নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্ম হেলথ স্টার্টআপ কৃষিতে বাংলা তথা ভারতে এক নতুন মডেল হতে পারে

গবেষক বিজ্ঞানী বিশ্বরূপ ঘোষ পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমা থেকে আজ  আমেরিকাতে  কর্মরত।  সাধারণ চাষী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন বলেই হয়তো কৃষিকে শিল্পের রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন বায়োকেমিস্ট্রিতে I ২০০৯ সালে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটাতে উচ্চতর গবেষণার জন্য সুযোগ পান , তারপর টেম্পল ইউনিভার্সিটি, জেফারসন ইউনিভার্সিটি, এবং বর্তমানে আমেরিকার বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়াতে সিনিয়র রিসার্চ ইনভেস্টিগেটর হিসাবে কর্মরত।  

“ছোটো ছোটো প্রচেস্টার মাধ্যমে বাংলার বুকে শিল্প ও কর্মের সৃষ্টি সম্ভব” – গবেষক বিজ্ঞানী বিশ্বরূপ ঘোষ ড: ঘোষ। ড: ঘোষ  আমেরিকাতে বাড়ি, গাড়ি, ও চাকরিতে সীমাবদ্ধ না থেকে একক প্রচেষ্টায়  তৈরি করেছেন নিউক্র্যাড নামের একটি ব্র্যান্ড এবং বাংলায় গড়ে তুলেছেন দুটি স্টার্টআপ। নিউক্র্যাড হেলথ হাব ভারতব্যাপী টেলিমেডিসিন পরিষেবার সাথে গড়ে তুলেছে কালনা মহকুমায় সিমলন আটঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে এক প্যাথলজিক্যাল সার্ভিসেস যেখানে গ্রামের মানুষ বাজার মূল্য থেকে ৬০% কম মূল্যে পরিষেবা পাচ্ছেন।

অন্যদিকে নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্ম নিয়ে আসছে চাষবাসের এক নতুন মডেল ও নতুন মার্কেটপ্লেস।  কারণ অনুসন্ধানে ড: ঘোষ বলেছেন ” দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগে একদিকে যেমন জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে, অন্যদিকে মানবশরীরে দেখা দিচ্ছে বহু রোগ। অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের প্রয়োগে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মৌল ও যৌগের প্রভাবে নদীনালার জল এমনকি খাবার জলও দূষিত হচ্ছে।  দেখা দিতে পারে কিডনি, হার্ট এর সমস্য।  রক্তে হেমোগ্লোবিনের ডিসঅর্ডারও হতে পারে।  এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। “চাষীরা যদি রাসায়নিক সার কমিয়ে দেয়, ফসলের ফলন কম হবে ও চাষীদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।  তাই নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্মের  নতুন কৃষি মডেল দরকার যেখানে জমিতে  ধাপে ধাপে
মাটির বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে অথচ চাষীদের যেন অর্থনৈতিক কোনো ক্ষতি না হয়।” ড: ঘোষ বর্তমানে নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্ম পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি, বীরভূম ও সাউথ ২৪ পরগনা জেলাতে বিভিন্ন চাষীদের সাথে কাজ করছে।  ২০২১ সালে,  প্রথম পর্যায়ে আলুর জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিমান ২০ – ২৫% কমিয়ে পূর্ববর্ধমান, হুগলি, ও বাঁকুড়া জেলাতে কিছু চাষী আলুর চাষ করেছিলেন।  এর সাথে নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্মের বিজ্ঞানভিত্তিক বায়োকিট ব্যবহার করেছেন।  নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্মের বায়োকিট ফলিয়ার ও রুট এপ্লিকেশনের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির মাইক্রোবিয়াল বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলবে, অন্যদিকে গাছের ন্যাচারাল ইমিউনিটি বাড়াবে।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে চাষীরা ২০ – ২৫% রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কমিয়েও আলুর ফলন ১০০% রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে প্রাপ্ত ফলনের সমান সমান পেয়েছেন।  অর্থাৎ আলুর ফলনের কোনো তফাৎ হয়নি।   তবে আলুর রঙের উজ্জ্বলতা অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ড: ঘোষ বলেছেন, বর্তমান খাদ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগে খাদ্যগুন বহুগুন নেমে গেছে অর্থাৎ খাদ্যে মেজর ও মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস অনেক কমে গেছে।   তাই তিনি একটি বিশেষ পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। কৃষি বিজ্ঞানী ড: অনির্বান মজুমদার নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্মের আলু ও অন্য চাষীদের জমির আলুর মধ্যে মেজর ও মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস এর তুলনা করেছেন Inductively Coupled Plasma Optical Emission spectroscopy (ICP-OES) পরীক্ষার মাধ্যমে। নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্মের আলুতে মেজর মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টসএর পরিমান অনেকগুন বেড়েছে [সোডিয়াম (৪০%) পটাসিয়াম (৩০%), লৌহ (৯৫%) ইত্যাদি ] বাজারের আলুর তুলনায় । ড: ঘোষ মনে করেন আগামীদিনে সমাজে অপুষ্টি ও অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধে নিউক্র্যাড এগ্রি ফার্ম নতুন পথের সন্ধান দেবে।  আগামীদিনে অনলাইন মার্কেটপ্লেস তৈরী করে গ্রামীণ চাষীদের সরাসরি ফসলের বিক্রির ব্যাবস্থা করা হবে ।  এর ফলে চাষীরা ফসলের আরো কিছু বেশি দাম পাবে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *