শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী, তসলিমা নাসরিন এবং চীনের হুমকি!

অভিনেতা ও শিক্ষাবিদ চঞ্চল চৌধুরী ‘মা দিবসে’ তাঁর মা-কে নিয়ে একটি পোষ্ট দিয়েছেন। তাঁর মায়ের সিঁথিতে সিঁদুর ছিলো। বোঝা গেল তিনি হিন্দু। দর্শক হয়তো জানতো না, আমি নিজেও জানতাম, বা জানার প্রয়োজন বোধ করিনি, তৌহিদী জনতার গালাগালি ও ইসলাম গ্রহণের আহবানে বোঝা গেল, এটাই বাংলাদেশ। আমি বেশ জোরের সাথেই বলি, বাংলাদেশে বিনোদন জগতে প্রায় প্রতিটি হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তরিত হতে হয়? পুরুষদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক ততটা না হলেও তাঁরা চাপে থাকেন, তা বলা বাহুল্য। চঞ্চল চৌধুরী তাঁর মায়ের সাথে একটি নিষ্পাপ চমৎকার ছবি দিয়ে যতটা গালিগালাজ হজম করেছেন, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি হিন্দুকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তা হজম করতে হয়। তবে শিল্পী আসিফ আকবর লিখেছেন, ‘প্রিয় চঞ্চল চৌধুরী এবং তাঁর গর্বিত জন্মদাত্রী মার কাছে আমি একজন বাংলাদেশি মুসলমান হিসাবে লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী’।   

তসলিমা নাসরিন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি নিজেই তা টুইটারে প্রকাশ করেছেন। প্রথম আলো-র প্রকাশিত নিউজের নীচে কমেন্টে বোঝা যায় আমাদের মানসিকতা কতটা উন্নত! ভারতে করোনা’র প্রকোপ বেড়েছে বলে এদের অনেকের আনন্দের সীমা নাই? এরাই কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সদ্য নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীর বিজয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে। করোনা ও রমজান না হলে হয়তো ঢাকায় আনন্দ মিছিল হতো? ট্রাম্পের পরাজয়ে এরা খুশি হয়েছে। অন্যরা হয়েছে অন্য কারণে, আমাদের দেশের মানুষ খুশি হয়েছে ‘সাম্প্রদায়িক’ কারণে, মমতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, বাংলাদেশের মানুষ সবকিছু ‘ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ’ থেকে দেখে। আসামে বিজেপি জিতেছে, সেখানে তাঁরা ‘সংখ্যালঘু সেল’ বাতিল করেছে এবং বলেছে, ‘এঁরা ধর্ম ছাড়া আর কিছু বোঝে না’। তসলিমা’র ক্ষেত্রে নাহয় বুদ্ধিজীবীরা নামতে অনিচ্ছুক, চঞ্চল চৌধুরীর পাশে কিন্তু তাঁর সহকর্মীদের দেখা যায়নি! এটিই ২০২১-এর বাংলাদেশ, ‘সবার উপরে ধর্ম সত্য–’। 
তসলিমা নাসরিন বা চঞ্চল চৌধুরীর বিরুদ্ধে যাঁরা ‘উদ্যত খড়গ’ এই মানুষগুলোই কিন্তু রমজান মাসে আফগানিস্তানে স্কুলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৫৮জন শিক্ষার্থী ও অন্যদের হত্যার বিরুদ্ধে  টু-শব্দ করছে না। ভাস্কর্য-র বিরুদ্ধে এঁরা ঝাঁপিয়ে জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু স্কুল, হাসপাতাল বা মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মুসলমান মুসলমানকে মারছে, এতে তাঁদের সাড়াশব্দ পাওয়া ভার। চীনে মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতন হচ্ছে, কারো মুখে কোন শব্দ নেই, অথচ আমেরিকা প্রতিবাদ করছে। ইয়েমেনের ওপর সৌদি বোমা বর্ষণের বিরুদ্ধে কেউ আওয়াজ তুলছে না? চীন নাকি বাংলাদেশকে হুমকী দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অষ্ট্রেলিয়া ও জাপানকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ জোটে যোগ দিলে ফলাফল ভালো হবেনা বলে? এবার কি ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখবো? মনে হয়না, চীন ভারতের শত্রু, তাই আমাদের বন্ধু, কিসের বিক্ষোভ? চীন আমাদের স্বাধীনতার প্রচন্ড বিরোধিতা করেছিল, জানি বিজ্ঞজন বলবেন, ‘রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু-মিত্র নেই’?

Leave a Reply

Your email address will not be published.