আংশিক লকডাউন ও সামাজিক পরিস্থিতি

প্রিয় সম্পাদক,
সংবাদ মতামত

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শেষের দিকে এসে আর সামগ্রিকভাবে ভ্যাকসিন এর অভাব দেখা দেওয়ার পর আমাদের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রশক্তি অনুভব করতে পেরেছে সাময়িক লকডাউন প্রয়োজন আছে এই মৃত্যু-মিছিল রোধ করতে।তাই 16/05 থেকে 30/05/21 তারিখ অব্দি লকডাউন প্রথা চালু করা হয়েছে বলে ঘোষিত হয়েছে এই পর্যায়ে। এতে ঘোষিত হয়েছে সকাল 7 টা থেকে দশটা অব্দি সাধারণভাবেই নিত্য প্রয়োজনীয় সব বাজার দোকান খোলা থাকবে । কিন্তু তারপরেই ইমার্জেন্সি সার্ভিস ছাড়া বাকি সব বন্ধ থাকবে। এই আংশিক লকডাউন এর প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষ প্রায় সবাই বুঝতে পারছিলেন খালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এতটা সময় কেন নিলেন তা আজও বোঝা যায় নি। যাইহোক সম্পূর্ণ লকডাউন আমাদের মত অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া দেশের পক্ষে চালু করা সম্ভব নয় তাই রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতির চাপো আছে  প্রাপ্ত শক্তির উপর সেটা অনস্বীকার্য। এত বড় জাতীয় সংকট এর আগে আমাদের সম্মুখীন হতে হয় নি। মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছেন বহু পরিবার অর্থের অভাবে ও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছে ইতিমধ্যে। এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ ও মানুষকে  অতি মাড়ির হাত থেকে বাঁচাতে আংশিক লকডাউন অবশ্যম্ভাবী।                     

গত বছরের শুরুতে করোনার  প্রথম অবস্থায় আমাদের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা অবাস্তব প্রত্যাশা ও অস্বাভাবিক মানসিক জোর ছিল যে নিয়ন্ত্রণে তাদের তেমন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না। বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছিল ডাক্তার নার্স বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে দেখা যায় নির্বাচন ও নির্বাচন সংক্রান্ত অবৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে প্রচার প্রক্রিয়া অবাধে চালানোর ফলে। এর সাথে একদিকে নিজামুদ্দিন সমাবেশ দিল্লিতে এবং কুম্ভমেলার এই ধর্মীয় সমাবেশ এর ফলে পরিস্থিতির অবনতি উল্লেখযোগ্য আকার ধারণ করে। করোনা প্রতিশোধক ভ্যাকসিন কো বেক্সিন ওপর শিল্পের প্রথম নিতে পারলেও দ্বিতীয় টেস্টের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন দুটির অভাব ও তা নিতে না পারা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় প্রাপ্তবয়স্ক বহু মানুষকে। এরই মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ভ্যাকসিন দুটি লেবার সময়সীমা। প্রথমে বলা হয় 6 থেকে 8  সপ্তাহের মধ্যে নিলেই হবে পরবর্তীকালে তা 8 থেকে 12 এবং তারও পরে 16  সপ্তাহের সময়সীমা ধার্য করা হয় কিন্তু তারপরও বহু মানুষ সেই  ভ্যাকসিন পাননি আজও। ভবিষ্যতে হয়ত এমন তথ্য উঠে আসতে পারে 16 সপ্তাহের পর আপনি ভ্যাকসিন না পাওয়ার পরও যদি করোনার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে থাকেন তবে বুঝতে হবে আপনার  ইমিউনিটির জোর অনেক বেশি। এমন অবৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন কথাগুলি বলার সময় রাজনৈতিক নেতারা কি একবারো ভাবেনা এর প্রভাব জনমানসে কিরকম বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় ডেকে  আনতে পারি? করোনা  মোকাবিলার ব্যর্থতা একটি জাতীয় লজ্জায় পরিণত হয়েছে ভারতের কাছে।       

এরইমধ্যে মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে ভ্যাকসিন জাল করার অভিযোগ কানে এলো। বহির্বিশ্বের দেশগুলোর  থেকে প্রাপ্ত ওষুধ এম্বুলেন্স অক্সিজেন ও আরো অনেক কিছু নিয়েই চলছে একটি নির্দেশিকা কমিটির পর্যালোচনা যার মূল বিষয় হল সাহায্যপ্রাপ্ত জরুরী জিনিস গুলোর উপর জিএসটি বসানো হবে কিনা???? ভাবতেও লজ্জা হয় এই জরুরী আপদকালীন সময়ে দেশের জনগণকে সাহায্য করা তো দূরে থাক উল্টে তাদের পকেট থেকে জিএসটি নেবার চিন্তা যারা করতে পারেন তাদেরকে আমরা এই নির্বাচনে জিতিয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে এনেছিলাম। অধঃপতন হলে এমন ভাবে ভাবা সম্ভব হয় ঠিক জানিনা!!!! এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি আর কবে সবার নেওয়া হবে সেই নিয়ে প্রশ্ন করাটা ও মনে হয় অর্বাচীনের মতোই কাজ হবে। ক্ষমতাসীন মানুষের তো ভুল হতেই পারে না ভুল আসলে জনগণের কি যারা তাদের ভুল বুঝে থাকেন সবসময়। তাই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল সেটা রাতেই হোক অথবা ক্রেন্দীয় দলই হোক উনারা দায়বদ্ধ নয় জনগণের কাছে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে। প্রাসঙ্গিকভাবেই এখানে প্রশ্ন এসে পড়ে কোন প্রধানমন্ত্রীর  করণা তহবিলে টাকা তোলা নিয়ে। তাই প্রশ্ন তোলা জনগণের অধিকার বহির্ভূত।               

সামাজিকভাবে সবাই মিলে প্রতিরোধ করতে হবে করোনা কে। এই আংশিক লকডাউন এর সময়সীমা পরবর্তীকালে বাড়ানো হয়ে থাকে তবে কেউ মনে করবেন না আপনার ব্যক্তিগত অধিকার কে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে। এই অস্বাভাবিক সময় আমাদের নিজেদের ঘরের নিভৃত কোণটা বেশি সুরক্ষিত। অনেক বেশি করে আমাদের ধৈর্য বাড়াতে হবে এবং তার জন্য যত ধরনের পজিটিভ দিকে নজর দেওয়া দরকার মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে চিকিৎসকদের সুপরামর্শ এর উপর আস্থা রাখুন আর নিজেদের সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব বিধি মেনে চলুন।

জিপসি বোস,
নিউটাউন, কলকাতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *