আমেরিকার সাথে ঝামেলার দরকার কি? 

।।শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।  

মাত্র সেদিন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, ২০০১-এ তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছিলো। কথাটা হয়তো সত্য। ১৯৯৬-২০০১ শেখ হাসিনা’র শাসনামল ছিলো চমৎকার, পুরোপুরি গণতান্ত্রিক। সংসদে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য ছিলোনা, সরকারকে ব্যালান্স করতে হয়েছে আ.স.ম. রব, এবং এমনকি জামাতের সাথে। আওয়ামী লীগ তখন অনেক-কিছু করতে পারেনি, মানুষ তা ঠিকই বুঝেছে। অর্থাৎ, পার্লামেন্টে ভারসাম্য বজায় থাকলে, সরকারের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা ইচ্ছে তাই করা যায়না। 

আমেরিকায় কংগ্রেস, সিনেট ও হোয়াইট হাউস খুব কম সময়ই একটি দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাইডেন যখন ক্ষমতায় এলেন তখন তিনটি-ই ডেমক্রেটদের হাতে ছিলো, এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস রিপাবলিকানদের হাতে চলে গেছে। সিনেট ছিলো ৫০:৫০, এখন ৫০:৪৯  ডেমোক্রেট-রিপাবলিকান, একজন নির্দল। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে জবাবদিহিতা থাকে। ইসরাইলে প্রায়শ: কোয়ালিশন সরকার থাকে, অথচ শক্তিশালী সরকার এবং মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। 

করোনা মহামারী সময়ের কথা সবার মনে আছে। বাঁচার জন্যে মানুষ যখন একটি ভ্যাকসিন-র জন্যে দিশেহারা, বিশ্ব তখন গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলো, মধ্যপ্রাচ্য বা সমাজতান্ত্রিক দেশের দিকে নয়? মানুষ বাঁচাতে আমেরিকা নেতৃত্ব দেয়, ইসরাইলের ভূমিকা অপরিসীম, ভারতকে বলা হতো, ‘বিশ্ব-ফার্মেসী’; তিনটি-ই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। করোনাকালে আমেরিকা ও ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এ-মুহূর্তে বাংলাদেশ আমেরিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার।

শুনেছি নেতারা আগ্রহভরে ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এদের ছেলেমেয়েরা আমেরিকায় পড়াশোনা করে। সুযোগ পেলে তাঁরা আমেরিকা আসেন, চিকিৎসা করান, অবসরে আমেরিকায় থাকার চিন্তা করেন। এদের কেউ কেউ এখন এমনসব কথাবার্তা বলছেন, যাতে মনে হয় এরশাদের মন্ত্রীদের কথা শুনছি? এদের মধ্যে স্বনামধন্য বিদেশমন্ত্রী আছেন, ইনি সময়ে-অসময়ে নানান কথাবার্তা বলে ইতিমধ্যে বিতর্কিত হয়েছেন।

গুজব আছে, ক্লিন্টনের বাংলাদেশ সফরকালে এক বৈঠকে গ্যাস রফতানি’ নিয়ে কিছুটা ‘অকূটনৈতিক’ ঘটনা ঘটে? ক্লিন্টন নাকি এরপর দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন যে, ‘রিম্যুভ হার’। শেখ হাসিনা’র চাইতে ভালো আর কে জানেন, কেন তাঁকে ২০০১-এ হারানো হয়েছিলো। নিউইয়র্কের আদালতে এখন প্যানএম ফ্লাইট ১০৩ ধ্বংসের কারিগর আবু এগিলা মোহাম্মদ মাসউদ বিচার হচ্ছে। একই অপরাধে গাদ্দাফি ও লিবিয়াকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তানের কথা তো সবাই জানে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র বিদেশনীতি ছিলো, ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’, আওয়ামী লীগ  কবে এ-থেকে থেকে সরে দাঁড়ালো? এটি ঠিক, ঢাকায় পশ্চিমা দূতাবাসগুলো বেশ তৎপর। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সোচ্চার। র্যাবের ক’জন কর্মকতার ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল। এসব সামলানোর দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।  এই মন্ত্রণালয়টি ঢেলে সাঁজানো দরকার। অনেকে বলছেন, আমেরিকা বংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো। কথাটি সত্য। আমাদের ফাইট ছিলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, পাকিস্তান আমাদের ভাই হয়ে গেছে। প্রায় পুরো ওআইসি পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো, তাঁরা আমাদের ঘনিষ্ট আত্মীয়। চীন সবদিক থেকে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, চীনকে নিয়ে এখন আমরা নাচছি? রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই, তখন যারা শত্রু ছিলো, অনেকেই এখন বন্ধু, ঠিক আছে। কথা হলো, বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি’র সাথে আমাদের ঝামেলার দরকার কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.