বাংলাদেশ কখনো হিন্দুদের জন্যে নিরাপদভূমি ছিলোনা

শিতাংশু গুহ

বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি নয়, কখনো ছিলোনা। পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ: হিন্দুদের বিপদসংকুল হয়ে উঠছে। সঙ্গী ছাগলের গলায় ছুরি চালানোর সময়ও পাশের ছাগল লতাগুল্ম চাবাতে থাকে? সারা বিশ্বের হিন্দুদের মমতা ব্যানার্জীর ওপর সামান্যতম সমর্থন না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু এখনো ঘুমাচ্ছেন। মমতার বিজয় মূলত: কট্টর মুসলিমদের বিজয় এটি তাঁরা বুঝতে চাইছেন না? মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলেও হিন্দুরা শতধা বিভক্ত। ‘লড়কে লেঙ্গা পাকিস্তান’ আন্দোলনের সময়ও মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ ছিলো, হিন্দুরা বিভক্ত ছিলো বলে ভারত ভাগ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা তাদের স্বার্থ ষোলআনা বুঝে, তাই তাঁরা মমতার পেছনে এককাট্টা, ততদিন থাকবে যতদিন মমতাকে তাদের প্রয়োজন আছে, এরপর ছুঁড়ে ফেলে দিতে একবিন্দু কার্পণ্য করবে না? মুসলমানরা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন হলে ক্ষতি কি? আফগানিস্তান, সিরিয়া বা ইরানে যাওয়ার দরকার নাই, কাশ্মীর, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ট, সেখানকার হিন্দু বা অ-মুসলমানদের অবস্থা তো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই? এ কারণেই ভারতে এনআরসি, বা সিএএ দরকার। উদারতা একটি মহৎ গুন্, কিন্তু সাপের সাথে উদারতা মানে নির্ঘাত মৃত্যু! 

বাংলাদেশে পূঁজা বা প্রতিমার ওপর হামলা নুতন কিছু নয়, এবার বেশি হয়েছে, তাই হিন্দুরা মাঠে নেমেছে। পূজায় হামলা হয়, ঈদে হয়না। একদল মুসলমান পূজায় হামলা চালায়, হিন্দুরা ঈদে হামলা করেনা। ওঁরা মূর্তি ভাঙ্গে, মন্দির ভাঙ্গে, হিন্দুরা মসজিদ আক্রমন করেনা। পূজা করতে পুলিশ লাগে, ঈদ করতে লাগেনা। কারণ হিন্দুরা ঈদে হামলা করেনা। প্রশাসন মাঝে-মধ্যে বলা চেষ্টা করেন, পূজা বেড়েছে, নিরাপত্তা দেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা লাগে কেন? নিরাপত্তা যাতে না লাগে সেই ব্যবস্থা করা যায়না? ঈদে যদি নিরাপত্তা না লাগে, পূজায় লাগবে কেন, সমস্যাটা কোথায়, ‘সর্ষের মধ্যে ভুত’? হিন্দুরা মূর্তির পূজা করে, মুসলমান মূর্তি ভাঙ্গছেন, হিন্দুরা সূর্য্যের পূজা করে, পারলে সূর্য ভাঙ্গুন। হিন্দুরা নবগ্রহের পূজা করে, পারলে নয়টি গ্রহ ভাঙ্গুন। পারবেন না তো, বীরত্ব সব মাটির মূর্তির ওপর; মূর্তি ভেঙ্গে কি বিশ্বাস ভাঙ্গা যায়? মুসলমান ভাঙ্গতে ওস্তাদ, হিন্দুরা গড়তে পারদর্শী। সনাতনীরা ঈশ্বরের প্রতীক হিসাবে প্রতিমায় পূঁজা করতে জানে, প্রতিমা রক্ষা করতে জানেনা। তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের হাতের চক্র নিয়ে বাঁশি ধরিয়ে দিয়েছে; শীবের হাত থেকে ত্রিশূল নিয়ে পদ্মফুল বসিয়ে দিয়েছে। সশস্র দেবতাকে নিরস্ত্র বানিয়ে ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। 

ক’দিন আগে বিএনপি এমপি রুমিন ফারহানা কিছু সত্য তুলে ধরেছেন, বিরোধী দলে থাকতে আওয়ামী লীগ এমত অনেক কথাই বলেছে, এখন চুপ। সরকারে না থাকলে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সংখ্যালঘুদের বন্ধু সাঁজে, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে ‘যেই লাউ, সেই কদু’, অর্থাৎ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ভাষায় হিন্দুদের দেশ থেকে বিতাড়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভাই-ভাই। প্রথম আলো’র উদৃতি দিয়ে বলা ৫০ বছরে ৭৫ লক্ষ হিন্দু কমে যাওয়ার তথ্যটি সত্য নহে, এটি আরো অনেক বেশি। মার্কিন কংগ্রেসম্যান রবার্ট ডোল্ড বলেছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে ৪৯মিঁলিয়ন হিন্দু হারিয়ে গেছে। প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে বলেছেন ৩৭ মিলিয়ন। অধ্যাপক আবুল বারাকাত বলেছেন, প্রতিদিন ৬৬২জন হিন্দু দেশত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে, সেই হিসাবে পঞ্চাশ বছরে সংখ্যাটি দাঁড়ায় আনুমানিক ১কোটি ২১লক্ষ। এঁরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা মুসলীম লীগ, জামাত, হেফাজতের ধর্ম-বৈষম্য, অত্যাচার ও রাজনীতির কারণে। বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে ‘মুসলিম আওয়ামী লীগ’, ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘আওয়ামী লীগ’ হয়েছে; সেই আওয়ামী লীগের সামনে ‘মুসলিম’ শব্দটি আবার জুড়ে দেয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সুলতানা কামাল একবার নিউইয়র্কে এলে আমাদের বলেছিলেন, আওয়ামী লীগই বিএনপি-জামাতের সকল ধর্মীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে দেবে, বাস্তবে হয়েছেও তাই? এ সময়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র চেহারাটা অনেকটা একই, অন্তত: সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে তো বটেই? এরমধ্যে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হিন্দুদের ওপর আর অত্যাচার হবেনা? তাঁর কথা সত্য হোক, আর যদি তা সত্য হয়, তবে প্রশ্ন জাগে, তাহলে এতকাল অত্যাচারে কি আওয়ামী লীগের সায় ছিলো? Pic courtesy: The Diplomat

Leave a Reply

Your email address will not be published.