সংগঠন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা। এই উত্তাল পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সততা, জবাবদিহি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য রক্ষায় পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে CBT চালু হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি কমবে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ পরিকাঠামো, প্রশিক্ষিত জনবল, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত ডিজিটাল সুবিধা এবং নিয়মিত নজরদারি। দেশের সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে নতুন ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সার্বিকভাবে, সরকারের প্রস্তাবিত টাস্কফোর্সের রূপরেখা শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের ওপর।
প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই আন্দোলনের নিরিখে সরকারের পক্ষ থেকে যেটুকু অবস্থান নেওয়া হয়েছে সেটা অনেকটা আগামী দিনের সম্ভাব্য সংস্কার ও ভারতের ভবিষ্যৎ পথ দেখাবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
এক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা বলা হয়েছে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ধাপে ধাপে কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষায় (CBT) স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিতে চলেছে সরকার। পরীক্ষা সুরক্ষিত করতে করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের কমিটি।প্রযুক্তিনির্ভর ও সুরক্ষিত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়তে টাস্কফোর্স কাজ করছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন
নন্দন নিলেকানি। জোরদার করা হয়েছে আইনগত কড়াকড়ি।পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত আইনে অপরাধীদের জন্য দীর্ঘ কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান আনা হয়েছে নতুন প্রস্তাবিত আইনে।এ কথা সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ভারতের নিট (NEET) আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক বড় সংকটের মুখে ফেলেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন, কঠোর আইন প্রণয়ন এবং অনলাইন কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষার (CBT) রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এত সমস্ত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরেও বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে শিক্ষামূলক পর্যবেক্ষক মহলে। এইরকম প্রেক্ষাপটে এই টাস্কফোর্সের প্রস্তাবিত রূপরেখা কি আগামী দিনে সমস্যার সমাধান করতে পারবে? এটাও একটা মস্ত বড় প্রশ্ন। নীট প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে টাস্কফোর্সের রূপরেখা এই সংকট কাটানোর পথে কতটা কার্যকর? এটা আজকের এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সবথেকে বড় প্রশ্ন। নয়াদিল্লি যন্তর মন্তর চত্বরে সংগঠিত হওয়া নীট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং ধাপে ধাপে অনলাইন কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। টাস্কফোর্সের প্রস্তাব অনুযায়ী, পরীক্ষা পরিচালনায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও পরিবহনে কঠোর নজরদারি, পরীক্ষাকেন্দ্রের মানোন্নয়ন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব থেকে বড় প্রশ্ন রূপে দেখা দিয়েছে এত কিছু করেও কি প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করা কি আদৌ সম্ভব হবে? যদি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর বিভাগ মন্ত্রক এবং এর সঙ্গে যুক্ত যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কর্মীরা রয়েছেন তাদের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্বচ্ছতা স্বচ্ছতা আন্তরিকতা না থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী দিনের জন্য। তবুও এই আন্দোলন আমাদের সামনে অনেকগুলো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে বিভিন্ন ঘটনাবলীর নিরিখে। এই নীট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কিছু কথা উল্লেখ করতে হয় যে, এই আন্দোলনে পুলিশি ব্যবস্থার সংখ্যা, আহত ও মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা একেবারে একক সরকারি হিসাব হিসেবে প্রকাশিত নয়; বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা ঘটনা ঘটেছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিহারে আন্দোলন চলাকালে মোট ৬৯৪ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৩৯ জন নাবালক ও ছাত্র যাচাইয়ের পরে ছাড়া হয়; বাকিদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাটনার একটি ঘটনায় পুলিশ ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং বহু জনের বিরুদ্ধে FIR করার কথা জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বরে আন্দোলন ঘিরে FIR নথিভুক্ত হওয়ার কথাও জানা গেছে।
আহতের সংখ্যা চিত্রটা ছিল এরকম- দিল্লির যন্তর মন্তর বিক্ষোভে প্রায় ৬৫ জন ছাত্র আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে; একই ঘটনায় প্রায় ১৩০ জন পুলিশকর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।অপরদিকে,বিহারে পুলিশের হিসাবে ৯১ জন পুলিশকর্মী আহত এবং ১৩ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবার অপরদিকে সরকার প্রশাসনও অভিযোগ দায়ের করেছে। এরকম অবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও ছাত্র ও পুলিশের আহত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। তবে পুলিশি বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ ইত্যাদি নিয়ে অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ সংরক্ষণ ও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে । দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG-কে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়মের অভিযোগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা শুধু একটি পরীক্ষার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা, সরকারি জবাবদিহি এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলে এবং পুনরায় পরীক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায়। বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালিত হয়। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকার দাবি করে, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যকর করা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলে এবং পুনরায় পরীক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায়। বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালিত হয়। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকার দাবি করে, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যকর করা হবে। এটি দেখার বিষয় আগামী দিনের জন্য আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
এই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক-এর অনশন দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও তাঁর মূল আন্দোলনের বিষয় ছিল লাদাখের সাংবিধানিক মর্যাদা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার, তবু তাঁর অহিংস আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের বার্তা দেশের বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। অনেকের মতে, শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন এখনও গণতন্ত্রে জনমত গঠনের একটি কার্যকর মাধ্যম। আগামী দিনে নীটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। বিরোধী দলগুলি শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনার সংস্কার এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করবে। সংসদ থেকে রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। পরীক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র পরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃশ্যমান শাস্তি জনবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নীট বিতর্ক একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে—শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। ফলে শিক্ষা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। সব মিলিয়ে নীট আন্দোলন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে যে শিক্ষার প্রশ্নে ছাত্রসমাজ, নাগরিক সমাজ এবং রাজনৈতিক মহল একসঙ্গে আলোচনার দাবি তুলতে পারে। আগামী দিনে সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং বিরোধীদের গঠনমূলক ভূমিকা—এই দুইয়ের ওপরই নির্ভর করবে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। কারণ, একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, সমগ্র দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি।
তবে কি নীট পরীক্ষার বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতিই কি ভবিষ্যতের সমাধান? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির জন্য আয়োজিত নীট (NEET) পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। পরীক্ষার্থীদের বিপুল চাপ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং একদিনের পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে নীটের বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা বিচার না করে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। স্কুলের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল, ব্যবহারিক জ্ঞান, গবেষণার আগ্রহ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং একাধিক পরীক্ষার সম্মিলিত ফলকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, কম্পিউটারভিত্তিক একাধিক স্তরের পরীক্ষা এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করলে পরীক্ষার চাপ কমবে এবং প্রকৃত মেধা প্রকাশের সুযোগ বাড়বে। তবে দেশজুড়ে সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী দিনে নীট পুরোপুরি বাতিল না হলেও, আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়াকে আরও গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা হতে পারে। Pic courtesy: Prameya News
