করোনা ভাইরাস নিপাত যাক! 

Xi visits Wuhan, Italy under coronavirus quarantine: Live updates

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক, ৮ মার্চ ২০২০ বিকাল।। দৈনিক সংবাদপত্রে যাঁরা সম্পাদকীয় বা উপ-সম্পাদকীয় লেখেন তাঁরা প্রায়শ: লেখার ‘সাবজেক্ট বা বিষয়’ নিয়ে ভাবনায় পড়েন। সচরাচর তাঁরা  ‘কারেন্ট ঘটনাবলী’ নিয়ে লেখার চেষ্টা করেন। উন্মুক্ত বিশ্বে তাঁরা যা খুশি তাই লিখেন। ‘আইসিটি এক্ট’ মাথায় নিয়ে সবকিছু লেখা যায়না। ধর্মান্ধ-প্রতিক্রিয়াশীলরা যেখানে শক্তিশালী সেখানেও দশবার চিন্তা করতে হয়, যাতে বক-ধার্মিকের চাবুক মাথার ওপর নেমে না আসে? 

সেদিক থেকে অ-সম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ ‘করোনা ভাইরাস’ নিয়ে লেখা অনেক সহজ! দিল্লির সহিংসতা নিয়ে লেখাও তেমন কঠিন নয়! শুধু আসল নিউজ চেপে রেখে উত্তেজক কিছু মনগড়া কথাবার্তা বলে দিলেই হলো! ‘নারী দিবস’ তো আরো সোজা, বললেই হলো, ‘সংসার সুখের হয় রমণী’র গুনে–’। পাবনার অধ্যক্ষা শফিনাজ বেগম যোগ দিতেন, ‘সেইমত পতি যদি থাকে তাঁর সনে–।  ৭ই মার্চ বা বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ১৭ই মার্চ নিয়ে অনেকে লিখেছেন। এতে সুবিধা অনেক। আপনি নিজেকে প্রগতিশীল প্রমান করতে পারেন, সরকার খুশি থাকেন, অর্থাৎ সবদিক থেকেই লাভ। তবে বঙ্গবন্ধু’র জন্ম শতবার্ষিকীতে আপনি যদি জাতির জনক প্রদত্ত ‘বাহাত্তরের সংবিধান’ ফেরত চাঁন, তাহলে সমস্যা হলেও হতে পারে, কারণ ওটা এখন আর কেউ চায়না? তবু আমি তা চাইছি। ক’দিন আগে আমি চেয়েছিলাম, মুজিববর্ষে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু নির্যাতন মুক্ত হোক। অনেকে আমাকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বানিয়ে দিয়ে বললেন, ‘কোথায় আপনি সংখ্যালঘু নির্যাতন দেখছেন’? তাদের বলেছি, ‘ভাই, আপনারা ভারত নিয়ে ব্যস্ত, তাই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন চোখে পড়েনা’। ব্যস, হয়ে গেলো, কেউ কেউ বললেন, ‘আপনাদের ভারতপ্রেম আর গেলো না’! জ্যাকসন হাইটসে একজন বললেন, দাদা, আপনি মুসলমানের বিরুদ্ধে লেখালেখি  বন্ধ করুন? বললাম, আমি তো ইসলাম, ধর্ম, নবী, আল্লাহ নিয়ে এক লাইনও লিখি না’? ভদ্রলোক উত্তর দিলেন, ‘আপনি শফি হুজুরের বিরুদ্ধে লিখেন, এটি বন্ধ করুন, প্লীজ’। দিল্লি সহিংসতা নিয়েও কথা হচ্ছে। তাঁরা বলছেন, মুসলমান মরছে, আমি বললাম, মানুষ মরছে। মোদির ঢাকা আগমন নিয়ে কথার কোন শেষ নেই! বিপক্ষে বেশি। সরকার চাইছেন   ‘মোদী আসুক’। শেষ পর্যন্ত কি তিনি আসবেন? করোনার কারণে তাঁর ব্রাসেলস ট্যুর বাতিল হয়েছে। এই মুহূর্তের খবর হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার করোনার কারণে অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুবিধাজনক সময়ে পরে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান হবে। শুভ সংবাদ, সব দিক রক্ষা।  মোদির বাংলাদেশে না এলে লাভক্ষতির হিসাব পরে? আপাতত: করোনা ভাইরাসে  ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে তা উদ্বেগের বিষয়। বিশ্ব যখন করোনা মুক্ত হবে, তখন অর্থনৈতিক লেনদেন, হিসাব-নিকাশ ঘাটতির মুখে পড়বে তা বলা বাহুল্য। করোনা ভাইরাসকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই। সতর্কতা অবলম্বন দরকার, তবে গুজব শুনে ভয়ভীতির কোন কারণ নেই? প্রয়োজনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াটাই উত্তম। চীনে করোনা ভাইরাস  শুরু হলে কেউ কেউ বলেছেন, ‘আল্লাহ’র গজব’; অন্যরা ‘গোমূত্র’ পানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। করোনা থেকে মুক্তির জন্যে বিশ্ব কিন্তু এখন বিজ্ঞানের দিকে তাঁকিয়ে, কোন ধর্মীয় উপাসনালয় বা ধর্মগুরুর দোয়া, আশীর্বাদের দিকে নয়? বিজ্ঞানী বা মানুষ এর সমাধান করবে। করোনা বাংলাদেশে হানা দিয়েছে। ঘনবসতি বলে এটি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা  থাকবে। সরকার নিশ্চয়ই তৎপর আছেন। সবাই ভালো থাকুন, রুগীকে নয়, রোগকে চিহ্নিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। করোনা ভাইরাস ধর্মনিরপেক্ষ এবং অসম্প্রদায়িক, সব দেশের, সব ধর্মের, সকল মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনা আমাদের বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব শিখাচ্ছে, এই শিক্ষায় শিক্ষিত

 হয়ে আসুন আমরা মানুষ হই!    পৃথিবী ছোট হয়ে গেছে। বিমানের সেই  বিখ্যাত বিজ্ঞাপন, ‘ছোট হয়ে  আসছে পৃথিবী’, এখন সত্য। এই ছোট্ট পৃথিবীতে মানুষ নামের ৭শ’ কোটি জীব বাস করে। বিভাজন না করে এই ৭শ’ কোটি জীব ‘মানুষ’ নামে পরিচিতি লাভ করুক। ধর্ম হউক ‘মানবতা’। ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য–’। মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন। করোনা ভাইরাস নিপাত যাক! ( (মতামত লেখকের নিজস্ব-সমপাদক 1  image to  EPA- EFE).  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *