সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল বাংলাদেশ

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক

২০০১-এ পূর্ণিমা রানী শীল গন-ধর্ষিতা হয়েছেন, তাঁর মা ধর্ষিতা হ’ননি, দুই দশক পর ২০২১-এ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেকটা বেড়েছে, এবার হাজীগঞ্জে মা-মেয়ে ও বোনের মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছেন। পূর্ণিমা মরেনি (এখন তিলে তিলে মরছেন); হাজীগঞ্জের দশ বছরের অভাগিনী ধর্ষিতা নাবালিকাটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে। ২০০১-এ বিএনপি-জামাত ধর্ষণ করেছিলো, এবার সম্প্রীতির জোয়ারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, হেফাজত সবাই মিলে ধর্ষণ করেছে। এবার বাংলাদেশে বুধবার ১৩ই অক্টবর মহাঅষ্টমী থেকে হিন্দুদের ওপর যে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়েছে বা এখনো হচ্ছে, এটাই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। বাংলাদেশে হিন্দুর বাড়ীঘর পুড়বে, সম্পত্তি জবরদখল হবে, হিন্দু রমণী ধর্ষিতা হবে, মন্দির-মূর্তি ভাঙ্গবে, পূজা করতে দেয়া হবেনা, পুরোহিত খুন হবে, হিন্দু ধর্মের দেবদেবীকে গালিগালাজ করা হবে, ডিজিটাল আইন ব্লাসফেমী হিসাবে ব্যবহৃত হবে, এটাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। আপনাকে জোরের সাথে বলতে হবে, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল’। 

১৯৪৬ সালের ১০ই অক্টবর লক্ষীপূজার দিন ‘নোয়াখালী কিলিংস’ শুরু হয়েছিলো, সেই রক্তাক্ত ইতিহাস ওয়েবে আছে,  চৌমুহনীতে শনিবার ১৬ই অক্টবর উন্মত্ত তৌহিদী জনতা দফায় দফায় হিন্দুদের ওপর আক্রমন করে ‘নোয়াখালী কিলিংস’ ডে পালন করেছে। বাংলাদেশে এবারকার আক্রমণ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা, এতে ইসলামী মৌলবাদ, মাদ্রাসা, এবং কোথাও কোথাও প্রশাসন জড়িত। সরকার দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে, একদিকে মৌলবাদকে উস্কে দিচ্ছে, বা কঠোর হস্তে দমন করছে না, অন্যদিকে বিশ্বকে বোঝাতে চাইছে যে, তাঁরা ভায়োলেন্স দমনের চেষ্টা করছেন। বাস্তবতা হচ্ছে, রবিবার রাতেও রংপরের পীরগঞ্জে দু’টি হিন্দু গ্রাম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করা হয়েছে, এবং এঘটনা থামার কোন লক্ষণ নেই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা হচ্ছে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এতক্ষনে সামরিক বাহিনী মাঠে নামানো হতো, তা হয়নি। কার্ফু দেয়া যেতে পারতো, তা দেয়া হয়নি। সরকার অনেকটা ঢিলেঢালা, ভাবটা এই যে, যা হচ্ছে, হোকনা? এতে অবশ্য সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছেনা!!    বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি ‘মিথ’। এটি কখনো ছিলোনা, এখনো নেই, ভবিষ্যতে থাকার সম্ভবনা কম। ওয়াজ মাহফিলের নামে হুজুরেরা এবং ভারত বিরোধী পলিটিক্সের নামে রাজনীতিকরা  বাংলাদেশে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মনে অন্যধর্ম বা বিশেষত: হিন্দুদের প্রতি বিদ্ধেষ, ঘৃনা ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই বাস্তবতা মেনেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। যারা ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গান গেয়ে এখনো পুলকিত হ’ন, তাদের কাছে জানতে ইচ্ছে করে, এই ‘আগেটা’ কবে? তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশ কখনোই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ ছিলোনা, এখনো নেই, আমরা ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল’ বলে আত্মতৃপ্তি পেতে চাই, জেনে রাখুন এটি মিথ্যা। মিথ্যা নিয়ে আপনি বড়াই করতে পারেন, তাতে সত্য ঢাকা যাবেনা। বাংলাদেশ প্রমান করছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে, যেমন আরব দেশগুলোতে, অমুসলমানরা থাকতে পারেনা, বাংলাদেশেও তাই হচ্ছে, হিন্দুদের জায়গা হবেনা, যদিনা তাঁরা জোর করে তাদের অধিকার আদায় করতে পারে? Pic Courtesy: The Hindustan Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *