সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শাল্লায় মোমিনুল হকের হেফাজতি তান্ডব


নিউ ইয়র্কে হিন্দু কোয়ালিশনের মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ

১৭ই মার্চ ২০২১, নিউইয়র্ক।। ১৭ই মার্চ বাংলাদেশের জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-র জন্মদিন, ইসলামী মৌলবাদ এদিনটি পালন করেছে হিন্দুদের ওপর আক্রমন করে। প্রায়ত সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শাল্লায় মোমিনুল হকের হেফাজতি তান্ডবে ৮৮টি বাড়ী, ৮টি মন্দির ভাংচুর হয়েছে, অভিযোগ আছে মহিলাদের শ্লীলতাহানি, লুটতরাজের। সিলেটের নোয়াগাঁও, দিরাই, শাল্লায় কয়েক হাজার তৌহিদী জনতা প্রায় ৫শ’ হিন্দু পরিবারের ওপর চড়াও হয়, তান্ডব চলে কয়েক ঘন্টা।

ঝুমন দাস আপন নামে এক হিন্দু যুবক ফেইসবুকে হেফাজত-ই-ইসলাম নেতা মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে একটি ষ্ট্যাটাসে লিখে, “মুমিনুল হকের মূল উদ্দেশ্য দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। কিছুদিন আগে তিনি ভাস্কর্য ও মূর্তি নিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলে–.। সাথে মুমিনুলের ছবি, নিচে লেখা ‘বলদকার বাহিনীর’।” বাংলাদেশে মাদ্রাসায় ছোট্ট শিশুদের বলাৎকার নিয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে’-হয়তো ‘বলদকার–’ কথাটি তাই বোঝানো হয়েছে? এই ছোট্ট পোষ্টে তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে! 

পুলিশ হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করেছে, তারপরও জ্বিহাদী জনতা ৫/৬টি হিন্দুগ্রামে আক্রমন চালায়। অতীতের মত প্রশাসন ও পুলিশ এ সময় কোথায় ছিলো জানা যায়নি। শাল্লার ঘটনার বিচার চাহিয়া আমরা সরকারকে বিব্রত করতে চাইনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেকোন সাফাই দিতে পারেন, তাতে কিচ্ছু আসে যায়না। বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বার্থ হিন্দুদেরই দেখতে হবে; বৌদ্ধদের স্বার্থ বৌদ্ধদেরই দেখতে হবে; সংখ্যালঘু’র স্বার্থ সংখ্যালঘুদেরই দেখতে হবে। কোন সরকার কখনই হিন্দুর পক্ষে ছিলোনা, এখনো নেই? প্রশাসন ও মৌলবাদী হিন্দুদের দেশ থেকে বিতাড়ন করতে চায়।     

নিত্যদিন এতসব ঘটনার পরও বাংলাদেশে অনেকে চমৎকার ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ দেখতে পান? তাদের জানা উচিত ‘হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর বাড়ীঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ যদি সম্প্রীতি হয়, ‘গনিমতের মাল’ ধর্মান্তর, ধর্ষণ, যদি সম্প্রীতি হয়, নিশ্চয় তাতে আপনারা গর্ব করতে পারেন! আজকের বাংলাদেশ একটি কট্টর সাম্প্রদায়িক দেশ, পরিস্থিতি পাকিস্তানের চাইতেও ভয়াবহ। পাকিস্তান সাম্প্রদায়িক দেশ, এঁকে চেনা যায়; বাংলাদেশ সম্প্রীতির মুখোশ পরে ‘হিন্দু ও সংখ্যালঘু’ নিধনে নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছে। শাল্লার ঘটনায় সরকারের কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। 

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে যাচ্ছেন। মৌলবাদী শক্তি তা ঠেকাতে চেষ্টা করছে। পুলিশের কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলামের বক্তব্য প্রশংসনীয়। বিদেশমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য উৎসাহজনক। আমরা চাই মোদী বাংলাদেশে আসুন, আপনি স্বাগতম। আপনি বঙ্গবন্ধুর মাজারে যান, মতুয়া সম্মেলনে যান, কিন্তু প্লীজ আপনি শাল্লায় যান। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, আপনি আসুন, দেখুন, বাংলার মাটি হিন্দু ও সংখ্যালঘুর রক্তে রঞ্জিত। আমরা চাই দিল্লী কথা বলুক। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ কথা বলুক । আর কত ? ‘এনাফ ইজ এনাফ’।

বাংলাদেশে হিন্দুর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ওহে হিন্দু, ওঠো, জাগো। এ বাংলাদেশ তোমার, তুমি এই মাটির ‘ভূমিপুত্র’। তথাকথিত প্রগতিশীলরা তোমার জন্যে এগিয়ে আসবে না, সরকার তোমাকে চায় না, তাই ক’দিন পরপর এসব তান্ডব চলছে, এবং চলবে। তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এদেশে তুমি থাকবে নাকি মৌলবাদীরা থাকবে। দেশটা তোমার, এটি মৌলবাদীদের খপ্পর থেকে রক্ষার দায়িত্বও তোমার। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ‘শুভ জন্মজয়ন্তী’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *