ফি বছর জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে নোনা জলে ভাসছে সুন্দরবন। মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা বিক্ষোভের মুখে। কিন্তু নবান্ন যে দুয়ার দিয়েছে ঘরে। শোনার লোক কোথায় ?

প্রসূন আচার্য

ভরা কোটালে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া সুন্দরবনের দৃশ্যটি ছোট মোল্লাখালির। শনিবার, ১৬/০৭/২২ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নোনা জল ঢুকে পড়লো, কাটমানি খাওয়া পঞ্চায়েত কর্তাদের নির্মাণ করা পলকা মাটির বাঁধ ভেঙে। মানুষ সাগরের বিধায়ক সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজারাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। গালাগাল করেছেন তাঁকে। মন্ত্রী উত্তেজিত হয়ে বলেছেন, “মানুষের রাগ ও ক্ষোভের কারণ স্বাভাবিক ও সঙ্গত। গত বছর ইয়াস এর পরে বাঁধ সরানো হয়েছে। কিন্তু ঠিক মত যে কাজ হয়নি বোঝা যাচ্ছে। তাই এই দিন সাধারণ জলের ঝাপটায় বাঁধ ভেঙে গিয়েছে বহু জায়গায়।” অর্থাৎ সরকারি টাকা সত্যিই জলে গিয়েছে।

বঙ্কিম হাজরা জানিয়েছেন, সাগর, পাথরপ্রতিমা, গোসাবা ছাড়াও বহু ছোট বড় দ্বীপ প্লাবিত হয়েছে। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়েছে। কিন্তু জমি, পুকুর সব গিয়েছে নোনা জলের নিচে। ফলে আবার এক বছর চাষ হবে না, ধরেই নেওয়া যায়। কারণ, ক্রমাগত বৃষ্টি পড়ে জমি আর পুকুরের নুনের মাত্রা না কমলে সব্জি বা মাছ চাষ কিছু হয় না। ফলে পুরুষরা দল বেঁধে আবার বীরভূম, পুরুলিয়া বা ঝাড়খন্ডের পাথরখাদানে কাজে যাবে। পাথর ভাঙার ধুলো ফুসফুসে ঢুকে সিলিকোসিস হবে তা জেনেও যাবে। কারণ, পেট কারও কথা শোনে না। আর মহিলারা জন মজুর খাটাতে শহরে পাড়ি দেবে। কিংবা সস্তায় দেহ বেচবে এই বাংলার কোনও শহরে বা ভিন রাজ্যে। এটাই এখন ফি বছর সুন্দরবনের চিত্র।

সরকার কি স্থায়ী কিছু করতে পারে না ? পাল্টা প্রশ্ন করা যায়: এই সরকার কি সুন্দরবনের মানুষ গুলোর জন্য সত্যি কী কিছু ভাবে ? Intergovernmental Pannel on Climate Change ( IPCC) সুন্দরবনকে Red Zone হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছে, প্রতিবছর এই ভাবে জলে ঢুবে যেতে যেতে ২০৫০ সালের মধ্যে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের নিচে চলে যাবে। এই নিয়ে নবান্নে ওপরতলায় বসে থাকা সরকারের বিন্দুমাত্র কোনও চিন্তা বা প্ল্যান অফ অ্যাকশন আছে বলে কোনও সংবাদ তো আজ অব্দি দেখিনি।

শুধু মানুষ গুলি ভোট দিতে পারলেই হল! আর বিরোধী দল বিজেপি? তারা কে কবে চুপি সাড়ে তৃণমূলে যাবেন, একদিকে সেই চিন্তা, আর অন্যদিকে ধর্ম ধর্ম করে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ছড়াতেই ব্যস্ত। এই সব ভাবার সময় কোথায় তাদের? সুন্দরবন থাকলো কি মরলো, তাতে তাদের কী ?শুধু কিছু পরিবেশ কর্মী IPCC রিপোর্ট আর সাবধানবাণী নিয়ে চিৎকার করেই গেল, যেমন পথ কুকুর মাঝরাতে চোর এলে করে। কিন্তু তাতে যেমন গ্রহস্থের ঘুম ভাঙে না, তেমনি পরিবেশ কর্মীদের সতর্ক বাণীতে তৃণমূল সরকারের ঘুম ভাঙে না। ফলে এখন প্রতি বছর আমরা এই একই ছবি দেখতে পাবো।

বিকল্প ধান চাষ, কালো ধানের চাষ বা নোনা মাটিতে দেশীয় বীজের ধান চাষ করে একটি স্বচ্ছাসেবী সংস্থা সম্প্রতি খুবই সফল হয়েছে। এই কাজ চাষীদের মধ্যে জনপ্রিয় করতে তৃণমূল সরকার বা তাদের পঞ্চায়েত ও কৃষি দফতর যে কোনো ভূমিকা নেবে এমন আশা করাই বৃথা।তাই বঙ্কিম হাজরা যতই সুন্দরবনের মানুষের দাবি সমর্থন করুন না কেন, আগামী বছর এই দৃশ্য বদলাবে এমন আশা না করাই ভালো। C @ Prasun Acharya ফেসবুক থেকে সংগৃহীত  Pic courtesy: Muktiweb.org

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *