আপনারা লজ্জা পাচ্ছেন না বটে, আমরা কিন্তু লজ্জিত

শিতাংশু গুহ, ২৯শে আগষ্ট ২০২১, নিউইয়র্ক।।

কলকাতা শহরের পত্তন নাকি হয়েছিল ২৪শে আগষ্ট ১৬৯০ সাল, নাম ছিলো ‘কলকাতা-দি গ্রেট সিটি অফ জয়’ বা বাংলায় ‘আনন্দনগরী’। জন্ম শব্দের পরিবর্তে ‘পত্তন’ শব্দটি ব্যবহার করলাম, কারণ ‘জন্মিলে মরিতে হইবে’, কলকাতা মরুক তা চাইনা! কলকাতা কি আসলে ‘সিটি অফ জয়’ থাকবে ? এক্ষণে কলকাতার ৩২৯তম জন্মবার্ষিকীতে কি এটিকে ‘আনন্দনগরী’ বলা যায়? রবি ঠাকুরের ভাষায় একজন বলেছেন, ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি খুজিছোঁ বাঙ্গালী হিন্দু বঙ্গে? হয়তো খুঁজে পাবে গুজরাট বা মহারাষ্ট্রে বা কোন শরণার্থী ক্যাম্পে অথবা বস্তিতে–’ ?

কলকাতার একটি দৈনিকে আমার লেখা পড়ে মাঝে মধ্যে কেউ কেউ আমায় ই-মেইল করেন । একজন বিমল চক্রবর্তী লিখেছেন, আর ভালো লাগে না, কলকাতা প্রতিদিন বাঙ্গালী হিন্দুদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, ১৯৪৬-র পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আপনার বাংলাদেশের হিন্দুদের ব্যাথায় সমব্যাথী। তাঁর দু:খের সদুত্তর আমার কাছে নেই, তবে তমালের কথাবার্তা থেকে এর কারণ কিছুটা আঁচ করা যায়? কাবুলে আটকা পরে তমাল এসওএস পাঠালেন ‘মোদীজিকে বলুন আমাদের উদ্ধার করতে’। আর ফিরে এসে বললেন, ‘তালেবানরা ভালো, ক্রিকেট খেলেছি, এবারের তালেবান ৯০’র তালেবান নয়’? তসলিমা নাসরিন টুইটে বলেছেন, ‘শরিয়া তো ৯০’র মতই আছে’!

তমালের কথায় আমার পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত বাঙ্গালী হিন্দু’র কথা মনে পড়ে, মুসলমানের মার খেয়ে জীবন-সম্পদ-ইজ্জ্বত বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে কলকাতায় এসে ভুলে যায় কেন তাঁরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন ? পৃথিবীতে তিনটি কাজ নাকি একেবারেই অসম্ভব:, তা হচ্ছে, হাতিকে কোলে বসানো, পিঁপড়ার ঠোঁটে লিপষ্টিক লাগানো এবং পশ্চিমবঙ্গের ঘুমন্ত মানুষকে জাগানো। সদ্য ‘লক্ষীর ভান্ডার’ নিয়ে কারা যেন বললেন, ওটা হিন্দু দেবীর নাম, চলবে না? অবশ্য বেশি এগোয়নি, কারণ দিদি’র প্রজেক্ট! রাজ্যে কল-কারখানা বন্ধ রেখে পুরুষদের অন্য রাজ্যে চাকুরী করতে বাধ্য করে মহিলাদের হাতে ৫শ’ রুপি ধরিয়ে দেয়াকে লক্ষীর ভান্ডার বলে।

আফগানিস্তান এখন বিশ্বব্যাপী হট নিউজ। শুক্রবার ২৭শে আগষ্ট ডাক্তারের অফিসে যাই। অপেক্ষা কক্ষে এক কৃষ্ণাঙ্গ হেসে আমায় প্রশ্ন করেন, ‘তালেবান’? টিভিতে তখন আফগান পরিস্থিতির দেখাচ্ছিলো, কৃষ্ণাঙ্গের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের প্রত্যুত্তরে আমি শুধু মুচকি হাসলাম। আমার মনে পড়ে ২০০৩-এ আমি ফ্রান্সে গেলে, ফেরার পথে সকল চেকিং পার হয়ে বিমানে ওঠার ঠিক আগক্ষণে আমায় একরকম উলঙ্গ করে তল্লাশি চালায়, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বলি, ‘আমি মুসলমান নই-’, কোন উত্তর নেই, তবে যেতে গ্রীন সিগন্যাল দেয়, আমি প্লেনে ঢুকি। প্রশ্ন হচ্ছে, আপনাদের কারণে আমরা আর কত ভুগবো? আপনারা এতো হত্যাযজ্ঞের পরও লজ্জা পাচ্ছেন না বটে, আমরা কিন্তু লজ্জিত !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *