কৃষক আন্দোলন এবার কোন পথে?

অরুণ কুমার

সফল হল কৃষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন। বিতর্কিত কৃষি আইন  প্রত্যাহার করল কেন্দ্র। গুরুনানকের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  কৃষি আইন প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাসনে বলেছেন , আসন্ন সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এই আইন প্রত্যাহার করা হবে।বিতর্কিত ৩ কৃষি আইন প্রত্যাহ্যারের কথা এদিন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই আইন ঘিরে দীর্ঘদিন অবস্থানে নেমেছিলেন কৃষকদের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তোপের মুখে পড়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। পিএম মোদী বলেন, এই তিন আইন প্রত্যাহার করছি। তবে এটি খুব পবিত্র জিনিস এবং কৃষকদের স্বার্থের বিষয় নিয়ে আমাদের বহু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমরা কিছু কৃষককে বোঝাতে পারিনি। কৃষি অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, প্রগতিশীল কৃষকরাও তাঁদের কৃষি আইনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সারা দেশজুড়ে আরম্ভ হয়েছে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ।প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেছেন, আমাদের সরকার ছোট কৃষকদের কল্যাণের জন্য এই আইন নিয়ে আসা হয়েছিল। আমরা অনেক চেষ্টা করেও কিছু কৃষকদের বোঝাতে পারেনি। কৃষকদের একটা অংশ এটা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। সরকার এই আইন বদলের প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। এই বিষয় সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিল। আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলছি, আমাদের তপস্যাতে কোনও খামতি ছিল তাই কিছু কৃষকদের সেটা বোঝাতে পারেনি। আমি আজ গোটা দেশকে জানাচ্ছি ৩ কৃষি আইন ফিরিয়ে নিচ্ছি। এই মাসেই আমি ৩ কৃষি আইন ফিরিয়ে নেওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, কৃষি বিশেষজ্ঞ থাকবেন। আমাদের সরকারে কৃষকদের জন্য কাজ করছে। আগেও করতে থাকবে।

এত গেলো একটা দিক, এই আইন প্রণয়নের  পর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি কি সে বিষয়ে আইনজ্ঞদের বক্তব্য, যে কোনও আইন ঠিক যেভাবে প্রনয়ণ করা হয়, একই পদ্ধতিতে প্রত্যাহার করা হয়। ফলে আইন প্রনয়ণ যেভাবে হয়েছিল সেভাবেই আইন প্রত্যাহারের বিল সংসদে পেশ করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রককে। এরপর সংসদে এই বিষয়ে ভোটাভুটি হবে। গোটা প্রক্রিয়ায় কতদিন সময় লাগবে তা নির্ভর করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উপরেও। অর্থাৎ কিনা যদি বিরোধীরা সংসদকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেয় তবে দ্রুত আইন প্রত্যাহার হতে পারবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে,গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনটি কৃষি বিলে সংশোধন করে আইনে পরিণত করে কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর থেকে দেশজুড়ে বিতর্ক ও বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্তানে তুমুল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করেন সেখানকার কৃষকেরা। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে দিল্লি সীমান্তে সংগঠিত আন্দোলন শুরু করেন পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের হাজার হাজার কৃষক। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠন। আন্দোলন চলাকালীন মৃত্যু বেশ কয়েকজন কৃষকের।প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সারা দেশ জুড়ে আরম্ভ হয়েছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তারা তাদের নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য রেখেছেন।কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেস ন্যাশনাল কনফারেন্স, আম আদমি পার্টি সকলেই এ বিষয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূলও। এদিন সুখেন্দু শেখর রায় সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছেন, সামনের বছর ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেখানে বিজেপি পরাস্ত হবে। তাই এই সিদ্ধান্ত। কারণ, কোনওভাবেই আন্দোলনকারী কৃষকদের সরকার দমিয়ে রাখতে পারেনি এই কেন্দ্রীয় সরকার। এই আন্দোলন তাঁরা ক্রমাগত চালিয়ে গিয়েছেন। শিশু-মহিলাদের নিয়ে তাঁরা আন্দোলন করেছেন। যাঁরা মারা গিয়েছে, তাঁদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। ভীত সন্ত্রস্ত মোদী সরকার তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা কৃষকদের এই জয়কে স্বাগত জানাচ্ছি। ‘স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসের মতোই আজ একটি ঐতিহাসিক দিন’, মন্তব্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালের।

প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা কৃষকদের ঐতিহাসিক জয় বলেই অ্যাখ্যা দিচ্ছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও যতক্ষণ না পর্যন্ত মোদীর এই ঘোষণা সরকারিভাবে কার্যকরী হচ্ছে ততক্ষণ সংশয়ে রয়েছেন কৃষক নেতারা। এ প্রসঙ্গে কৃষক নেতা হান্নান মোল্লা  বলেন, ‘যোচ্চরের বাড়ির ভাত, না আঁচালে বিশ্বাস নেই।’ ন্যাশনাল কনফারেন্স এর সভাপতি জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ একটু আগ বাড়িয়ে অন্য কথা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেছেন অবিলম্বে 370 ধারা বহাল করা হোক ফিরিয়ে দেওয়া হোক জম্মু-কাশ্মীরের পুরনো মর্যাদা। এই কথা বলে তিনি কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, অবশেষে সরকার তাদের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। আন্দোলনরত কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বলেছিলেন এই ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না কেন্দ্র সরকারের।এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলছেন, ‘এটা ভারতের কৃষি আন্দোলনের অভূতপূর্ব জয়। এই কৃষি আইন কৃষদের কতটা উপকার করবে তা বারবার সংসদ এবং সংসদের বাইরে বোঝাতে চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। আমরাও জানিয়েছিলাম এই আইন দেশের কৃষি বাজারকে কর্পোরেটদের হাতে, পুঁজিপতিদের হাতে বিক্রি করে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আজকে আমাদের কথাই সত্যি হল। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস অনেক আন্দোলন করেছে। তার জয় হল।’ এই রাজ্যের সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘এই জয় ঐতিহাসিক। এটাই প্রমান করে, যত বড় স্বৈরাচারী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতেই হবে। বাধ্য হয়ে, ক্ষমাত চেয়ে, মাথা নীচু করে আইন প্রত্যাহার করলেন প্রধানমন্ত্রী। বোঝাই গেল, বেআইনিভাবে কৃষকদের উপর তা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গোটা দেশ জুড়ে যেভাবে কৃষকরা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।’ গত এক বছর ধরে তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে অনড় ছিলেন কৃষকরা। দিল্লি-পঞ্জাব সীমানায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের এই অবস্থান বিক্ষোভে দফয়া দফয়া উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন রাকেশ তিকাইত , হান্নান মোল্লার মতো কৃষক নেতারা। এই সময় ডিজিটালকে হান্নান মোল্লা বলেন, ‘অবশেষে কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হল কেন্দ্র ঠিকই, কিন্তু, আফসোস থেকে গেল। এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ৭০০ কৃষকের প্রাণ চলে গেল। আমরা বারবার বলেছিলাম আলোচনার মধ্যে দিয়েই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বারবার আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। অথচ কেন্দ্র টালবাহানা করেই চলেছিল। কৃষকরাও নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। এই আইন তো প্রত্যাহার করতেই হত।’ হান্নান মোল্লা জানান, আগামী ২৬ নভেম্বর ভারতের কৃষক আন্দোলনের এক বছর পূর্তি হওয়ার কথা। দিনটিকে কেন্দ্র করে আরও নানা কর্মসূচি নিয়েছিল কৃষকরা। তার আগেই এই ঘোষণা ঐতিহাসিক জয় বলেই মনে করছেন বিরোধীরা।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত কিষান মোর্চার অন্যতম শরিক জয় কিষান আন্দোলনের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিক সাহাবলেছেন,এই জয় কোন নেতা বা মোর্চার থেকেও বেশি সেই লক্ষ লক্ষ কৃষকদের যারা গত এক বছর দুঃখ কষ্ট ভুলে হাড় কাঁপানো শীতে, জলে ভাসানো বর্ষায় আর মাথা ফাটা গরমে দৃঢ় সংকল্পের সাথে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। এই জয় সেই ৭০০ শহীদ কৃষকদের যারা প্রাণ দিয়ে এই আন্দোলনকে সফল করেছে। এই বিজয় ঐতিহাসিক কারণ কৃষক বুঝিয়ে দিয়েছে যে তাকে ইতিহাসের আবর্জনায় স্তূপে তাকে ফেলে দেওয়া যাবে না – কৃষক কেবল এই দেশের ইতিহাস ও অতীতের অংশ নয় – সে এই দেশের ভবিষ্যতের অংশীদার ও বটে। আজ অহংকারের মাথা নত হয়েছে। যে সরকার সংবিধান মানে না, আইন মানে না, মনুষ্যত্ববোধ মানেনা, কৃষকের সুখ দুঃখ নিয়ে যে ভাবে না – শেষ অবধি সেই সরকারকেই কৃষকের সামনে মাথা নত করেছে। হয়ত ভোটের জন্যই মাথানত করেছে কিন্তু তা হলেও সেটা গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। কিন্তু এই জয় এখনো সম্পূর্ণ নয়। কৃষকদের দুটি প্রধান দাবি ছিল। একটা ছিল ৩টি কালা আইন বাতিল করার। তার সঙ্গে কৃষক বলেছিল যে তার মেহনতের পুরো দাম অর্থাৎ ন্যূনতম সমর্থন মূল্য, যা পাবার আইনি অধিকারের কথা প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে ২০১১ সালে তুলেছিল যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেটা আইনি গ্যারান্টি মারফত কৃষকে দিতে হবে। আজ আংশিক ভাবে মাথার উপর থেকে এই ৩ কালো আইনের বোঝা নেমে গেল ঠিকই কিন্তু কৃষক প্রশ্ন করছে: আমরা পেলাম কি? তাই এই আন্দোলন চলতে থাকবে।  আন্দোলন কিভাবে করা হবে তা সংযুক্ত কৃষক মোর্চার সব শরিক দল মিলে ঠিক করবে এবং তা সকলে মেনে নিয়ে চলবে।  মনে রাখবেন অহংকার কিন্তু এখনো চলে যায়নি – চালাকি এবং প্যাঁচের খেলা চলছে। বিজয়ের সঙ্কল্পের সাথে আন্দোলন জারি রাখতে হবে।  ওদিকে সংযুক্ত কিষান মোর্চার পক্ষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা কে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, সরকার আসন্ন সংসদ অধিবেশনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘোষণার বাস্তব রূপ দেবে বলে তারা আশা করছে।এর পাশাপাশি তাঁরা আরও বলেছেন,এই আন্দোলনের ফলে প্রায় সাত শতাধিক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন, লাখিম্পুর খেরি মত নৃশংস মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এর জন্য দায়ী কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।সংযুক্ত কিষান মোর্চা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীকে এ কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বলেছে,এই আইন প্রত্যাহার করলেই হবে না, তাদের আরো যে দাবি কৃষকের জন্য নিম্নতম সমর্থন মূল্য আইন প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত বিদ্যুৎ বিল ওপ্রত্যাহার করতে হবে।


সংযুক্ত কিষান মোর্চার শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা অভিমত, আগামী 26 শে নভেম্বর বর্ষপূর্তি হতে চলেছে এই কৃষক আন্দোলনের। সরকারের তরফ থেকেও নানারকম দমন  মূলক নীতি মিথ্যে মামলা সহ নানান কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল কৃষক আন্দোলন কে প্রতিহত করার লক্ষ্যে। তবুও এই আন্দোলনকে দমানোর সম্ভব হয়নি ।অপরদিকে আন্দোলনকারী ওরাও চাইছিলেন একটা সমঝোতা সূত্র বেরিয়ে আসুক যাতে অভিভাবক কে মান-সম্মান নিয়ে নিজের নিজের এলাকায় ফিরে যেতে । এই আন্দোলনের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটানোর জন্য উভয় পক্ষ এমনটাই চাইছিলেন।এছাড়া আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে ফলে শাসক বিজেপি দল চাইছিলেন না কোনরকম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে। যারা ওই দল পরিচালনা করছেন তারা এই বিষয়টি উপলব্ধি করলেন যে পাঁচটি রাজ্যের ক্ষমতা পাওয়ার জন্য একটু না হয় পিছিয়ে যাওয়া যাক। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নির্বাচনে  কেন্দ্রের শাসকদলের বিপর্যয় ওই দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী শাসক বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে তারা কোন রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ। যার অন্যতম হল বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা।অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এখনই যে সারাদেশে কৃষক আন্দোলন একেবারে স্তিমিত হয়ে যেতে বসেছে এই আন্দোলন প্রত্যাহার হতে চলেছে এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই। এখন দেখার বিষয় আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকার আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এই আইন প্রত্যাহারের বিষয়ে কি ভূমিকা পালন করছে।সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতৃবৃন্দ আরো জানিয়েছেন সম্প্রতি লক্ষিম্পুর কাণ্ডে তদন্ত সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে স্পেশাল ইনভেস্টিগেতিং টিমে আইপিএস আধিকারিক কুমারী পদ্মজা চৌহান কে রাখার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করছে ।আন্দোলনরত কৃষকদের সম্পর্কে করেছিলেন বিজেপি সাংসদের অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার আন্দোলনরত কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার,প্রভৃতি বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কি ভূমিকা নেবে এটাও একটা বিষয় বলে মনে করে সংযুক্ত কিষান মোর্চা।আগামী 26 শে নভেম্বর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লখনৌ তে মহাপঞ্চায়েতের আয়োজন করা হয়েছে  ঐদিন সারাদেশ থেকে কৃষক নেতৃবৃন্দ  সমবেত হবেন পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে। Pic courtesy: Patrika

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *